দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ছুরি দিয়ে বন্ধুর বাবা শহিদুলকে হত্যা

35

দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে পিতার নামে ব্যঙ্গ করা নিয়ে বন্ধুদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
ঘটনার পালিয়েছেন অভিযুক্ত সুজনসহ তাঁর পরিবার, লাশের ময়নাতদন্ত আজ
দর্শনা অফিস:
দর্শনার ঈশ্বরচন্দ্রপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে প্রতিবেশী বন্ধুর ধারালো ছুরিকাঘাতে বন্ধুর বাবা শহিদুল ইসলাম (৪৮) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। নিহত শহিদুল ইসলাম দর্শনা ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের মসজিদ পাড়ার তাহার মণ্ডলের ছেলে। এ ঘটনার পর পালিয়েছেন হত্যাকারী বন্ধু সুজন। গতকাল শনিবার দুপুরে দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর বড় মসজিদের সামনে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাজে ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নিহতর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মুঠোফোনে গেম খেলা নিয়ে কলেজছাত্র দুই বন্ধুর বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে প্রত্যাক্ষদর্শীদের ভাষ্যনুযায়ী, পিতার নামে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


জানা গেছে, গতকাল শনিবার বেলা দেড়টার দিকে দর্শনা পৌর এলাকার ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামের বড় মসজিদের সামনে শহিদুল ইসলামের দোকানের বেঞ্চে বসে ইলফাজ (১৮) তাঁর বন্ধুদের সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় আরেক বন্ধু সুজনকে ইঙ্গিত করে সুজনের পিতার নাম ‘গলাছিলা’ বলে ব্যাঙ্গ করে কথাবার্তা বলেন ইলফাজ। এতে সুজন ক্ষিপ্ত হলে ইলফাজের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইলফাজসহ বন্ধুরা মিলে সুজনকে বেদম মারপিট করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সুজন দৌঁড়ে বাড়ি চলে যায়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে বাড়ি থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে বন্ধুদের ওপর চড়াও হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা চালান। এরই মধ্যে সুজন ধারালো ছুরি দিয়ে ইলফাজকে আঘাত করার চেষ্টা করলে ইলফাজের বাবা শহিদুল ছুটে এসে ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টা করেন। এসময় সুজনের আঘাত করা ছুরি শহিদুলের বুকের বাম দিকে ঢুকে যায়। আর এতে গুরুতর জখম হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ ঘটনায় আহত হন শহিদুল ইসলামের ছেলে ইলফাজ হোসেন (১৮), তাহার মণ্ডলের ছেলে ফরিদ হোসেন (৩৫) ও আসানুরের ছেলে জাকির হোসেন (২২)। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শহিদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে নিহতর ছেলে ইলফাজ হোসের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তিনি চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। নিহত শহিদুলের লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের লাশঘরে রাখা হয়েছে। আজ রোববার তাঁর লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহানা আহমেদ বলেন, ‘শহিদুল ইসলামকে আমরা জরুরি বিভাগে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শহিদুলের বুকের বামপাশে একটি গভীর ক্ষতচিহ্ন পরিলক্ষিত হয়েছে। ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহত শহিদুলের ছেলে ইলফাজের বুকের পাশেও একটি গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে।’
এদিকে, ঘটনার পরপরই হত্যাকারী সুজনসহ পরিবারের লোকজন গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দর্শনা থানার পুলিশ। এরপর হত্যাকারীকে আটক করতে ঈশ্বরচন্দ্রপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান কাজল জানান, ইলফাজের বন্ধুরা সুজনের পিতার নাম ব্যাঙ্গ (বিকৃত) করে উচ্চারণ করায় এ বিরোধ সৃষ্টি হয়, যা খুনের ঘটনা ঘটে। ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। সুজন ও তাঁর বড়ভাই শামীমকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।