দুই পক্ষের সংঘর্ষ : একজন আহত, দুজন আটক

37

বেগমপুরের আকন্দবাড়িয়া আবাসনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে
দর্শনা অফিস:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দর্শনা থানাধীন বেগমপুর ইউনিয়ের আকন্দবাড়িয়া আবাসনে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বাটামের আঘাতে জালাল হোসেন (৩৫) নামের এক ভ্যানচালক রক্তাক্ত জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহত জালাল উদ্দিন আকন্দবাড়িয়া পারিজা আবাসনের ১২/৮ নম্বর ঘরের আইজুল হকের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বুধবার মাগরিবের নামাজ চলাকালীন সময়ে আকন্দবাড়িয়া আবাসনের মসজিদের সামনে আবাসনের বাসিন্দা জসিম (৩২) নামের এক ব্যক্তি মাদক সেবন করে তাঁর স্ত্রী জোসনা খাতুনের সাথে পারিবারিক বিষয় নিয়ে উচ্চস্বরে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিলেন। এসময় আবাসনের আরেক বাসিন্দা জালাল হোসেনের পিতা আইজুল হক (৬৫) মসজিদ থেকে নামাজ আদায় করে বেরিয়ে এসে তাদেরকে মসজিদের সামনে ঝগড়া করতে নিষেধ করলে জসিম ও তাঁর স্ত্রী জোসনা খাতুন তাঁকে ধাক্কা দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এ ঘটনা জানতে পেরে আইজুল হকের ছেলে জালাল তাঁর ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর পিতাকে ধাক্কা মারা ও গালাগালি করার কারণ জানতে চাইলে জসিমের নেতৃত্ব তাঁর মাদকসেবী সঙ্গীদের নিয়ে আধিপত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য হামলা চালান জালালের বাড়িতে। এসময় মাদকাসক্ত অবস্থায় গাংধরপাড়ার সুভার ছেলে রতন (২৭), একই পাড়ার মণ্টুর ছেলে নবাব (২৬) ও আব্দুল জলিলের ছেলে রাজা মিয়া(২৪) বাটাম ও লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন জালাল হোসেনকে। এসময় রতন কৌশলে পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা মাদকাসক্ত অবস্থায় নবাব ও রাজা মিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। একদিকে আবাসনের এক নারী হত্যা ঘটনা অন্য দিকে তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নিয়ে আবসনজুড়ে যেন আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। পরে দর্শনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত অবস্থায় জালাল হোসেনকে চিকিৎসার জন্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
দর্শনা থানার এসআই মাজাহারুল ইসলাম ও এসআই সুমন হোসেন জানান, এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে জালালের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।