চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৬ জুন ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দামুড়হুদায় লকডাউনের আওতায় আরও ৯টি গ্রাম

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ৬, ২০২১ ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সীমান্তের গ্রামগুলোতে ব্যাপক হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি : ১৩ দিনে মারা গেছেন ৭ জন

চিকিৎসার পাশাপাশি লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে- এমপি টগর
সমীকরণ প্রতিবেদক:
দামুড়হুদা উপজেলায় করোনার ঊর্ধ্বগতি কোনোভাবেই থামছে না। উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নে করোনায় মৃত্যু ও সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সেখানকার সাতটি গ্রামে চার দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের লকডাউন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শনিবার লকডাউনের তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে পাশের কুড়ুলগাছি ও পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ৯টি গ্রাম। এই ৯ গ্রামে গতকাল থেকে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করা হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা করোনা প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুটো পর্যন্ত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুদীপ্ত কুমার সিংহের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলী আজগার টগর। এসময় তিনি সভায় উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন ৯টি গ্রামকে লকডাউনের আওতায় আনার পরামর্শ দেন। এরপর উপজেলা প্রশাসন থেকে লকডাউন ঘোষণাসহ তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জরুরি সভায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী মুনছুর বাবু, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল, দর্শনা পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান, দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল খালেক, দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাব্বুর রহমান এবং উপজেলাধীন সব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত থেকে নিজ নিজ এলাকার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
এই নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ১৬টি গ্রামকে লকডাউনের আওতায় আনা হলো। নতুন করে লকডাউনের আওতায় আনা ৯টি গ্রাম হচ্ছে কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি, চাকুলিয়া ও ঠাকুরপুর এবং পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের ঝাঁঝাঁডাঙ্গা, কামারপাড়া, বারাদী, নাস্তিপুর, ছোট বলদিয়া, বড় বলদিয়া ও মদনা। এর আগে ২ জুন কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের শিবনগর, হরিরামপুর, জাহাজপোতা, পীরপুরকুল্লা, মুন্সীপুর, কুতুবপুর ও হুদাপাড়া গ্রামে লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন।
এদিকে, লকডাউন কার্যকরের পরও মানুষকে ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না। নানা অজুহাতে তাঁরা ঘর থেকে বের হচ্ছেন। চায়ের দোকানসহ মাচায় বসে আড্ডা দিচ্ছেন। কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের লকডাউন ঘোষিত সাতটি গ্রামে গত ৪ দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৭৯ জনকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। নতুন করে লকডাউন দেওয়া ৯টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। অনেকেরই দাবি, ওই ৯টি গ্রামে এখনো লকডাউন দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিত তৈরি হয়নি।
এমপি আলী আজগার টগর জানান, লকডাউনে আটকে পড়া সাত গ্রামের করোনা আক্রান্ত লোকেরা কারণে-অকারণে বিকল্প পথ হিসেবে কুড়ুলগাছি ও পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের এই ৯ গ্রামের রাস্তাকে ব্যবহার করছেন। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে ওই ৯ গ্রামে লকডাউন দিতে হলো। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত মানুষগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও খাদ্যসহায়তার পাশাপাশি লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা রহমান বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে সড়কে প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি মানুষের চলাচল ঠেকাতে পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামাল শুভ সর্বশেষ করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় বর্তমানে ৪২৫ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩১৫ জন। এ পর্যন্ত ১৮ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এখনও ৯৮ জন রোগীর মধ্যে ৮১ জন রোগী বাড়িতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ও ১৭ জন রোগীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গত ২৩ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার আক্রান্তের হার প্রায় ২০%। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোগী ভালো হয়ে বাড়ি ফিরেছে। গত ৫ জুন জাহাপোতা গ্রামের নুরুল হক (৬২), ২৯ মে কার্পাসডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে আব্দুল মান্নান (৬২) ও আরামডাঙ্গা গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী (৫২), ২৭ মে আলম শেখের স্ত্রী আমেনা বেগম (৩৪) ও শিবনগর গ্রামের এক চুল ব্যাসায়ী শরিফুল ইসলাম (২৬) ও উপজেলা বাঘাডাঙ্গা গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে রেজাউল হক (৫২) সহ ৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।