চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৯ অক্টোবর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দামুড়হুদায় পরীক্ষামূলকভাবে পেরিলার চাষ শুরু

সমীকরণ প্রতিবেদক:
অক্টোবর ২৯, ২০২১ ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দামুড়হুদায় উচ্চফলনশীল ভোজ্যতেল ফসল পেরিলার পরীক্ষামূলক চাষ শুরু হয়েছে। এই প্রথম দামুড়হুদায় পেরিলা বাউ-১ জাতের চাষ হলো। এই চাষে সফল হলে একই জমিতে চারটি ফসল ফলাতে পারবেন চাষিরা।

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লোকনাথপুর, দর্শনা, মদনা ও কার্পাসডাঙ্গায় প্রাথমিকভাবে কয়েকজন কৃষক কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে পেরিলা চাষ শুরু করছেন। কৃষকরা এই চাষে সফল হলে উপজেলায় এই চাষ ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়বে। এতে যেমন ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণ হবে, তেমনি আমদানি নির্ভরতা কমে আসবে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইয়াছির আরাফাত লিমন বলেন, কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে পেরিলা চাষ হয়ে থাকে। প্রথমবারের মতো আমাদের এখানে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করা হয়েছে। এই অঞ্চলের মাটি পেরিলা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। পেরিলা থেকে উৎপাদিত তেলের দামও ভালো। এটা ১৮০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া সম্ভব। ফলনও ভালো, বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ৯ মণ ফসল মেলে। আমাদের অঞ্চলে কিছু কৃষি জমিতে সাধারণত তিনটি ফসলের চাষ হয়। এর মাঝের তিন মাস জমিগুলো পড়েই থাকে। সাধারণত উঁচু বেলে-দোআঁশ মাটিতে পেরিলার চাষ ভালো হয়। জুন-জুলাই মাস রোপনের উপযুক্ত সময়। রোপা আউশ ও পাট কাটার পর পতিত জমিতে রোপন করলে জমির একটি বাড়তি ফসল ঘরে উঠবে। ৯০ দিনের ফসল হলেও বীজতলা থেকে চারা তৈরি করে রোপণের ৬০ দিনের মধ্যে উঠে যায়। এসময় সাধারণত কম-বেশি বৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই সেচ তেমন একটা লাগে না। সামান্য সার ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হয়।
মদনা গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বীজ নিয়ে নিজেই চারা তৈরি করে এক বিঘা জমিতে পেরিলার চাষ করেছেন। তার গাছও খুব ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে গাছে ফুল-ফল আসতে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত তার খরচ বীজ বাদে সার ও বালাইনাশকসহ সাড়ে ৪ হাজার টাকার মতো। গাছ ও ফুল-ফল দেখে মনে হচ্ছে ফলন ভালো হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মনিরুজ্জামান বলেন, পেরিলার শতকরা ৬৫ ভাগেই মেলে ও মেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এর তেল আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী। বিশেষ করে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকসহ ডায়াবেটিস রোগে এটি খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। পেরিলার তেল স্বাস্থ্যসম্মত। এর পাতা সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। এতে সরিষা বা অন্যান্য তেলে ইউরেসিক অ্যাসিড থাকলেও এই তেলে তা নেই। তাই পেরিলা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে চাষিদের বিনামূলে বীজ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকজন চাষি চাষ করেছেন। আমরা তাদের খেত নিয়মিত দেখাশোনা করে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। আশা করছি আমরা সফল হবো। সফল হলে বাজার দর ভালো হওয়ায় কৃষকারা এটি চাষের দিকে ঝুঁকবেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।