দুই ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্ত

325

দামুড়হুদায় ওএমএস চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত
দর্শনা অফিস/ প্রতিবেদক, দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয়ে (ওএমএস) অনিয়মের ঘটনায় অভিযুক্ত ২ ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্ত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের জরুরি সভায় ২ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এছাড়া এ ঘটনায় জব্দকৃত ৬৫ বস্তা চাল অন্য ডিলারে কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত বুধবার (০৮ এপ্রিল) রাতের আধারে দামুড়হুদা উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামের একটি গোডাউন থেকে ১০ টাকা কেজি দরের সরকারি ২৯ বস্তা চাল বাস্তপুর গোডাউনে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় সময় স্থানীয় জনতার সন্দেহের সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে থাকা ইউপি সদস্য রিকাত আলীকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসন ও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে অভিযান চালিয়ে রঘুনাথপুরের চালের ডিলার গিয়াস উদ্দিন ডেলিসের বাস্তপুর গোডাউনে থাকা ৬৫ বস্তা চাল জব্দ ও লোকনাথপুরের আব্দুর ছাত্তারের মাস্টারোলের খাতা জব্দ করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) এ ঘটনা তদন্তের জন্য দামুড়হুদা উপজেলা উদ্ভিদ সংঙ্গনিরোধ অফিসার অভিজিত কুমারকে আহ্বায়ক ও উপজেলা পিআইও আশরাফ আলীকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় তদন্ত পর্যাচলা করে সরকারি চাল পাচারের অভিযুক্তের দায়ে ২ জন চালের ডিলারের ডিলারশীপ বাতিল ও জামানতের ২ জনের নগদ ৪০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জরুরি সভায় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহিদা খাতুন, দামুড়হুদা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, দর্শনা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী খাদ্য উপপরিদর্শক সামসুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মুনিম লিংকন জানান, তদন্ত কমিটির দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের চাল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়ম প্রমাণিত হয়। এছাড়া মাস্টাররোলের খাতায় কিছু হিসাবের গড়মিল পাওয়া গেছে। তাই তাঁদের দুইজনের ওএমএস ডিলারশীপ বাতিল করা হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তাঁদের জামানতের অর্থ।