চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপন করাতে প্রস্তুত পুলিশ

এখনো চলছে কর্মযজ্ঞ : চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর ও ঝিনাইদহের মন্দিরগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায়
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২ ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

এ তিন জেলার পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে

সমীকরণ ডেস্ক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদোৎসব দরজায় কড়া নাড়ছে। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এরইমধ্যে প্রতিমালয়ে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপুজার প্রস্তুতি এখন শেষের দিকে। দক্ষ প্রতিমা কারিগররা দিনরাত মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার কারিগররা পূজা মন্ডপে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তাইতো প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার কারিগররা।

চুয়াডাঙ্গা:
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপুজার প্রস্তুতি এখন শেষের দিকে। তুলির আঁচড়ে প্রস্তত হচ্ছে প্রতিমা। মন্দিরে মন্দিরে চলছে উৎসবের আমেজ। চুয়াডাঙ্গা জেলায় এ বছর ১২৩টি মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তাই তো মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও শিল্পীরা। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫দিনব্যাপী শুরু হবে এই দুর্গোৎসব। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৩টি মন্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৩টি, আলমডাঙ্গায় ৪২টি, দামুড়হুদায় ১৪টি, দর্শনায় ১৮টি ও জীবননগরে ২৬টি। এই ১২৩টি মণ্ডপে প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষের দিকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গার বড় বাজার সর্Ÿজনীন দূর্গা মন্দির, দৌলাৎদিয়াড় বারোয়ারী দূর্গা মন্দির, দাসপাড়া দূর্গা মন্দির, মালোপাড়া দূর্গা মন্দির, বেলগাছী দূর্গা মন্দির ও আলুকদিয়া দূর্গা মন্দিরসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দিরেই এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রঙ তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমার আকর্ষণ বাড়ানোর পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন মন্ডপ তৈরিতে অঘোষিত প্রতিযোগিতায় নেমেছে অনেকে। এছাড়াও প্রতিবারের মতো এ বছর বিশেষ আর্কষণ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দাসপাড়া মহিলা সংঘের দুর্গোৎসব।
প্রতিমা শিল্পী রতন কুমার জানান, প্রতিমা তৈরি করা অনেক কষ্টের। আগের মত লাভ হয় না। তারপরও করতে হয়। দুই-একদিনের মধ্যেই দূর্গা প্রতিমাগুলোর রং ও সাজ-সজ্জার কাজ শেষ হবে। প্রতিমা তৈরির মজুরি সাইজ ও ধরণ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়।

চুয়াডাঙ্গার বড় বাজার সর্বজনীন দূর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর কুমার দে জানান, হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবকে শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে প্রশাসনের পাশাপাশি মন্ডপের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে দায়িত্ব পালন করানো হবে।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, ইতোমধ্যেই পূজা উদযাপন কমিটির সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে। প্রতিটি পূজা মন্ডপে নিজস্ব সেচ্ছাসেবক ছাড়াও পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। তাছাড়াও সাদা পোশাকে ডিবি, ডিএসবি মাঠে কাজ করবে। প্রতিটি পূজা মন্ডপ নিজস্ব সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট পূজা উদযাপন কমিটিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আগামী ১ অক্টোবর শনিবার ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও মহাষষ্ঠী বিহিত পূজো ও সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস, ২ অক্টোবর রবিবার মহাসপ্তমী বিহিত পূজো, দেবীর নব পত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তমাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজো। ৩ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী, কুমারী ও সন্ধিপূজো, ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী ও ৫ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী বিহিত পূজোর মধ্যে দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে।

মেহেরপুর:
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদোৎসব কড়া নাড়ছে বাঙালিদের দরজায়। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এরই মধ্যে প্রতিমালয়ে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। শিল্পীদের তুলির ছোঁয়ায় পূর্ণরূপ পাচ্ছেন দৃষ্টিনন্দন সব প্রতিমা। উৎসবের পূর্ণতা পায় যাদের হাতে, সেই প্রতিমাশিল্পীরদের এখন সময় কাটছে ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। দক্ষ প্রতিমা কারিগররা দিন-রাত পুজা মন্ডপে নিরলসভাবে কাজ করেই চলেছেন। এসব শিল্পীদের হাতের শৈল্পিক ছোঁয়ায় জীবন্ত হয়ে উঠছেন প্রতিমা। মায়ের প্রতিমা গড়তে গিয়ে দম ফেলার ফুরসত নেই এসব কারিগরদের। দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ আর মহিষাসুর সঙ্গে দেবীর বাহন সিংহ এখন হয়ে উঠেছেন জীবন্ত।

মেহেরপুর জেলায় এবছর ৩৮টি পুজা মন্ডপ তৈরী হয়েছে। আগামি ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠ শোনার অপেক্ষায় হিন্দু ধর্মালম্বী ভক্তকূল। শিশির ভেজা দুর্বা ঘাসের ওপর ঝরে পড়া শিউলি কুড়ানোর সময়টায় মাতৃবন্দনায় মিলিত হবেন হিন্দু ধর্মালম্বী ভক্তকুল। তাই উৎসবের পূর্ণতা পায় যাদের হাতে, সেইসব প্রতিমাশিল্পীর এখন কাটছে ব্যস্ত সময়। প্রতিমাশিল্পীদের ব্যস্ততা টের পাওয়া যায় মেহেরপুর শহরের কালীমন্দির, গাংনী শহরের কালীমন্দিরসহ জেলার বিভিন্ন পুজা মন্ডপে গিয়ে। প্রতিমাশিল্পী তৈরি করা হয়েছে দুর্গার কাঠামো। সহযোগীরা ব্যস্ত লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ প্রতিমা গড়তে। ব্যস্ততার এ চিত্র চোখে পড়ে নগরের সব প্রতিমালয়ে।

মেহেরপুর বিভিন্ন এলাকায় ৩৮টি প্রতিমালয় রয়েছে। এর মধ্যে মেহেরপুর শহরের কালী মন্দির, হরিসভা, হালদারপাড়া সার্বজনীন পুজা মন্ডপ, বামনপাড়া পুজা মন্ডপ, গাংনী উপজেলা শহরের কেন্দ্রীয় পুজা মন্ডপ, চৌগাছা দাসপাড়া পুজা মন্ডপ, গাংনী দাসপাড়া পুজা মন্ডপ, আমতৈল পুজামন্ডপ, মানিকদিয়া পুজা মন্ডপ, সিমুলতলা পুজা মন্ডপ, বেতবাড়িয়া, বাওট, বামন্দী ষোলটাকা, চেংগাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একটি করে প্রতিমালয় আছে।

পঞ্জিকা অনুসারে, ১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২ অক্টোবর সপ্তমী, ৩ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ৪ অক্টোবর মহানবমী ও ৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী।

ঝিনাইদহ:
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গাপুজার প্রস্তুতি এখন শেষের দিকে। তুলির আঁচড়ে প্রস্তত হচ্ছে প্রতিমা। মন্দিরে মন্দিরে চলছে উৎসবের আমেজ। ঝিনাইদহ জেলায় এবছর ৪৪৫টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মন্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ততা কমিয়ে এনেছেন কারিগররা ও শিল্পীরা। আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৫দিনব্যাপী শুরু হবে দুর্গাৎসব। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, দূর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এবছর ঝিনাইদহ পৌরসভা এলাকায় ২০টি মন্ডপসহ সদর উপজেলায় মোট ১০৫টি, শৈলকুপায় ১২৭টি, কালীগঞ্জ ৮৭টি, কোটচাঁদপুরে ৪৬টি, মহেশপুরে ৪৭টি মন্ডপে ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৩৩টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম বলেন, উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজনের লক্ষ্যে সবধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্বপালন করবে। ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশিকুর রহমান (বিপিএম, পিপিএম বার) জানান, পূজামন্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অন্যান্য বছরের মত পূজামন্ডপগুলোতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া ছাড়াও রয়েছে পুলিশের নিয়মিত টহল। জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উত্তম গাঙ্গুলি বলেন, আসন্ন দূর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি পুজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকেও প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।