দীনের কোথাও হতাশা নেই

ধর্ম ডেস্ক: হতাশা মানবজীবনের একটি নেতিবাচক দিক। যারা জীবনে সাফল্য বয়ে আনতে চায় তাদের কখনো হতাশ হলে চলে না। মানুষের জীবনটাই আশার ওপর। চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে কাটে আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত। কয়েক সেকেন্ড পরে আমাদের কী হবে, সামনে ভালো-মন্দ কী অপেক্ষা করছে সেটা আমরা কেউই জানি না। তবুও আমরা বেঁচে থাকি, জীবন সংগ্রামে টিকে থাকি আশার ওপর ভিত্তি করেই। এই আশার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে ইসলাম। দীন ইসলামে কোথাও হতাশার কোনো জায়গা নেই। সবখানে আপনাকে আশাবাদী হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছে ইসলাম। মানবতাবাদী নবী মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহর (সা.) দরবারে এসে কেউ হতাশ হয়ে গেছেন এমন কোনো নজির নেই। একজন যত বড় পাপীই আসুক এই দরবারে এসে আশায় বুক বেঁধেছেন। অনেকে হতাশার চরম নিমগ্ন অবস্থায় দরবারে নববিতে এসে একবুক প্রত্যাশা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন। কারণ রাসুল (সা.) মানুষকে আশার বাণী শোনাতেন। আশা জাগানিয়া পথ বলে দিতেন। এক বৃদ্ধ মহিলা হন্তদন্ত হয়ে এসে রাসুলকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, বৃদ্ধরা নাকি জান্নাতে যাবে না? রাসুল একটু মজা করে বললেন, হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনেছেন। ওই মহিলা কথাটি শুনে ঘাবড়ে যাচ্ছিলেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, হ্যাঁ, কোনো মহিলা বৃদ্ধ অবস্থায় জান্নাতে যাবে না; কারণ জান্নাতে যাওয়ার আগে সব মহিলা ষোড়শী হয়ে যাবে। ওই মহিলা আনন্দচিত্তে বাড়ি ফিরে গেলেন। খুনি, ব্যভিচারী, ডাকাত সর্দার রাসুলের (সা.) দরবারে এসে বলেছে, আমার কি মুক্তি পাওয়ার কোনো পথ আছে? তিনি বলেছেন, কেন থাকবে না, অবশ্যই আছে। এসো, তওবা করে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তিত হও, আল্লাহ তোমার সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। দীনের মূল স্পিরিটই হলো আশা জাগানিয়া। কিন্তু আমরা অনেকেই দীনকে কঠিন করে অন্যদের জন্য হতাশার সৃষ্টি করি। মানুষের ভেতরে আশার দিকটি প্রবল থাকলে তার জীবনশক্তি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তখন সে যে কোনো কাজে উদ্যমটা সেভাবে পায়। এ জন্য দীনের ব্যাপারে কাউকে নিরাশ করা যাবে না। একজন যত জঘন্য অপরাধীই হোক তাকে অভয় দিতে হবে। আল্লাহর করুণা ও অনুগ্রহের তুলনায় তার অপরাধ কোনো অপরাধই না। আল্লাহ নিজেই বলেছেন, ‘তোমরা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’