চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১৪ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুবাই কনসুলেট অফিসের কার্যক্রমে প্রবাসীরা ক্ষুব্ধ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ১৪, ২০২২ ২:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন: স্বপ্নের দেশ দুবাইয়ের বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটিতে থাকা লাখো বাংলাদেশী। সম্প্রতি প্রবাসীদের দুর্ভোগ কমাতে আমিরাতে ‘দুয়ারে কনসুলেট’ সেবার কার্যক্রম নিয়ে কোনো কোনো প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ‘সব ভণ্ড ও চাটার দল’। এ দিকে বৈধপথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার কমতে থাকায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন দেশটির দুবাই কনসাল জেনারেল অফিস। তারা রেমিট্যান্স বাড়াতে নিচ্ছেন বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম।

কনসুলেট অফিসের সেবার কার্যক্রম নিয়ে মোহাম্মদ জাকির হোসেন নামের একজন প্রবাসী বলেন, প্রবাসীরা হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠান, অথচ এই কাটফাটা রোদের মধ্যে পাসপোর্ট করতে গিয়ে দেখি দুবাই কনসুলেটে প্রবাসীদের পানি খাওয়ার জন্য ওয়ান টাইম গ্লাস পর্যন্ত নেই। সেখানে কোনো রকমে হাতের তালুতে করে পানি খেতে হয়। বড় বড় টাই স্যুট পরা লোকদের কি এতটুকু লজ্জা হয় না। শাহ মো: সাইফুল ইসলাম নামের আরেক প্রবাসী বলেন, পাসপোর্ট রিনিউ করতে যেতে এক দিন, নিয়ে আসতে আবার এক দিন লাগে। ডিএইচএল এ দিলে কি কষ্ট লাগে। আবার আমাদের থেকে বেশি রেমিট্যান্স আশা করেন। আগে আমাদের শান্তি দিন; তার পর রেমিট্যান্স বাড়ানোর চিন্তা করেন। তবে অপর একজন প্রবাসী পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রণোদনা ৫ শতাংশ দেন এবং টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ ফ্রি হলেই অটোমেটিক রেমিট্যান্স বেড়ে যাবে। ‘গুনাহগার বান্দা’ নামে আইডি থেকে একজন প্রবাসী মন্তব্য করেন, দিন শেষে যে লাউ সেই কদুই হবে বলে মনে হচ্ছে। মিজানুর রহমান নামের একজন প্রবাসী প্রশ্ন রেখে জানতে চান, গত সপ্তাহে দুবাই কনসুলেটের বাইরে ৪৫ ডিগ্রি গরমে মানুষ লাইন ধরে আছে। কিন্তু কেন? আবু হানিফ মোহাম্মদ নোমান নামের একজন প্রবাসী আক্ষেপ করে বলেন, কনসুলেট অফিসে শত শত বার কল দেয়ার পরও কেউ রিসিভ করে না, হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে রিপ্লে দেয় না। আবার তারা দুয়ারে সেবা দেবে। সব ভণ্ডামি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কষ্টের টাকার উপার্জন দিয়ে কিন্তু সরকার আপনাদের মোটা অঙ্কের বেতন দেয়। সরকারি চাকরি আপনাদের বাপ-দাদার সম্পত্তি না ! তবে মো: টেপো নামের একজন প্রবাসী সার্ভিস চার্জ ১৫ দিরহাম তুলে নেয়া যায় কি না সেটি চিন্তা করার অনুরোধ জানান। মো: আইয়ুব আলী নামের একজন প্রবাসী বলেন, এম্বাসি থেকে যদি সাধারণ প্রবাসীরা সহযোগিতা না পায় তা হলে এই এম্বাসি দিয়ে কী আমরা করব? কেন তা হলে আপনারা ওয়েবসাইটে নম্বর দিয়ে রাখছেন? এর আগে গত মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার কমে যাওয়ায় দুবাই কনসুলেট জেনারেল অফিস থেকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে সেবা ক্যাম্পিং কার্যক্রম আজমানে সম্পন্ন হয়। শারজাহর পর আজমানে মোটিভেশনাল এই ক্যাম্পিংয়ের আয়োজন করে দুবাই কনসুলেট বাংলাদেশ অফিস। সেখানে দুবাই কনসাল জেনারেল বি এম জামাল হোসেন ঘোষণা দেন, ২৫ জুন থেকে প্রবাসীদের কাছে পাসপোর্ট পৌঁছে দেয়া হবে। জামাল হোসেন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে বলেন, বৈধপথে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্বুদ্ধ করাই। এ কর্মসূচির লক্ষ্য আমরা এ কর্মসূচির আওতায় মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছি।

Girl in a jacket

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কাউন্সিল আজমানের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, এটি দিয়ে আমি প্রতিটি বিজনেসম্যানের দুয়ারে যেতে চাচ্ছি। বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল দুবাইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আইয়ুব আলী বাবুল বলেন, যেকোনো উপায়ে বাংলাদেশীরা যখন রেমিট্যান্স করতে যাবে, তাদের কাছ থেকে কোনো অবস্থায় এক পয়সাও কমিশন নেয়া যাবে না। অনুষ্ঠানে অবৈধ পথে কারা দেশে টাকা পাঠায় সেসব হুন্ডি চক্রের সদস্যের তালিকা করে অচিরেই ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। প্রবাসীরা যেসব অবৈধ অ্যাপস ব্যবহার করে দেশে টাকা পাঠান, সেগুলোকে বৈধতা দিয়ে ব্যাংকিং চ্যানেলের আওতায় আনলে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়বে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা পরামর্শ দেন। এ ছাড়া ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকে কোনো ট্যাক্স ধার্য না করার আহ্বান জানান প্রবাসী ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, দুবাইয়ের সহসভাপতি মোহাম্মদ রাজা মল্লিক বলেন, আমাদের দেশে রেমিট্যান্স পাঠানোর যে স্রোত কমে গেছে যেকোনো অবস্থায় আমরা সেটি পাঠাতে চেষ্টা করব। একজন ব্যবসায়ী তার অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, এখন থেকে আমি নিজেও ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাবো এবং আমার কোম্পানির কর্মচারীদেরও বলব বৈধপথে দেশে টাকা পাঠাতে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহৎ শ্রমবাজারটি সংযুক্ত আরব আমিরাত। দুই বছর ধরে দেশটিতে ভিজিট ভিসায় পাড়ি দিচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পাশাপাশি বিমানবন্দর কন্ট্রাক্ট করে দেশটিতে গিয়ে বহু শ্রমিক এখন পথে পথে ঘুরছেন। গাছ তলায় ঘুমাচ্ছেন। ভিসা না থাকায় চাকরি নেই। লাখ লাখ টাকা খরচ করে স্বপ্নের দুবাই শহরে গিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই এখন রাস্তায় বসে পানবিড়ির দোকান খুলে বসেছেন টিকে থাকার জন্য। অনেকে আবার প্রতারিত হয়েছেন। ইনকামই (আয়) যদি না থাকে তা হলে তারা টাকা পাঠাবেন কিভাবে? এসব কর্মী সমস্যায় পড়ার দায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টরা কোনোভাবে এড়াতে পারে না বলে অভিবাসন বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ভিজিট ভিসার নামে এভাবে যাতে আর কোনো লোক যেতে না পারেন, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন তারা। বিএমইটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশটিতে শ্রমিক গেছে ৬৫ হাজার ৩৫১ জন। এর মধ্যে জুন মাসে গেছে সাত হাজার ৩৬৩ জন। অভিযোগ রয়েছে দুবাইগামী শ্রমিকদের বহির্গমন কিয়ারেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই দুর্নীতি হচ্ছে। এ বিষয়টি মনিটরিং না করায় অনেকে দুবাই গিয়ে বিপদে পড়ছেন। আর এসব অনিয়মের সাথে যে ১২ সদস্যর সিন্ডিকেট দীর্ঘ দিন ধরে তৎপর, তারা দিব্যি আকাম-কুকাম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে বিএমইটির ডিজিকে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হলেও তিনি নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এ প্রসঙ্গে বিএমইটির মহাপরিচালক মো: শহিদুল আলমের বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি টেলিফোন ধরেননি।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।