চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৩ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুই দলেই অভিযোগের পাহাড়

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৩, ২০২১ ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

আওয়ামী লীগে সত্যতা মিললে মনোনয়ন বাতিল
সমীকরণ প্রতিবেদন:
দ্বিতীয় ধাপে আট বিভাগের ৮৪৮টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের টানা ছয় দিনের সভায় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের আবেদনপত্র, জীবনবৃত্তান্ত এবং পূর্বের মাঠ জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চেয়ারম্যান পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ করে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হলেও বেশ কিছু ইউনিয়নে বিএনপি-জামায়াত নেতা, রাজাকার সন্তান, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ মামলার আসামিসহ বিতর্কিত ব্যক্তি দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এ বিষয়ে তৃণমূল থেকে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ‘অভিযুক্তর’ কাছ থেকে নৌকা ফিরিয়ে নেওয়া হবে। দলের মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্য বাংলাদেশ প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তৃণমূলের অনেক নেতার অভিযোগ, কোথাও কোথাও স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের সন্তান, জামায়াত-শিবির, বিএনপি নেতা নৌকা পেয়েছেন। আবার অনেক জায়গায় ‘অনৈতিক’ সুবিধা নিয়ে আদর্শবিরোধীদের নৌকা দিতে কেন্দ্রে নাম পাঠানোর অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়করণ, মনোনয়নে হস্তক্ষেপের বিষয়টিও আমলে নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় মনোনয়ন বোর্ডের সভায় বিষয়টি দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ উত্থাপন করেন।
তিনি বলেন, ‘এমপি, মন্ত্রীরা যদি এত সুপারিশ করেন, যদি তারাই বলে দেন একে দিলে ভালো হয়, ওকে দেওয়া যাবে না, তাহলে আমাদের নিয়ে মনোনয়ন বোর্ডের সভা করে লাভ কী? আমরা এখানে কী করব?’ পরে তৃণমূল থেকে আসা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্বিতীয় ধাপে আট বিভাগের ৮৪৮টি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে গত বৃহস্পতিবার থেকে গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত টানা ছয় দিন বৈঠক করেন দলটির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আমির হোসেন আমু, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, রশিদুল আলম, কাজী জাফরউল্লাহ, ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূল থেকে আসা অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রসঙ্গে মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘তৃণমূল থেকে যেসব অভিযোগ কেন্দ্রে জমা পড়েছে, প্রতিটি অভিযোগই ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মনোনয়ন বোর্ডের আরেক সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, দ্বিতীয় ধাপের ভোটে তৃণমূল থেকে প্রচুর পরিমাণ অভিযোগ কেন্দ্রে জমা হয়েছে। সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দু-একটির সত্যতা পাওয়ায় প্রার্থী পরিবর্তনও হয়েছে। এখনো যদি প্রাপ্ত অভিযোগ সত্য হয় তাহলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অন্যায়কারী, আদর্শ বিরোধীদের নৌকা দেওয়া হবে না। যারা দুঃসময়ে দলের কর্মী ছিলেন তারাই মূল্যায়িত হবেন।


বিএনপির অঙ্গসংগঠনে কাঠগড়ায় সাংগঠনিক টিম
সমীকরণ প্রতিবেদন:
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক টিমের প্রধান ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আসাদুজ্জামান নেসার। জেলার বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় কেন্দ্র তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। একই অভিযোগে ওই টিমের আরেক সদস্য কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাহারুল ইসলামকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এরপর ওই বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় আরেক সহসভাপতি সুলতান মো. নাসির উদ্দিনকে। তার বিরুদ্ধেও অভিযোগের পাহাড়। ময়মনসিংহ সদর, ফুলবাড়িয়া, ভালুকাসহ কয়েকটি ইউনিটে কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এক পক্ষ থেকে আগে থেকেই আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে সুলতান মো. নাসির এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
শুধু স্বেচ্ছাসেবক দল নয়, একই অভিযোগ আছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধেও। তৃণমূলের কমিটি পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভাগীয় টিম গঠন করে দেন বিএনপির হাইকমান্ড। সব টিমের বিরুদ্ধেই কমবেশি অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে নিজস্ব বলয়, স্বজনপ্রীতি ও গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আছে। শুধু টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারাই নন, জেলার দায়িত্বশীল নেতার পাশাপাশি কেন্দ্রের শীর্ষ নেতার কেউ কেউ আর্থিক কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত। বিষয়টি শুধু কেন্দ্রীয় কার্যালয়েই নয়, লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছেও নানাভাবে পাঠাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির হাইকমান্ড যে বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে টিমকে দায়িত্ব দিয়েছেন এর বড় অংশই এখন নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। তারেক রহমানের নাম ভাঙিয়ে কেন্দ্র ও বিভাগীয় টিমের একটি অংশ এখনো কমিটি বাণিজ্য করছে বলে জানা গেছে। পদ বেচাকেনা এখন অনেকটাই ওপেন সিক্রেট।
বিএনপির নির্ভরযোগ্যসূত্র এক বলছেন, পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত যেসব নেতা পদবাণিজ্যে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন হাইকমান্ড। তাদের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ দেওয়া হবে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ আসায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই তা খতিয়ে দেখছেন। অনেককে এরই মধ্যে ভর্ৎসনাও করেছেন। তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেও জানান বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা।
জানা গেছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান নিজেই কমিটি বাণিজ্যে জড়িত। তিনি বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের নেতাকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে বলছেন, আগামী দিনে তিনি সংগঠনের সভাপতি হবেন। সুতরাং কেউ তার সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বেচ্ছাসেবক দলে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এখন অনেকটাই ‘ওপেন সিক্রেট’। তিনি নিজেকে বিএনপি হাইকমান্ডের ঘনিষ্ঠ লোক বলেও জেলা নেতাদের নানা হুমকি দেন। এ প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কিছু কমন অভিযোগ আছে, আর্থিক লেনদেনে কমিটি বা মাদকাসক্ত। আমার বিরুদ্ধে যদি এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণ করতে পারে তাহলে আমি যে কোনো সময় দল থেকে পদত্যাগ করব। আর আমি কারও ঘনিষ্ঠ লোক নই, দলের লোক।’
একই অবস্থা ময়মনসিংহ জেলা দক্ষিণ শাখা ছাত্রদলেও। কিছুদিন আগে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদল সভাপতি মাহবুবুর রহমান রানা ও সাধারণ সম্পাদক আবু দাউদ রায়হানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে কেন্দ্র এ সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় বিভিন্ন ইউনিট কমিটি বাণিজ্যের টাকা ভাগাভাগি করে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। কিন্তু কিছুদিন পর তাদের আবার সপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার ভাগিদার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একটি অংশ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে নানাভাবে বুঝিয়ে তাদের সপদে ফিরিয়ে আনে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহ বিএনপিসহ অন্য অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। রাগে ক্ষোভে দক্ষিণ জেলা শাখার ২৩ জন নেতা সম্প্রতি ময়মনসিংহ যুবদল জেলা ও মহানগরের কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য এক সূত্র জানান, বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দুই অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলের খুলনা বিভাগের উপজেলাসমূহের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রীতিমতো পদ বিক্রির হাট বসে। বিএনপি হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে ত্যাগী ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে ছাত্রদল ও যুবদল পুনর্গঠনের জন্য পৃথক টিম গঠন করে দেওয়া হয়। এ টিমের বিরুদ্ধে নগদ টাকা, মদন্ডফেনসিডিল ও উপঢৌকনের বিনিময়ে পদ বিক্রির একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ-সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপে টাকা নিয়ে দরকষাকষি এবং বিভন্ন নিউজ পোর্টাল ও ফেসবুকে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভসংক্রান্ত স্ক্রিনশর্টসহ প্রামাণ্য তথ্যও পাওয়া গেছে।
জানা যায়, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও খুলনা মহানগরী সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, খুলনা জেলা যুবদল সভাপতি শামীম কবির এবং টিমে থাকা অন্য পাঁচজনও কমবেশি কমিটি বাণিজ্য করেন। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়াসহ নানাভাবে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার দুই যুবদল নেতার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগ আছে, সাতক্ষীরার সীমান্ত ভোমরায় গিয়ে ফেনসিডিল খেয়ে ওই দুই নেতাকে পদ পাইয়ে দেন শামীম-পিয়ারু ও খুলনা যুবদল সাধারণ সম্পাদক ইবাদুল হক রোবায়েদ। একপর্যায়ে নানা অভিযোগ আসা শামীম কবির পদত্যাগ নাটকও করেন।
শামীম কবিরের ‘হোয়াটসঅ্যাপে’র কথপোকথন অনুযায়ী, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একজন আহ্বায়ক পদ প্রার্থী তাকে বলেছেন, ‘আমার ব্যাপারটা মাথায় আছে তো ভাই’? শামীম কবির বলছেন : ‘আমি আগেই কিন্তু সব ক্লিয়ার করে বলেছিলাম। আতিয়ার-মন্টু ১০ লাখ টাকা খরচ করেছে। বিভাগীয় টিমের সবাইকে খরচ দিয়েছে। আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম ৫ লাখ টাকা দাও। বাকিগুলো আমি ম্যানেজ করে নেব।’ এরপর সেই আহ্বায়ক পদপ্রার্থী বলছেন : ‘আপনার কথামতো ৫ লাখ টাকা আমি একবারে দিইনি। ৫ হাজার, ১০ হাজার করে ২ লাখ টাকা দিয়েছি। আপনি আমাকে তালা যুবদলের আহ্বায়ক বানান, তারপর পুষায় দেব। সমস্যা হবে না।’ জবাবে শামীম কবির বলছেন : ‘চেষ্টা করব। রাতে হোয়াটসঅ্যাপে কল দেব।’
জানা যায়, যশোরের কেশবপুর, অভয়নগর, সদর, বাঘারপাড়া, মনিরামপুর, ঝিকরগাছা, শার্শা, চৌগাছা, খুলনার দিঘলিয়া, রূপসা, তেরখাদা, ফুলতলা, ডুমুরিয়া, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, কয়রা, দাকোপ উপজেলার কমিটিতে পদ বিক্রি হয় বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে। একই ভাবে ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, হরিণাকুন্ডু, কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, মহেশপুর, কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী, খোকসা, মিরপুর, ভেড়ামারা ও দৌলতপুর এলাকায় কমিটি বাণিজ্য হয়েছে।
জানা যায়, পাবনার সুজানগর উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কমিটি নিয়ে নানা অভিযোগ আছে। উপজেলার সাবেক এমপি সেলিম রেজা হাবিব সংগঠনের ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের মূল্যায়ন না করে ‘অযোগ্য’ ও অপরিচিত মুখ দিয়ে কমিটি গঠনের চেষ্টা করছেন। সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুকে আহ্বায়ক ও রিয়াজ মন্ডলকে সদস্যসচিব করে সুজানগর যুবদলের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় প্রায় এক বছর আগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা মাত্র ১০ ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র চারটির কমিটি করতে সমর্থ হয়েছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি ও রাজশাহী বিভাগের টিমপ্রধান গোলাম রাব্বানী বিষয়টি অবগত হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সুজানগরে একটি প্রতিনিধি দল পাঠান। সেই প্রতিনিধি দলের কাছে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির অন্য সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কমিটিতে শুধু সেলিম রেজার লোকদের নেওয়া হচ্ছে। অন্য কোনো যোগ্য নেতার কমিটিতে ঠাঁই হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে গোলাম রাব্বানী বলেন, কোনো অযোগ্য লোক বা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কমিটিতে নেওয়া যাবে না।
সূত্রমতে, সেলিম রেজা হাবিব ছাত্রদলের সুজানগর উপজেলা আহ্বায়ক হিসেবে চান আলম মন্ডল নামে একজনকে যিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক। সদস্যসচিব হিসেবে চান সাকিবুল ইসলামকে। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়। তার নানাবাড়ি সুজানগর। এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও রাজশাহী বিভাগের টিমলিডার সাজিদ বাবু জানান, একটি সুন্দর কমিটি উপহার দেওয়ার সদিচ্ছা থাকলেও চাপের কারণে তিনি কমিটি দিতে পারছেন না।

Girl in a jacket
Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।