চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দীর্ঘ ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা

তৃণমূলকে সুসংগঠিত করা এ সভার মূল থিম : এমপি ছেলুন জোয়ার্দ্দার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নভেম্বর ২, ২০২১ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ব্যানার-ফেস্টুনে সাজছে পুরো জেলা : সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ

দীর্ঘ ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। আগামী ৪ নভেম্বর এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গনে। বর্ধিত সভা উপলক্ষে উৎসবের আমেজে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। ব্যানার, ফেস্টুন আর রাস্তায় বড় বড় তোরণে সাজানো হচ্ছে জেলাকে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ৬ জন নেতা এ সভায় আসবেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্ধিত সভায় থাকতে পারবেন এমন নেতাদের দাওয়াতপত্রও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এবারের বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হবে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কবে হবে। এছাড়াও, সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এ সভায়।
দীর্ঘ ৬ বছর পর চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে সম্ভবত ২০১৫ সালের অক্টোবরে চুয়াডাঙ্গা শ্রীমন্ত টাউন হলে জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার দুই মাস পর ২০১৫ সালের ২রা ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এদিন বিগত সভাপতি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনকে সভাপতি এবং আজাদুল ইসলাম আজাদকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করে।
এদিকে, ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত ওই বর্ধিত সভার পর এই দীর্ঘ সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের আর কোনো বর্ধিত সভা হয়নি। এ বর্ধিত সভাকে ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে উৎসবের আমেজ। আগামী ৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে এ বর্ধিত সভা। শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল, কারা কারা অংশ নিতে পারবেন এই বর্ধিত সভায়। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে দেওয়া হয়েছে সে নির্দেশনা। জেলা আওয়ামীলীগের কমিটির সকল সদস্য ৭৪ জন, ৪টি উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সকল সদস্য ২৯৬ জন, সদর পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির সকল সদস্য ৭৪জন, জেলার সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক ৮২ জন, আলমডাঙ্গা, জীবননগর ও দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক ৬ জন, ৪টি পৌরসভার দলীয় ৪ জন মেয়র, ৪টি উপজেলার ৪ জন দলীয় চেয়ারম্যান, ৪টি উপজেলার ৮ জন দলীয় পুরুষ-মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একজন এ বর্ধিত সভায় অংশ নিতে পারবেন।
অতিথি হিসেবে কেন্দ্রীয় ৬ জন নেতা উপস্থিত থাকবেন এ বর্ধিত সভায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দীন নাসিম। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদের পরিচালনায় এ বর্ধিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাড. মো. আমিরুল আলম মিলন এমপি, পারভীন জামান কল্পনা ও অ্যাড. গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা এমপি।
অনুষ্ঠিতব্য এই বর্ধিত সভা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্ধিত সভায় থাকতে পারবেন, এমন নেতা-কর্মীদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে। বর্ধিত সভা হলে কর্মীরা উজ্জীবিত হয়। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসবেন। আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ম্যাসেজ কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিবেন। এই বর্ধিত সভার মূল থিম হলো তৃণমূলকে সুসংগঠিত করা। চুয়াডাঙ্গার উপজেলা ও পৌর কমিটিগুলোর মধ্যে যেগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে এবং সম্মেলন হয়নি, তাদের সম্মেলন করার একটি ম্যাসেজ অবশ্যই থাকবে। তারপর কেন্দ্র, জেলা কমিটির সম্মেলনের একটি তারিখ নির্ধারণ করবে। যেহেতু জেলা কমিটির সময় উত্তীর্ণ হয়েছে, সেজন্য জেলা সম্মেলনের বিষয়েও এ বর্ধিত সভায় আলোচনা হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ বলেন, ‘তৃণমূলকে সুসংগঠিত করার জন্য বর্ধিত সভা। যদিও, আমি কিছুটা অসুস্থ, ঢাকাতে আছি। ১১ দিন হাসপাতালেও ভর্তি ছিলাম। তবে ৪ তারিখের বর্ধিত সভায় আমি উপস্থিত থাকব। কেন্দ্রীয় নেতারা কেন্দ্রের ম্যাসেজ তৃণমূলে জানাবেন। আমাদের কথাও শুনবেন। আমাদের কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রে পৌঁছে দিবেন তাঁরা।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভাকে ঘিরে সারা জেলায় একটি বিশেষ আগ্রহের জন্ম হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বলতে পারি, বর্ধিত সভার সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আসবেন, তারা সার্কিট হাউজে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় পরিদর্শনে আসবেন। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর বর্ধিত সভায় উপস্থিত হবেন কেন্দ্রীয় নেতৃবন্দ।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বর্ধিত সভার জন্য চিঠিপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। বর্ধিত সভা নিয়ে কেন্দ্রের দেওয়া সকল নির্দেশনা শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। জেলার চারটি উপজেলার সম্মেলন করা হয়নি প্রায় ১৭ বছর। সেই চারটি উপজেলা, সদর পৌর আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হবে। ইতোমধ্যে আমরা জেলার প্রায় সকল ইউনিয়ন ও তিনটি পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করেছি। আমরা আশাবাদী, সফলভাবে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে, এ বর্ধিত সভাকে ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে উৎসবের আমেজ। চুয়াডাঙ্গার প্রবেশমুখ বদরগঞ্জ বাজার থেকেই চুয়াডাঙ্গা সার্কিট হাউজ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দৃষ্টিনন্দন তোরণ তৈরি করছেন। শহরের রাস্তাগুলোতে দেওয়া হচ্ছে ব্যানার-ফেস্টুন। জাকজমকভাবে বর্ধিত সভার স্থল চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ সাজানো হচ্ছে। সবমিলিয়ে দীর্ঘ ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত এ বর্ধিত সভাকে ঘিরে জেলার আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি।
দীর্ঘ সময় পর জেলায় বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতা-কর্মীরা বলছেন, এ বর্ধিত সভা এবং পরবর্তী সাংগঠনিক প্রক্রিয়া আমাদেরকে নতুন নেতৃত্ব দিবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।