দিনগুলো কাটুক আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায়

26

ধর্ম প্রতিবেদন:
আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তাআলার অপার দয়ায় রমজানের রহমত ও মাগফেরাতের দশক অতিবাহিত করে নাজাতের দশকের রোজা রাখার সৌভাগ্য পাচ্ছি আমরা। নাজাতের এ দশকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ দয়াময় প্রভুর দরবারে সকাতর প্রার্থনা করবেন- তিনি যেন সবাইকে ক্ষমা করে বিশ্বকে করোনাভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করেন। মুমিন বান্দারা এ দশকে লাইলাতুল কদরের প্রত্যাশায় থাকে। এ রাত কখন আসে, কীভাবে আসে এবং কোন আরাধ্য আত্মার কাছে মহিমান্বিত রজনী ধরা দেয় এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- ‘তোমাদের জীবনে আগত প্রতিটি রমজানের শেষ দশকের কোনো এক বেজোড় রাতে এ সম্মানিত রাতকে তালাশ কর। ‘অর্থাৎ রমজানের ত্রিশটি দিবস অসম্ভব কঠোর সাধনায় অবিরাম আরাধনার পর এ মাসের প্রায় শেষ প্রান্তে সে আরাধক তার কাংখিত রাতের সন্ধান পাবে। আর এটাই হলো রমজানের নিবিড় ইবাদতের মর্মকথা। রমজানের যতসব কল্যাণ তার সবটুকুই সে মাসের শেষ দশকে এসে সঞ্চিত হয় আর সেই অংশের কোনো বেজোড় রাতেই আত্মগোপন করে থাকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম ঐ রাত, ঐশী জগতে যার নাম ‘লাইলাতুল কাদর’। অতএব পুণ্যে পরিপূর্ণ এ রাতের সন্ধান পাওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয় এবং এটা কোনো সাধারণ কাজও নয়। যে মহাজন বছরের প্রতিটি দিন-রাত অতিশয় সাধনায় দ্বীনের ইবাদতে ব্রত থেকে পুণ্যতায় পূর্ণ হতে পারবেন কেবল তিনিই সন্ধান পাবেন সে রাতের সওগাত সম্ভার।
শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ যেভাবে ইবাদত করতেন
রমজানের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বেশি পরিশ্রম করতেন, আরও অধিক ইবাদতে মশগুল হতেন। নিজের পরিবার-পরিজনকে ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। হাদিসে এসেছে- হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, ‘রমজানের শেষ দশকে প্রিয় নবি যত পরিশ্রম করতেন, অন্য দশকে তা করতেন না’ অর্থাৎ, তিন দশকের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বেশি পরিশ্রম করতেন শেষ দশকে, আর তা অবশ্যই ইবাদতের মাধ্যমে।’ (মুসলিম) হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা অন্য বর্ণনায় ইরশাদ করেন, ‘শেষ দশক আরম্ভ হলে প্রিয় নবি পূর্ণরাত জেগে থাকতেন, পরিবারের সবাইকে ঘুম থেকে ডেকে দিতেন এবং নিজে কোমর-বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন।’ (বুখারি) আসুন! রমজানের অবশিষ্ট দিনগুলোকে সিয়াম সাধনায় নিবিড়চিত্তে নিবেদিত হয়ে সেই মাহাত্ম্য আহরণে মত্ত হই। রোজা পালন ও তদসঙ্গে কুরআন তেলাওয়াত করা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অতীব পুণ্যের কাজ। আত্মাকে ঐশী সাজে সাজানোর এক বিশেষ সময়। তবেই হাশরের দিন রমজান ও কুরআন এ বলে আমাদেরে সুপারিশ করবে যে, রোজা বলবে, হে আল্লাহ! আমি তাকে পানাহার এবং কু-প্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত রেখেছি, এ কারণে তুমি তার জন্য আমার সুপারিশ গ্রহণ করো আর কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে ঘুম থেকে বিরত রেখেছি এবং তাকে ঘুমাতে দেইনি, সুতরাং এই কারণে তুমি তার জন্য আমার সুপারিশ কবুল করো।’ (বায়হাকি) তাই ইবাদতে আমরা যত নিবিড়ভাবে নিয়োজিত হবো ততই রমজানের আগমন আমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। হাদিসে এসেছে- হজরত ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘সৎকর্মশীলতার দিক দিয়ে আল্লাহর দৃষ্টিতে রমজানের শেষ দশকের চেয়ে মহৎ ও প্রিয় আর কোনো দিন নেই।’ (মুসনাদে আহমাদ) অর্থাৎ এই শেষ দশকে আল্লাহ তাআলা অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশী মাহাত্ম্য দান করেন। নইলে, কোন দিন বা রাত আল্লাহর কাছে কী করে মহান হতে পারে? মহান এ দিক দিয়েই যে, এই দশকে আল্লাহর সংস্পর্শে যারা আসে, তাদেরকে এটি মহানে পরিণত করে। মহান আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক যতো নিবিড় হবে, বান্দাও ততো মহানে পরিণত হতে থাকবে। তাই রমজানের অবশিষ্ট এ দিনগুলো আল্লাহর বিশেষ সন্তুষ্টি কামনায় অতিবাহিত করতে হবে। আল্লাহ আমাদের রোজা গ্রহণ করে নিন আর আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমাদের উচিত হবে, আল্লাহর কাছে ধর্ণা দিয়ে সেসব অনুকম্পাদি আহরণ করা। নচেৎ জীবন হবে মূল্যহীন। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে রমজানের কল্যাণ থেকে কল্যাণমণ্ডিত হবার তাওফিক দান করুন। আমিন।