চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১০ টাকার জন্য শিশুকে জবাই করে হত্যা!

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২২ ৪:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!


মোজাম্মেল শিশির/এমআর মনি:

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ইয়ামিন হোসেন নামের ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে জবাই করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বেলা ২টার দিকে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের কানাইডাঙ্গা গ্রামের একটি আমবাগানে থেকে শিশুটির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। নিহত ইয়ামিন কানাইডাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের নাতি ও জয়রামপুর গ্রামের সেলিম রেজার ছেলে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের সাথে নানার বাড়িতেই থাকতো ইয়ামিন। ঘটনার পর থেকে ঘাতক জাহিদ পলাতক রয়েছে। অভিযুক্ত জাহিদ হাসান (১৬), কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কানাইডাঙ্গা গ্রামের সাবেক মেম্বার ও গ্রাম্য চিকি]ৎসক আশাদুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবু তারেক, অতিরিক্তি পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস (সদর সার্কেল), দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় অপরাধীকে দ্রুত আটক করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান। আজ রোববার নিহত ইয়ামিনের ময়নাতদন্ত শেষে তার নানা বাড়িতে নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। তবে কোথায় তার দাফনকার্য সম্পন্ন করা হবে সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার দুপুরে বন্ধুদের সাথে বাড়ির পাশের আমবাগানে খেলা করছিলো ইয়ামিন ও তার বড় ভাই ইমন। এসময় ওই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও গ্রাম্য চিকিৎসক আশাদুল ইসলামের ছেলে ও কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র জাহিদুল ইসলাম ৩০টাকা দিয়ে মুড়ি কেনার জন্য ইয়ামিনকে দোকানে পাঠায়। এসময় ইয়ামিন মুড়ি কেনার পর অবশিষ্ট থাকা ১০ টাকা খরচ করে ফেলে। পরে জাহিদুল টাকা ফেরত চাই ইয়ামিনের কাছে। তখন ইয়ামিন টাকা দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দড়ি দিয়ে গাছের সাথে বেধে মারধর করে জাহিদুল। এসময় ছোট ভাইকে মারধর করতে দেখে ইয়ামিনের বড় ভাই ইমন বাড়িতে খবর দিতে ওখান থেকে পালিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে ইয়ামিনের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে শিশু ইয়ামিনের জবাই করা লাশ দেখতে পায়। তখন ওই স্থানে ঘাতক জাহিদও ছিলো। তাকে স্থানীয়রা আটকের চেষ্টা করলে জাহিদরে পরিবারের সদস্যরা জাহিদকে পালাতে সাহায্য করলে সে পালিয়ে যায়।


নিহত শিশু ইয়ামিনের মা রিনা খাতুন ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। এসময় তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে জাহিদ মেরে ফেলেছে। আমার মতো কোনো মায়ের কোল যেন, এভাবে আর খালি না হয়। তাই আমি এই জাহিদের ফাঁসি চাই।’ কথা শেষ করার আগেই তিনি আবারো মূর্ছা যান।।


দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘খবর পেয়েই আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিশু ইয়ামিনকে দেশীয় ধারালো কোনো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। অপরাধীকে দ্রুত আটক করতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ ওসি আরো জানান, ‘ঘটনাস্থল থেকে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।’


এদিকে, শিশু ইয়ামিনের এমন হত্যাকান্ডে কানাইডাঙ্গা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনার পর অত্র এলাকাজুড়ে মানুষের মধ্যে অভিযুক্ত জাহিদসহ তার পরিবার নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা ছিলো দিনভর। ঘাতক জাহিদকে পালাতে তার পরিবারের সদস্যরা সহায়তা করাই সাধারণ মানুষের মধ্যে ছি ছি পড়ে যায়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।