দুই দিনে ৯৫ জনের সিনোফার্মের ভ্যাকসিন গ্রহণ

35

চুয়াডাঙ্গায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর চালু হয়েছে টিকা দান কার্যক্রম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গায় প্রায় দুই মাস পরে আবার চালু হয়েছে করোনা টিকাদান কার্যক্রম। গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত করোনা টিকাদান কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত মাসের ২০ মে করোনা টিকার মজুত শেষ হওয়ায় জেলায় টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পূর্বে গত ২৫ এপ্রিল বন্ধ করে দেওয়া হয় করোনা টিকার প্রথম ডোজ প্রদান কার্যক্রম। আর অনলাইনে করোনা টিকার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করা হয়েছে এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ফাইজারের টিকা নিতে মোট নিবন্ধন করেছেন ৬৬ জাহার ৫৭৬ জন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি জেলার চার উপজেলায় বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে একযোগে করোনার টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় করোনা টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৭ হাজার ৮৭১ জন। ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হয় জেলায় করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান কার্যক্রম। ৮ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত জেলায় করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন ৩১ হাজার ১০৪ জন। টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে অপেক্ষায় আছে ২৬ হাজার ৭৬৭ জন। তবে এবার জেলা সিভিল সার্জন অফিসে ৪ হাজার ৮০০ ডোজ সিনোফার্মের (চীনের) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আসায় প্রথম ডোজের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেও টিকা না পাওয়া ৮ হাজার ৪০৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ৪০০ জন এই টিকা পাবে। এই ২ হাজার ৪০০ জনের জন্য দ্বিতীয় ডোজের টিকাও নিশ্চিত মজুদ রাখবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রথম ডোজ প্রহণের ৪ সপ্তাহ পরে পর্যায়ক্রমে তাঁদেরকে একই টিকা কেন্দ্র থেকে সিনোফার্মের টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রদান করা হবে।
এদেকে গত দুই দিনে সদর হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্র থেকে ৯৫ জন সিনোফার্মের (চীনের) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে। গত শনিবার সিনোফার্মের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেন ১৭ জন ও গতকাল প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছে ৭৮ জন। শুক্রবার ব্যতিত সপ্তাহে ৬দিন সকাল ৯ টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সদর হাসপাতালের করোনা টিকাদান কেন্দ্রে এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
চুয়াডাঙ্গা করোনা টিকাদান কর্মসূচির আহ্বায়ক ও সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, ‘এবার সিভিল সার্জন অফিসে ৪ হাজার ৮০০ ডোজ সিনোফার্মের (চীনের) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন এসেছে। গত শনিবার থেকে সদর হাসপাতালের একটি মাত্র টিকা কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এখনও করোনা টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশনের ওয়েবসাইটটি বন্ধ রয়েছে। তাই পূর্বে যারা প্রথম ডোজের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেও টিকা পাইন এই ৪ হাজার ৮০০ ডোজ থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁদের মধ্যে ২ হাজার ৪০০ জনকে প্রথম ডোজ দেওয়া হবে। প্রথম ডোজ গ্রহণের চার সপ্তাহ পরে প্রথম ডোজ গ্রহণকারীদের দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে বাকী ২ হাজার ৪০০ জোড প্রদান করা হবে। যারা ফাইজারের টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেও দ্বিতীয় ডোজ পাইনি তাঁদেরকে ফাইজারের টিকা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফাইজারের টিকা যারা নিয়েছেন তাঁদের শরীরে সিনোফার্মের (চীনের) কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। আশা করছি খুব দ্রুত ফাইজারের টিকার ডোজ এসে যাবে। যারা ফাইজারের প্রথম ডোজ টিকা পেয়েছেন তাঁদের দ্বিতীয় ডোজ কার্যক্রম আবার শুরু করা হবে।’