চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৩ জুলাই ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দীর্ঘ হচ্ছে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর তালিকা

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ৩, ২০২১ ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

চুয়াডাঙ্গায় আরও ছয়, মেহেরপুরে এক ও ঝিনাইদহে তিনজনের প্রাণহানি
সারা দেশে করোনায় আবারও শতাধিক মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৮ হাজার ৪৮৩
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশব্যাপী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় চলমান লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও প্রায় দেড়শতাধিক কোভিড আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪৩ জনের। এটাই দেশে এক দিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু। একই সময়ে সারা দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৮ হাজার ৩০১ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্র্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ১৪ জনের শরীরে। ২৪ ঘণ্টায় মেহেরপুরে মৃত্যু হয়েছে আরও এককজনের ও নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ জন। অন্যদিকে গতকাল ঝিনাইদহে করোনা কেড়ে নিয়েছে ৩ জনের প্রাণ। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ১৩২ জন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর তালিকা প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে। গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে সদর হাসপাতালের রেড জোনে দুজন ও ইয়োলো জোনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল জেলায় নতুন করে আরও ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত চুয়াডাঙ্গার ৪০টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১৪টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও ২৬টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৬ জন, আলমডাঙ্গার ৫ জন ও জীবননগর উপজেলার ৩ জন রয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের ৩৫ শতাংশ।
এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫১৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৫৪৭ জন, আলমডাঙ্গার ৫৬০ জন, দামুড়হুদায় ৮০৪ জন ও জীবননগরে ৬০১ জন। গতকাল জেলা থেকে আরও ৫ জন সুস্থ হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৩০৬ জন। গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে দুজন ও উপসর্গ নিয়ে তিনজনসহ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়ে দুজন ও পূর্বে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া একজনসহ করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন তিনজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। এছাড়াও গতকাল সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের।
গতকাল হাসপাতালের রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া দুজন হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার নওদাপাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে শুকুর আলী (৪০) ও জীবননগর উপজেলার মোনহরপুর গ্রামের নুরুন্নাহার (৭০)। এছাড়া চুয়াডাঙ্গা থেকে করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এও) জিন্নাত আলীর। তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার গুলশানপাড়ার বাসিন্দা।
গতকাল সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া তিনজন হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়েনের রফিকুলের স্ত্রী আমেনা বেগম (৫৫), দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের বিশারত আলীর স্ত্রী আমেনা খাতুন (২৮) ও কুষ্টিয়া জেলার ইবি থানার মনোহরদিয়া গ্রামের হেলাল উদ্দীনের স্ত্রী শ্যামলী আক্তার।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল শুক্রবার সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুজন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। করেনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেকের শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় হোম বা প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৬ জনের।
জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত সোমবার ২৬৮টি, মঙ্গলবার ১৩৫টি, বুধবার ১৯৬টি ও বৃহস্পতিবার ২৫৯টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ৪০টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ আরও ২৭ট নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৪ হাজার ১৫৮টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১৩ হাজার ৩৫৫টি, পজিটিভ ৩ হাজার ৫১৫ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৯৫ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ২৪ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৭১ জন। গতকাল শুক্রবার করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১০জন। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ৯৬ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ৩৫ জন, আলমডাঙ্গায় ২২ জন, দামুড়হুদায় ২৭ জন ও জীবননগরে ১২ জনসহ ৯৬জন। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। গতকাল মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৩৫ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছেন। এছাড়া গতকাল মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও এক জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলায় গতকাল নতুন শনাক্তদের ৩৫ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ২১ জন, গাংনীতে ৩ জন এবং মুজিবনগরে ১১ জন। গতকাল শুক্রবার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সিবিল সার্জন অফিস সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুরে কষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ১৩৭টি নমুনার ফলাফল আসে। এর মধ্যে ৩৫টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা পজেটিভ রোগীর এর সংখ্যা ৫৫৭ জন। তার মধ্যে সদর উপজেলার ২০৪ জন, গাংনীতে ২৩৩ জন এবং মুজিবনগরে ১২০ জন।
মেহেরপুরে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। এর মধ্যে সদর উপজেলার ২০ জন, গাংনী ২২ জন ও মুজিবনগরে ১২ জন রয়েছেন।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহের পরিবেশ প্রতিনিয়ত ভারি হচ্ছে স্বজন হারানোর কান্নায়। এ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৩২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে ৩ জন।
ঝিনাইদহ স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সকালে কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে আসা ২৯৪ জনের নমুনার মধ্যে ১৩২ জনের করোনা পজেটিভ এসেছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৪৭০ জনে। বর্তমানে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি রয়েছে ১২০ জন। এদিকে করোনা সংক্রমন রোধে চলছে কঠোর লকডাউন কার্যকরতে মাঠে রয়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে দোকান পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। জেলা শহরসহ জেলার ৬ উপজেলায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
সারাদেশ:
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা দেশে একদিনে করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দেশে সর্বোচ্চ ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৪ হাজার ৭৭৮ জনে। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮ হাজার ৪৮৩ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ লাখ ৩০ হাজার ৪২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০ হাজার ৩৮৫ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজার ১২টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ। একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৫০৯ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪২২ জন।
২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ আর সুস্থতার হার ৮৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১৩২ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ ৬৭ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩০ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ২০ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৮১ জন ও মহিলা ৫১ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৩ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৩২ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫ জন, ঢাকায় ৩০ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে ২৪ জন করে, সিলেটে ২ জন, রংপুরে ৯ জন, ময়মনসিংহে ৬ ও বরিশালে ২ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।