চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৮ জুলাই ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দামুড়হুদার বৃক্ষ মেলা এখন বাণিজ্য মেলায় পরিণত

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ২৮, ২০১৭ ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বৃক্ষ মেলা
নিয়ম ভেঙ্গে মেলার মাঠ ইজারা : বৃক্ষ মেলা এখন বাণিজ্য মেলায় পরিণত
দামুড়হুদা প্রতিনিধি: দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে চলছে বৃক্ষ মেলার নামে বানিজ্য মেলা। অনুসন্ধানে জানাগেছে, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের আয়োজনে ২৬ শে জুলাই উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান মাও. আজিজুর রহমান। সরকারি অর্থায়নে এ মেলায় শুধুমাত্র গাছ-গাছালির জন্যে বিনামুল্যে স্টল বরাদ্দের কথা থাকলেও মেলার মাঠ দামুড়হুদা বাজারের মসলেম ও রাজ্জাককে ইজারা নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে মেলার মাঠে গেলে জানা যায়, বৃক্ষ মেলায় গাছের স্টল আছে মাত্র ৭/৮ টি আর প্রসাধনি ও খেলাধুলার সামগ্রীর স্টল অর্ধশতাধিক। এছাড়াও বসেছে নাগরদোলা, মটরসাইকেল খেলা, যাদু খেলা, বিভিন্ন খাবারের স্টল ইত্যাদি। এছাড়া মেলায় স্টলের জন্যে প্রতি এক হাত জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩শ থেকে ৪ শত টাকার বিনিময়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন দোকানী জানান, চটপটি ও ফুচকার দোকানদারদের কাছে মেলার পাঁচ দিনে ৬ থেকে ৭হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। বাদাম ও ঝাঁলমুড়ি বিক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩০০ টাকা হারে চাঁদা তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার সুফি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান জানান, বৃক্ষ মেলায় টাকার বিনিময়ে স্টল বরাদ্দ বা কোন রকম ইজারার কোন নিয়ম নেই।
মেলা উৎযাপন কমিটির সভাপতি ও দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন বৃক্ষ মেলায় অন্য কোন স্টল দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোপ পেলে আাইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও মেলা উৎযাপন উপকমিটির সদস্য এম নুরুন্নবী বললেন বৃক্ষ মেলাকে বানিজ্য মেলায় রুপ দেওয়া মোটেও কাম্য নয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের দামুড়হুদা বৃক্ষমেলাকে বানিজ্য মেলায় রুপ দেওয়ায় বহুল আলোচিত মেধাবী স্কুল ছাত্র সজীব অপহরন হয়। অপহরনের কিছুদিন পর সজীবের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়। এলাকার সচেতন অভিভাবক মহলের আশঙ্কা সজীবের মত এই মেলার মাঠ থেকে কেউ যেন অপহরনের শিকার না হয়।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।