চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৬ মে ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দীর্ঘ ৩১ বছর পর আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হচ্ছেন অ্যাড. এম এ মজিদ, সম্পাদক পদে তিনজনের লড়াই
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মে ২৬, ২০২২ ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ

 

ঝিনাইদহ অফিস: দীর্ঘ ৩১ বছর পর ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সম্মেলন হতে যাচ্ছে। জেলার ৫টি উপজেলা ও ৫টি পৌরসভার মোট ১০১০ জন কাউন্সিলরের প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচিত হবে জেলা নেতৃত্ব। জেলা সম্মেলনকে ঘিরে নেতা-কর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এই আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। দলীয় অফিসে নেতা-কর্মীদের পদচারণা বেড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি শতশত নেতা-কর্মীর আনাগোনায় মুখরিত।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, আগামী ২৮ মে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের ডাকবাংলা বাজার আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ। এর আগে ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত টানা ২৮ বছর দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে একাধিকবার বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মসিউর রহমান। এরপর ২০১৯ সালের ২০ আগস্ট পুরাতন কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাড. এস এম মশিয়ূর রহমানকে আহ্বায়ক ও অ্যাড. এম এ মজিদকে সদস্যসচিব করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

এদিকে, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মসিউর রহমানের চাচাতো ভাই এম এ মজিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হওয়ার ঘোষণায় জেলা কমিটিতে নতুন নেতৃত্বের চমক সৃষ্টি হতে পারে। জানা গেছে, আগামী ২৮ মে জেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য দলীয় মনোনায়ন সংগ্রহের সময় ছিল গত ২৩ মে রাত ৮টা পর্যন্ত। এ সময়ে সভাপতি পদে একজন, সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পাঁচজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে গতকাল বুধবার ২৫ মে রাত ৮টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে সাধারণ সম্পাদক পদে মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু মনোয়নপত্র প্রত্যাহার করলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন জাহিদুজ্জামান মনা, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম।

অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পাঁচজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও বর্তমান টিকে আছেন সাজেদুর রহমান পাপ্পু ও শাহাজাহান আলী। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ ছাড়া সভাপতি পদে আর কেউ মনোনায়ন সংগ্রহ না করায় ৩১ বছর পর জেলা বিএনপির সভাপতি পদে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে, ১৫ বছর পর সাধারণ সম্পাদক পদেও আসছে পরিবর্তন। ২০০৭ ও ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত  জেলা বিএনপির সম্মেলনে নির্বাচিত সাবেক জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ওই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।

জানা গেছে, জেলা সম্মেলনে এই দুটি পদে নির্বাচন হবে এবং বাকি পদগুলিতে পরে সমাঝোতার ভিত্তিতে পদ প্রদান করা হবে। এর আগে ২০১৮ সালে মসিউর রহমান দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত হন এবং কারাগারে আটক ছিলেন। পরে আপিলে জামিন পান। সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় ২০১৮ সালে তিনি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি। ওই নির্বাচনে দলিয় প্রার্থী হন তাঁর চাচাতো ভাই ও নবনির্বাচিত জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ। অভিযোগ আছে, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন হওয়ার পর থেকে মসিউর রহমান জেলা ছাত্রদল ও যুবদল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে থাকে এবং বেশকিছু অনুসারী নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করে আসছিলেন।

অন্যদিকে, এম এ মজিদের নেতৃত্বে বিএনপি ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠন সুসংগঠিত হতে থাকে। জাতীয় দিবসগুলিতে বিশাল মিছিল করে মজিদ প্রমাণ করেন তাঁর নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত এবং শক্ত অবস্থানে আছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের চাওয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর মসিউর রহমান ও এম এ মজিদের মাঝে সৃষ্ট দূরত্ব কমিয়ে এক কাতারে রাজনীতি করা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, ‘আমি বিএনপি করি এবং দলের সিদ্ধান্তে কাজ করি। সেই ক্ষেত্রে আমি মনে করি ব্যক্তিগত রেশারেশীর কোনো সুযোগ নেই। জেলা কমিটি গঠনে দলীয় স্বার্থে যদি কারো কোনো চাওয়া-পাওয়া থাকে সেটা নেতা-কর্মী সকলকে এক সাথে নিয়ে কাজ করার মানসিকতা আমার আছে। আশা করি, দলীয় নিয়ম-কানুন অনুসরণ করলে নেতা-কর্মীদের মাঝে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকবে না।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, দলের প্রয়োজনে প্রবীণদের সরে গিয়ে তরুণদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হবে এটাই নিয়ম। তিনি বলেন, জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে তিনি বিএনপি করেন। যতদিন বেঁচে আছেন, ততদিন বিএনপির সাথেই থাকবেন। তিনি বলেন, ‘আমার সাথে কারো কোনো দ্বন্দ্ব নেই। ঝিনাইদহ বিএনপি আমার হাতে গড়া দল। এ দলের নেতা-কর্মীরা আমার সন্তানের মতো। তাই আমি চাই না যে নেতৃত্ব নিয়ে তাদের মাঝে কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাতুক। দলের কর্মসূচিতে যখন আমাকে ডাকা হয়, তখনই আমি সেখানে উপস্থিত হই। জেলা সম্মেলনেও আমি উপস্থিত থাকব। এর আগেও দলের কেন্দ্রীয় সকল কর্মসূচিতে আমি উপস্থিত থেকেই পালন করেছি।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।