চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দীর্ঘদিনেও দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর না হওয়ায় ক্ষোভ!

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ১, ২০২১ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুজিবনগর স্থল কাস্টমস স্টেশন ঘোষণা : ফেসবুকজুড়ে খুশির বর্হিপ্রকাশসহ বিরূপ মন্তব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক/মুজিবনগর অফিস:
মেহেরপুরের মুজিবনগরে আন্তঃসীমান্ত যাত্রী চলাচল এবং পণ্য আমদানি-রপ্তানির উদ্দেশ্যে মুজিবনগর স্থল কাস্টমস স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (কাস্টমস) গত ২৭ মে এ গেজেট প্রকাশ করেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুমিন স্বাক্ষরিত ওই গেজেটে বলা হয় এসআর ও নং ১৩৮-আইন/২০২১/১২৩/ কাস্টমস অ্যাক্ট. ১৯৬৯ এর সেকশন ৯ এর (বি) তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মেহেরপুর জেলা মুজিবনগর উপজেলার নিম্নে বর্ণিত তফশিল এলাকাকে আন্তঃসীমানা যাত্রী চলাচল এবং পণ্য আমদানি রপ্তানির উদ্দেশ্যে মুজিবনগর স্থল কাস্টমস স্টেশন হিসেবে ঘোষণা করা হল। গেজেটে ৩০.৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা সংক্রান্ত মুজিবনগর উপজেলার মাঝপাড়া মৌজার বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের ৩০.৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।
এদিকে, এ সংবাদে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার সাধারণ মানুষের মাঝে খুশির বর্হিপ্রকাশ ঘটেছে। একইসাথে চুয়াডাঙ্গাবাসীর দীর্ঘদিনের দর্শনা স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবি পুনরায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানারকম বিরুপ মন্তব্যও ভেসে উঠেছে। দীর্ঘদিনেও চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনায় পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর না হওয়ায় অনেকের ক্ষোভও দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ চুয়াডাঙ্গার জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কথা বলতেও ছাড়েননি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার ব্র্যান্ডিং ব্লাক বেঙ্গল গোটসহ কেরু এ্যান্ড কোম্পানিতে উৎপাদিত মদ নিয়েও অনেকে মন্তব্য করেছেন। এককথায় যে যেভাবে পেরেছে, সেভাবে তাদের ক্ষোভ ঝেড়েছেন।
এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র সাংবাদিক ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি এম এ মামুন তাঁর মন্তব্যে বলেন, চুয়াডাঙ্গা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। সীমান্তবর্তী এ জেলায় স্থলবন্দরের জন্য সকল অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও সরকারের দর্শনাকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা না করা, চুয়াডাঙ্গাকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখার সামিল। তিনি সরকারের কাছে দর্শনাকে অতিদ্রুতই পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান।
অপর দিকে, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক সাংবাদিক রেজাউল করিম লিটন জানান, দর্শনা স্থলবন্দর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। অতিদ্রুতই জমিঅধিগ্রহণের চিঠিপত্রসহ অনান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আমরা আশাবাদী দর্শনা পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হবে।
ফেসবুক ভিত্তিক গ্রুপ চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক ভাষা পরিষদের অন্যতম অ্যাডমিন শামিম হোসেন মিজি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে ক্ষোভ প্রকাশ করে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেছেন। একটিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমাগের ব্লাক বেঙ্গল ছাগল নিজ ঝোলায় ভরেই নষ্ট করছে ক্ষেতের ফসল।’ আরেকটিতে স্থলবন্দর, বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে কি করব? আধুনিক সুউচ্চ অট্টালিকা হলেই হবে। এতেই খুশি থাকি। আমরা তো ফকিন্নি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের জন্য না। এধরণের স্টাটাস লিখলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের প্রায় মন্তব্য ছিল নেতিবাচক।
সোহেল রানা নামে আরেকজন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘আজ পর্যন্ত বাইপাস সড়ক পেলাম না। নেতাদের বাড়ির ওপর দিয়ে ট্রাক চলে। তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়, স্থলবন্দর নিয়ে আফসোস করো। মেহেরপুর এগিয়ে যাও।’ অনেকেই আবার, ফেসবুকে সরকারি ছাগল খামারের ছবি পোস্ট দিয়ে বিরুপভাবে লিখেছেন, চুয়াডাঙ্গার উন্নয়নের একমাত্র জায়গা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।