চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৬ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্নীতির মহাগুরু মথুরা খামারের উপ-সহকারী পরিচালক রেজাউল ইসলাম

নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ!
সমীকরণ প্রতিবেদক:
নভেম্বর ১৬, ২০২১ ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) মথুরা খামারের উপ-সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে খামারের ধান বীজ, সার চুরি, শ্রমিকদের হাজিরার টাকা আত্মসাৎ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন তিনি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, মো. রেজাউল ইসলাম মথুরা খামারে থাকা অবস্থায় তাঁকে গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন স্মারক নম্বরে ১২-০৯-০০০০,২০৩,১৯,৪২২,২০১৭,৫০৫১ মেহেরপুর বীজ উৎপাদন খামারে বদলি করা হয়। মেহেরপুরে যোগদান না করেই তিনি উপর মহলকে ম্যানেজ করে মথুরা খামারে কর্মরত থেকেই গত ৭ নভেম্বর কুশাডাঙ্গা খামারে যোগদানের আদেশ পান। অবশেষে কয়েক দিন আগে তিনি কুশাডাঙ্গা খামারে যোগদান করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, রেজাউল ইসলাম খামারের শ্রমিকদের নামের তালিকায় অনেক অনিয়ম করেন। একজন কাজ করলে মাস্টার রুলে পাঁচজনের নাম তুলে ওই টাকা নিজের পকেটে রাখেন। কোনো শ্রমিক যদি রেজাউলের এই অনিয়মের প্রতিবাদ করেন, তাহলে সেই শ্রমিকের কাজ দেওয়া বন্ধ করে দেন। এই জন্য কোনো শ্রমিক তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না। তাছাড়া জমিতে যে জিপসাম দিয়ে থাকেন, তা একেবারে নিম্নমানের, যার বাজার মূল্যে ৫ টাকা কেজি, অথচ তিনি ৩৫ টাকা কেজি হিসেবে সার ক্রয় দেখান এবং জিং প্রতি কেজি দেখান ১৯৫ টাকা। সেই জিং বাজার মূল্যে ৫৫ টাকা, এ জন্য হরিলুটের কারখানা। নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন।

শুধু রেজাউল নয়, জানা গেছে, সম্প্রতি বেশ কিছু দিন আগে যশোর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক মো. আমিন উল্লার সহযোগিতায় দত্তনগর কৃষি খামারের উপ-পরিচালক তপন, ইন্দ্রজিৎ ও আক্তারুজ্জামান কর্মসূচিবহির্ভূত ১২৯ মেট্টিক টন এসএল-৮ এইচ হাইব্রিড ধানের বীজ মজুদ করেন। এর মধ্যে গোকুলনগর খামার থেকে তপন সাহা ৭৫ মেট্টিক টন, করিঞ্চা খামারের উপ-পরিচালক ইন্দ্রজিৎ চন্দ্র শীল ২২ মেট্রিক টন ও পাথিলা খামারের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান ৩২ মেট্রিক টন ধান বীজ যশোর বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে অবৈধভাবে মজুদ করেন। এ বিপুল পরিমাণ বীজ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করতেই তারা কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সেখানে মজুদ করেন। বিএডিসির সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের তদন্তের পর ৯ সেপ্টেম্বর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। এত কিছু হওয়ার পর ও আবারও নতুন করে অনিয়ম ও দুর্নীতি শুরু করেছেন মথুরা খামারের উপ-সহকারী পরিচালক রেজাউল ইসলাম।

মথুরা খামারের উপ-সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ১ নভেম্বর মেহেরপুরে যোগদানের কথা ছিল, সেখান থেকে পরিবর্তন করে পরবর্তীতে আবার আমাকে ৭ তারিখে কুশাডাঙ্গা খামারে যোগদানের জন্য অর্ডার করেছে। আমি কুশাডাঙ্গা খামারে যোগদান করেছি। তা ছাড়া আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সব মিথ্যা।’

মথুরা খামারের ডিডি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, রেজাউল ইসলামকে মেহেরপুর বদলি হয়েছে কি না, এমন তথ্য আমার জানা নেই। তবে রেজাউল ইসলামের কুশাডাঙ্গা খামারে যোগদানের জন্য অর্ডার এসেছে, এটা আমি জানি ইতঃমধ্যেই তিনি যোগদান করেছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।