দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা আজিমপুর এখন মাদক চোরাচালানের আখড়াই পরিনত!

417

images1111

নিজস্ব প্রতিবেদক: দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা আজিমপুর বর্তমানে মাদক চোরাচালানের আখড়াই পরিনত হয়েছে। ইয়াবা কিম্বা ফেন্সিডিলসহ যে কোন মাদক ধরা পড়লেই আজিমপুরের নাম উঠে আসছে। গত ১৭ মে বুধবার-ঈশ্বরচন্দ্রপুর সড়কে অভিযান চালিয়ে ২১পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আজমপুরের দু’মাদক স¤্রাটকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো দর্শনা আজমপুরের মানিকের ছেলে চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী কামরুজ্জামান নয়ন (২২) ও একই পাড়ার তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে রাহাত (২৫)। এ ঘটনার পর অর্ধলক্ষ টাকার বিনিময়ে মাদকব্যবসায়ীদেরকে ছাড়াতে গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশের সাথে দেনদরবারে আলোচিত দুই সাংবাদিক। ব্যার্থ হওয়ায় ওই টাকা ফেরত পাওয়ার দাবীতে এক সাংবাদিকের অফিস ঘেরাও করে রাখে আটককৃত মাদকব্যাবসায়ী পরিবারের সদস্যরা। অবশেষে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এ নিয়ে গোটা দর্শনায় আলোচিত সাংবাদিককে নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। এলাকাবাসি সূত্রে জানাগেছে, গত বুধবার সন্ধার দিকে দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই শফি ও এএসআই লাভলু সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাদক বিরোধী অভিযান চালান দর্শনা পৌর এলাকার আজিমপুর-ঈশ্বরচন্দ্রপুর সড়কের ইটভাটা নামকস্থানে। এসময় ২১পিচ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আজমপুরের চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ী কামরুজ্জামান নয়ন (২২) ও একই পাড়ার তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে রাহাতকে (২৫) আটক করে। এরপর আটককৃত দু’মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়াতে গভীররাত পর্যন্ত চলে সাংবাদিক ও পুলিশের দর কষাকষি। মাদকব্যবসায়ী পরিবারের সাথে ৫০ হাজার টাকায় দফারফার সিদ্ধান্ত হলেও পুলিশ তাদের না ছাড়ায় সকল চেষ্টা ভেস্তে যায়। মন ভেঙ্গে যায় আলোচিত সাংবাদিকদ্বয়ের। আটককৃতদের ছাড়াতে না পারায় ৫০ হাজার টাকা ফেরত পাওয়ার দাবীতে ওই রাতেই প্রায় আধাঘন্টা ব্যাপী এক সাংবাদিকের অফিস ঘেরাও করে রাখে আটককৃত মাদকব্যাবসায়ীর পরিবারের সদস্যরা। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। জনশ্রুতি রয়েছে এ আলোচিত সাংবাদিকদ্বয়ের মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামী ছাড়াতে পারদর্শী হওয়ায় এলাকায় রয়েছে বেশ কদর। এলাকার মাদকব্যবসায়ীরা তাদের পিছু ছাড়েনা। দিনের বেলায় প্রায় প্রতিনিয়ত দেখা যায় এই সাংবাদিকের মটরসাইকেলের পিছনে রয়েছে চিহ্নিত ইয়াবা ও মাদকব্যবসায়ী গডফাদারদের। যার মধ্যে রয়েছে দর্শনা আমতলার অবৈধ্য নকল মদ কারখানার মালিক ইসলাম, ইয়াবাব্যবসায়ী নয়নসহ চোরাকারবারীরা। আর ফেন্সিডিল ব্যবসায়ীরা তো আছেই। এলাকার সচেতন মহলের দাবী ইয়াবা ব্যবসায়ী নয়নকে রিমান্ডে নিলে বেরিয়ে আসবে এই আলোচিত সাাংবাদিকের আয়ের উৎস কোথায়। মাদক না অন্য কিছু। এ প্রশ্ন এখন দর্শনা বাসীর। এদিকে এ বিষয়ে পুলিশ বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে এএসআই আনোয়ার হোসেন মামলা দায়ের করে ওই রাতেই দামুড়হুদা থানায় সোপর্দ করে। এ ব্যপারে দামুড়হুদা মডেল থানার  অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান জানান, ইয়াবাসহ আটককৃত রাহিদ ও নয়ন নামে দুই মাদকব্যবসায়ীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ইতো পূর্বে ৭/৮ মাস আগে পুলিশ দুই ফেন্সিডিল ব্যবসায়ীকে ধরে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে এলে ঐ পান খেকো আলোচিত সাংবাদিক তাদের মারামারি ঘটনা বা মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। এছাড়া ৪বছর আগে দর্শনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অফির্সাস ইনচার্জ থাকা কালিন দর্শনা হিরা সিনেমা পাশ থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ আজিমপুরের ৫/৬ জনকে পুলিশ ধরে নিয়ে এলে ঐ আলোচিত সাংবাদিক মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসে বলে এলাকবাসী জানায়। এছাড়া ঐ সাংবাদিক মাদকব্যবসায়ীদের নিজেই ধরিয়ে দিয়ে পরে মাদকব্যবসায়ীদের কাছে সাধু সেজে মোটা অংকের টাকা নিয়ে থাকে যা পুলিশ কিছুই জানে না। ইতো পূর্বে যশোরের ডলি নামে এক মহিলা কারে করে ফিন্সিডিল নিয়ে যাওয়ার সময় ঐ আলোচিত সাংবাদিক ধরিয়ে দিয়ে নিজেই সাধু সেজে ঐ সব মালামাল ছাড়াতে যায় বলে অনেকেই জানান। আসলে ঐ আলোচিত সাংবাদিক এসব মাদক চোরাকারবারীদের নিয়ন্ত্রন করছে কি-না তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে এলাকাবাসী মনে করছেন। কারণ ঐ আলোচিত সাংবাদিক আজিমপুর এলাকার প্রতিটি মাদক চোরকারবারীদের নিকট থেকে মাসহারা নিয়ে থাকে বলে জানা গেছে। যখনই কোন চোরাকারবারী তাকে মাসহারা দিতে দেরী করে তখনই এসব চোরকারবারীদের ধরিয়ে দিয়ে নিজে সাধু সেজে মোটা অংকের অর্থ বানিজ্য করে পুলিশের সাথে দেন দরবার করে ছাড়ানোর চেষ্টা করে বলে একটি সূত্র জানিয়েছেন।