দলিল লেখকদের প্রতিবাদ, কলম বিরতি

9

মুজিবনগরে অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা না দিলে হয় না স্বাক্ষর

প্রতিবেদক, মেহেরপুর:
অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা না দিলে দলিলে স্বাক্ষর করেন না মুজিবনগর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অভিজিত কর। এমন অভিযোগ এনে গতকাল বুধবার দিনব্যাপী কলমবিরতি পালন করেন মুজিবনগর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখকরা। তাঁদের অভিযোগ, দলিল প্রতি অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা না দিলে দলিলে স্বাক্ষর করবেন না সাব-রেজিস্ট্রার। এছাড়াও ‘লকডাউনের’ কারণে সাব-রেজিস্ট্রারের পরিবর্তে অফিস সহকারী স্বাক্ষর করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। যেখানে বলা হয়েছে- দিনে ১৭টি করে দলিল স্বাক্ষর করা হবে। তবে বৃহস্পতিবার বেলা ২টা পর্যন্ত ৫টি মাত্র দলিলে স্বাক্ষর করেন সাব-রেজিস্ট্রার অভিজিত কর। এ নিয়ে দলিল লেখকদের সঙ্গে তার কথাকাটিও হয়।
দলিল লেখক রকিবুল, জামিরুল, সাইফুল ও শহিদুল জানান, ‘সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে দলিলে স্বাক্ষর করতে গেলে তিনি আমাদেরকে বলেন, লকডাউনের কারণে দলিল প্রতি ২ হাজার টাকা বেশি না দিলে স্বাক্ষর করব না। বেলা ২টা পর্যন্ত মাত্র ৫টি দলিল করার পর বাকি দলিলগুলো টাকা ছাড়া স্বাক্ষর না করায় কলমবিরতি নেওয়ার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আফাজ উদ্দীন জানান, ‘আমার দলিল নিয়ে তাঁর কাছে স্বাক্ষর করাতে গেলে তিনি বলেন অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা করে দিতে হবে। কিন্তু আমরা টাকা দিতে রাজি না হলে তিনি দলিল রেখে চলে যান।’
সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম জানান, ‘তিনি আমাদের সাথে প্রতিনিয়ত এরকম করতে থাকেন। আজকেও তিনি টাকা দেওয়ার বিষয়ে আমাদের চাপ দিতে থাকেন। আমরা টাকা না দেওয়ায় তিনি স্বাক্ষর করবেন না বলে জানান। তাই আমরা শেষ পর্যন্ত কলমবিরতির এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলাম।’
দলিল লেখকদের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আমি দলিলে স্বাক্ষর করার বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো টাকা চাইনি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সীমিত আকারে জরুরি দলিল ছাড়া বাড়তি কোনো দলিল না রেজিস্ট্রি করতে চাওয়ায় তারা এমন অভিযোগ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে অফিস নোটিস বোর্ডে টাঙানো নোটিশে বলা হয়েছে যে আজ ১৭টি দলিল রেজিস্ট্রি করা হবে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি সঠিক উত্তর না দিতে পেরে শেষ পর্যন্ত ১৭টি দলিল রেজিস্ট্রি করে দিবেন বলে স্বীকার করে দলিলগুলি রেজিস্ট্রি করে দেন।’