দামুড়হুদায় গাছে গাছে ফুটেছে সজনে ফুল

23

মোজাম্মেল শিশির:
দামুড়হুদা উপজেলায় সজনে গাছের ডালে ডালে ব্যাপক ফুল ফুটেছে। গাছে গাছে ব্যাপক ফুল দেখে এবার সজনে ডাটার বা¤পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বা¤পার ফলনের আশায় বাড়ি বাড়ি ও বাগানে বাগানে ফুটেছে ফুল। ব্যবসায়ীরা গিয়ে আগাম গাছের সজনে কিনছেন। আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার গত কয়েক বছরের চেয়ে বেশি উৎপাদন হবে আশা করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন আগাম গাছ কেনা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, এবার চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে এবং দামুড়হুদা উপজেলার গ্রামে-গ্রামে সবখানে গাছে গাছে প্রচুর পরিমাণে সজনে ডাটার ফুল ফুটেছে। স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন হাট-বাজারে সজনে ডাটার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মুখোরচক ও পুষ্টিগুনে ভরপুর সজনে ডাটা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি করা হয়ে থাকে। বাজারে অন্যান্যে সবজির চেয়ে সজনের দাম বেশি। তবে এবার গাছে গছে যেভাবে ফুল ফুটেছে, তাতে গতবারের চেয়ে এবার দাম একটু কমতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। অন্যান্য সবজির চেয়ে সজনে ডাটা পুষ্টিগুণ ও স্বাদে বেশি হওয়ায় যে কোনো বয়সের মানুষ সজনে খেতে ভালোবাসেন। চিকিৎসকদে মতে, সজনে সবজিতে ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ, আয়রনসহ প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় খাদ্য রয়েছে।
এ ছাড়া ভিটামিন ‘এ’ ‘বি’ ও ‘সি’ সমৃদ্ধ সজনে ডাটা মানদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী । শরীরের পুষ্টির জন্য গর্ভবতী ও প্রসূয়তি মায়েদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে বলে সজনে ডাটা ওষুধি সবজি হিসেবেও ব্যাপক সমৃদ্ধ। এছাড়া গাছের ছাল এবং পাতা পেটের পিড়া ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। সজনেডাটা প্রধানত দুই প্রজাতির। এরমধ্যে এক প্রজাতির বছরে তিন থেকে চার বার পাওয়া যায়। সজনে গাছ যে কোনো পতিত জমি, পুকুর পাড় রাস্তার বা বাধের ধারে বাড়ির আ‘িনা এমনকি শহর বন্দরের যে কোনো ফাঁকা জায়গায় লাগানো যায়। এর কোনো বীজ বা চারার প্রয়োজন হয় না। গাছের ডাল কেটে মাটিতে পুতে রাখলেই সজনে গাছ জম্মায়। সজনে গাছের কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। অযন্তে অবহেলায় প্রকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে গাছ। বড় ও মাঝারি ধরনে একটি গাছে পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত সজনে পাওয়া য়ায়। বিনা খরছে অধিক আয় হওয়ায় অনিকেই ব্যাণিজ্যিকভাবে সজনে চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দামুড়হুদা উপজেলার মাটি, পানি ও আবহাওয়া সজনে চাষের জন্য উপযোগী। সব গাছ থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার টন সজনে উৎপাদন হয়।
এ ব্যাপারে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই উপজেলায় মাটি ও আবহাওয়া সজনে চাষে উপযোগী। এখানে ব্যাণিজ্যিকভাবে সজনে চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ফলে অনেকে আম, জাম, কাঠার লিচু বাগানের মতো এখন সজনে গাছের বাগান করতে শুরু করেছেন। দেশের অনেক উপজেলায় এখানকার সজনে গাছের ডাল পাঠানো হয়েছে।