চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১৫ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুদিনের বৃষ্টিতে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি!

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ১৫, ২০২১ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জীবননগর অফিস:
টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে মাঠের পাকা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। ধানগুলো মাটিতে শুয়ে পড়ায় কৃষকের কোমর ভেঙে গেছে। ধানকাটার মৌসুম শুরু হলেও এখনও অধিকাংশ কৃষক খেতের ধান ঘরে তুলতে পারেননি। আর ২-১ সপ্তাহের মধ্যে মাঠের পাকা ধানগুলো কেটে ঘরে তুলে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু কার্তিকের শেষে অসময়ের বর্ষণে পাকা ধানগুলো মাঠে শুয়ে যায় এবং ভারি বর্ষণে ধান ও সবজি খেতে পানি জমে যায়। এতে কৃষকের ধান ও সবজি নষ্ট হয়। পুরোপুরি খেতের ফসল ঘরে না তুলতে পারার আশঙ্কায় কৃষক চিন্তিত হয়ে পড়েছে।
জীবননগর উপজেলার গঙ্গাদাশপুর গ্রামের কৃষক জিয়ারুল ইসলাম জানান, দুই বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছিলাম। মাঠের ধান পেকে গেছে, আর এক সপ্তাহের মধ্যে কেটে ঘরে তোলা যেত। কিন্তু অসময়ে উপর্যুপুরি বৃষ্টির কারণে ধানগুলো মাঠে শুয়ে পড়েছে এ যেন প্রকৃতি মই দিয়েছে। বৃষ্টিতে কৃষকদের দফা-রফা করে দিয়েছে।
এদিকে, ২৪ ঘণ্টায় জীবননগর উপজেলায় টানা ভারি ও মাঝারি বর্ষায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। খেতে রোপণ করা গাছের গোড়ায় পানি জমে গাছ মরে যাচ্ছে। বিশেষ করে সবজি চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। জীবননগর উপজেলায় এ মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। ভালো ফলনের আশায় ছিল কৃষকরা। তাদের সে আশা গুড়ে বালিতে পরিণত হয়েছে। অসময়ে বৃষ্টিপাতে ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি খেত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
অপর দিকে, হাসাদাহ ইউনিয়নের তালসার গ্রামের আবু সুলতান বলেন, ‘আছি বড় বিপদে। ধান কেটে রাস্তায় পালা দিয়ে রেখেছি। খড়কুটো দিয়ে ঢেকে রেখেছি। তারপরও শঙ্কায় রয়েছি যদি বৃষ্টির পানিতে ভিজে যায়, তাইলে ধানে গজ (অঙ্কুর) হয়ে যাবে।’ সবজির খেত নিয়েও এরা চরম বিপদের শঙ্কায় রয়েছেন। বহু খেতে গত শনিবার থেকে রাতভর বৃষ্টির পানি জমে গেছে। গতকাল রোববার দুপুর থেকে ফের বৃষ্টি হয়। এখন ক্ষতির শঙ্কায় এদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৬ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে এ বছর আমন ধান চাষ হয়েছে। তবে এর মধ্যে অনেকটাই কৃষকরা গুছিয়ে নিয়েছে। তবে যদি একটু রোদ হয়, তাহলে কোনো ধানে সমস্যা হবে না।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।