চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৯ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুই বছরে বিদেশী ঋণের টার্গেট ২,৩৮,২১০ কোটি টাকা

পরিশোধে ব্যয় হবে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ১৯, ২০২২ ৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার ক্রমেই বিদেশী ঋণের দিকে ঝুঁকছে। এ লক্ষ্যে আগামী দুই অর্থবছরে বিদেশ থেকে নিট ঋণ সহায়তা নেয়ার টার্গেট নেয়া হয়েছে দুই লাখ ৩৮ হাজার ২১০ কোটি টাকা। এ হিসাবে বাজেটে নেয়া মোট ঋণের ৪৫ শতাংশ ঋণই নেয়া হবে বিদেশী উৎস থেকে। তবে টার্গেট অনুযায়ী এ ঋণপ্রাপ্তি কতখানি ঘটবে তা নিয়ে রয়েছে একধরনের অনিশ্চয়তা। তবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই আগামী দুই অর্থবছরে খরচ করতে হবে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ডলারের অঙ্কে প্রতি বছর বিদেশী ঋণ পরিশোধের ব্যয় হবে দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি।

অর্থ বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশী ঋণ নেয়ার টার্গেট নেয়া হয়েছে এক লাখ ১২ হাজার ৭০ কোটি টাকা। এর পরের অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ নেয়া হবে এক লাখ ২৬ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঋণ নেয়ার টার্গেট রয়েছে ৯৮ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,‘বাজেটে মোট অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস হতে গৃহীত ঋণের অংশ মধ্যমেয়াদে ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে এবং বৈদেশিক অর্থায়নের হার বাড়বে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন মোট অর্থায়নের ৪৫ শতাংশে পৌঁছুবে। আগামী তিন বছরে বৈদেশিক উৎস থেকে অনুদানের পরিমাণ সামান্য প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে যাবে। অপর দিকে, একই সময়ে বাৎসরিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ক্রমেই বাড়তে থাকবে।’ এদিকে, চলতি অর্থবছরে ঋণ পরিশোধে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যা হবে যথাক্রমে ২০ হাজার ৪৬ কোটি টাকা এবং ২২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। তবে বাজেটে বিদেশী ঋণের প্রক্ষেপণ যাই করা না হোক, সেই হারে কিন্তু কখনো ঋণ পাওয়া সম্ভব হয়নি। যেমন, সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২২ অর্থবছরে বিদেশী নীট ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে তা সংশোধন করে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয় ৭৭ হাজার ২০ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, বিদেশী ঋণের জন্য আমরা এখন বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। এই দুই সংস্থা থেকে উল্লেখযোগ্য ঋণ পাব বলে আমরা আশা করছি। যেমন আইএমএফের কাছ থেকে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট স্থিতিশীল রাখতে আগামী তিন অর্থবছরে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চেয়েছি। বিশ্বব্যাংকের কাছেও বাজেটে সহায়তায় আমরা ঋণ চেয়েছি। অনেকটা স্বল্প সুদে এ ঋণ পেলে ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের সুবিধা হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিরাপদ জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে এ ঋণ কতখানি পাওয়া যাবে তা এখনো বলা সম্ভব নয়।

এদিকে, এখন স্বল্পসুদে ঋণ পাবার ক্ষেত্রে এখন এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগ বলছে, বাংলাদেশ বহু বছর ধরে স্বল্পসুদে নমনীয় শর্তে (কনসেশনাল) বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার সুবিধা ভোগ করে আসছিল। তবে ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশ এখন ব্লেন্ডেড শর্তে বেশির ভাগ ঋণ গ্রহণ করছে, যার সুদের হার ও অন্যান্য শর্ত নমনীয় ঋণের চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও আন্তর্জাতিক ঋণ বাজারের সুদের হারের চেয়ে কম। এতে বৈদেশিক ঋণের ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণের গড় অন্তর্নিহিত সুদ হার যেখানে ছিল শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ সেটি ২০২৪-২৫ অর্থবছর নাগাদ ১ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত হবে বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।