চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১০ জানুয়ারি ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দর্শনা হল্ট স্টেশন এলাকাই হঠাৎ করেই উৎসুক জনতার ভীড় অসুস্থ্য পিতাকে কাঁধে নিয়ে সন্তানের সাহায্যের আবেদন

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ১০, ২০১৭ ১:১৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

‡‡ywওয়াসিম রয়েল: গতকাল সকাল ১১টার দিকে দর্শনা হল্ট স্টেশন এলাকাই হঠাৎ করেই উৎসুক জনতার ভীড়। কাছে গেলে অবাক করা একটি দৃশ্য চোখে পড়ে। অসুস্থ্য এক পিতাকে কাঁধে নিয়ে সাহায্যের জন্য করুন কন্ঠে আবেদন নিবেদন করছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। অসুস্থ্য পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের যে কত বড় দায়িত্ব এই দৃশ্য না দেখলে বোঝা যাবে না। ইমনের এই করুন পরিনতির কথা শুনতে চাইলে তিনি দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রতিনিধিকে জানান পেড়াদাহ হালসার শাকদার চর গ্রামের বাসিন্দা ইমন আলী (২৮) ও তার পিতা সামসুল ইসলাম (৫০)। ইমন আলী আরও জানাই তার বয়স যখন ১১ বছর ৫ম শ্রেণীতে পড়ে তখন তার মা মারা গেছে। পড়াশুনা করার সুযোগ আর হয়নি। ছোট থেকেই দিন মজুর পিতার সাথে হাতে হাত দিয়ে কাজ করে এসেছি। সংসারে মা না থাকাটা কোন দিন বুঝতেই পারিনি বাবার আদর ভালোবাসায়। ভালোই ছিলাম আমি আর বাবা। উপার্জন কম হলেও অভাব ও দারিদ্রের কালো থাবা আমাদের স্পর্শ করতে পারিনি। হঠাৎ করেই ২০১৩ সালে জানুয়ারী মাসে ৬ তারিখে বাবার জর আসে। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য গ্রামের ডাক্তারের কাছে গেলে তাৎক্ষনিক চিকিৎসাই কয়েক দিনের ভিতরে সুস্থ হয়ে যায়। একই মাসের ২২ তারিখে রাতে ঘুমানোর পর সকালে উঠতে যেয়ে আর দু পায়ে শক্তি পাই না। চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তারগণ বলেন উনি আর ভালো হবেন না। উনার প্যারালাইসিস হয়ে গেছে। তখন থেকে বুঝলাম ভালোবাসার বাবা-মায়ের অভাব পূরন করা বাবা আর চলাফেরা করতে পারবে না। জীবন যুদ্ধের কঠিন বাস্তবকে মেনে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসলাম বাবাকে। জীবনের অনেকটা কঠিন সময় পার করে আবার হঠাৎ করে বাবার নতুন নতুন অসুখ শরীর কে আক্রান্ত করছে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। ডাক্তার বলেন অনেক অর্থের বিনিময়ে কেমো থেরাপী দিয়ে রোগীকে সুস্থ রাখা সম্ভব। প্রথমে একটা থেরাপী দিলে কিছুদিন সুস্থ থাকবে। এ কথা শুনে বাড়িতে এসে শেষ সম্বল ২কাঠা ভিটাজমি বিক্রি করে দিলাম এবং থেরাপী দিয়ে এখন আপাতত কিছুটা সুস্থ আছে। কিন্তু চিকিৎসা থেমে নেয়। এই ব্যায়বহুল চিকিৎসার জন্য আমাকে হিমসিম খেতে হচ্ছে। দিনমুজুরী করে অল্প টাকায় না পারছি খেতে না পারছি ঔষধ কিনতে। এই জন্যে বাবাকে কাঁধে নিয়ে ট্রেনে ট্রেনে পথে পথে ঘুরছি সাহায্যের জন্য যাতে করে দু বেলা দু মুঠো ভাত খেয়ে কিছু টাকা উদ্বৃত্ত করে আর একটি থেরাপী দেওয়া যায় তাহলে আরও কিছুদিন সুস্থ থাকবে। জীবনের সাথে যুদ্ধ করতে করতে ইমনের চোখে ক্লান্তি দেখা গেলেও মুখে ও মনে অনেক শক্তি দেখা যায়। ছোট বেলায় মাকে হারানোর পর বাবার ভালোবাসায় তাকে শিখিয়েছে বাবাই তার বাবা আর বাবাই তার মা। একটি হারালেও আরেকটি হারাতে চাই না। জীবনের এই কঠিন বাস্তবতা খুব সহজেই মেনে নিয়ে বলে অত সহজেই আমি হার মানছি না। আর কত কষ্ট বেদনা আমাকে পরীক্ষা করবে সেটাও দেখবো।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।