দামুড়হুদায় কলাগাছ দিয়ে তৈরি হচ্ছে সুতা!

33

আওয়াল হোসেন:
দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামে কলাগাছ দিয়ে তৈরি হচ্ছে আঁশযুক্ত সুতা। দেশীয় প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎচালিত মেশিন দিয়ে এই সুতা প্রস্তুত শুরু করেছেন শাহিন আলী নামের এক বেকার যুবক। ইতোমধ্যে তৈরি সুতার মজুদ শুরু করছেন এই তরুণ উদ্যোক্তা।
শাহিন আলী মনে করেন, সরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে কলাগাছের সুতা পাল্টে দিতে পারে এ অঞ্চলের বেকার যুবকদের ভাগ্য। শাহিন আলী জানান, সরকারিভাবে নানা প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস পেলেও আজ অবদি কোনো প্রকার সহযোগিতা পাননি তিনি। ফলে অর্থের অভাবে কলাগাছের সুতা দিয়ে কুটিরশিল্প বা বড় ধরণের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন ব্যহত হচ্ছে। এরপরও মফস্বলের গ্রাম থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন শাহিন আলী।
জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে পাটাচোরা গ্রামের সারজেল আলী মণ্ডলের ছেলে শাহিন আলী বিদেশ থেকে দেশে ফিরে কলাগাছের সুতা তৈরি করে নানা ধরণের পন্য ও শোপিচ তৈরি ও সুতা বিক্রি করে আসছেন।
এবিষয় শাহিন আলী বলেন, ‘শোপিচ ও পণ্যের মধ্যে রয়েছে টুপি, নৌকা, পাপস, স্যান্ডেল, ছিকা, শপিং ব্যাগ, কলমদানী, ডিম রাখার পাত্র প্রভৃতি। এসব শোপিচ তৈরির জন্য আমার ১০-১২ জন শ্রমিক রয়েছে। যাদেরকে সুতার ১ শ হাত বেনি তৈরি করতে ৫০ টাকা করে দিয়ে থাকি। আগামীতে পারটেক্সসহ বড় ধরণের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক অবস্থায় ২৫০ জনের শ্রমিক নিয়ে কাজ শুরু করার জন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করেছি। তবে অর্থের অভাবে এগুতে পারছি না। কলাগাছের সুতা বিক্রি করে ইতোমধ্যে প্রায় দেড় লাখ আয় করেছি। তবে করোনার কারণে সুতাগুলো বিক্রি করতে পারছি না। এছাড়া সুতা নিয়ে ক্রেতারা ভালো মূল্যে দিচ্ছে না। ফলে আমি চিন্তা করেছি, আমি এ সুতা দিয়ে বড় ধরণের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব।’
শাহিন আলী জানান, ‘দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান স্যার আমাকে সবসময় উৎসাহিত করে যাচ্ছে এবং সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। এছাড়া বিসিক থেকে একটি ঋণের জন্য আবেদন করেছি। কৃষি মন্ত্রণালয়ে একজন সচিব এসে আমাকে এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সহযোগিতার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে। জানি না কী হবে। এ কলাগাছের সুতা দিয়ে সামনে আমার একটি চমক আছে, এখন প্রকাশ করছি না। সুযোগ পেলে দেখিয়ে দেব যে গ্রাম থেকেও শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। তবে করোনার কারণে এবং অর্থের যোগান না পাওয়ার কারণে আমি আমার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছি না।’
এবিষয় দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘তরুণ শাহিন আলীকে কৃষি উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বিক সহযোগিতা করব। ইত্যেমধ্যে আমাদের ২৫ জনকে নিয়ে একটি আইসিটি স্কুল গড়ে তুলেছি। কলার সুতা দিয়ে এ অঞ্চলে কুটির শিল্পসহ বড় ধরণের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটাকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে বলে আমি আশাবাদী। এ বিয়ষ আমার সাধ্যমতো শাহিন আলীকে আমি সহযোগিতা করে যাব।’