চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৯ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দর্শনা থানার ইন্সপেক্টর শামসুদ্দোহার জামিন না মঞ্জুর

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ৯, ২০২২ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদক:

স্ত্রীর করা যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) মো. শামসুদ্দোহার (৪০) জামিন না মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত সোমবার (৭ মার্চ) তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ফরিদপুরের জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সেলিম মিয়া। ফরিদপুর জজ আদালতের আইনজীবী শাহ মো. আবু জাফর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, এর আগে নিম্ন আদালত ওই কর্মকর্তার জামিন নামঞ্জুর করলে তিনি আদেশের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন। পরে দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সেলিম মিয়া তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) শামসুদ্দোহাকে ঢাকার রাজাবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরে তাঁকে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরে আনা হয়। ঢাকার খিলক্ষেত এলাকার বিকান লেকসিটি, কনকর্ড টাওয়ারে তাঁর একটি ফ্ল্যাট ছিল। ছুটিতে তিনি ওই বাসায় অবস্থান করতেন। শামসুদ্দোহা গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার পশ্চিম গোপীনাথপুর গ্রামের নুরুদ্দিন আহম্মেদের ছেলে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, শামসুদ্দোহা চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্ত্রী ফারজানা খন্দকার তুলির করা নারী নির্যাতন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, পারিবারিক মধ্যস্থতায় ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট আগস্ট ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার ফারুক আহমেদের মেয়ে ফারজানা আক্তার তুলির সঙ্গে বিয়ে হয় শামসুদ্দোহার। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই স্বামীর ভেতর লুকিয়ে থাকা কুৎসিত মানুষটিকে চিনতে শুরু করেন তুলি। তারপরও তিনি স্বামীর সংসারে থেকে যান। অন্ধকার অধ্যায় পরিবারের কাছে আড়াল করে বিপথগামী স্বামীকে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রাণপণ চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু তা খুব বেশি কাজে আসেনি। আরও জানা যায়, মাদক ও পরকীয়ায় আসক্ত শামসুদ্দোহা যৌতুকের দাবিতে তাঁর ওপর শুরু করেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার কথা বলে তিনি ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কয়েক দফায় ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার পরও তাঁর আচরণে কোনো পরিবর্তন না আসায় স্বামীর অপকর্মের বিষয়ে মুখ খোলেন তুলি।

এ অবস্থায় তিনি গর্ভবতী হন। ২০২০ সালে তুলির গর্ভে জন্ম নেয় ফুটফুটে পুত্রসন্তান। তখন তুলি মনে করেন ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে হয়ত সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন শামসুদ্দোহা। কিন্তু সেটি আর হয়নি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ফরিদপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তুলির কাছে ফের ১৫ লাখ টাকা যৌতুক চান শামসুদ্দোহা। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ১৩ ডিসেম্বর তুলিকে পিটিয়ে আহত করে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যান শামসুদ্দোহা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় ২০২২ সালের গত ৯ ফেব্রুয়ারি তুলি বাদী হয়ে ফরিদপুরে শামসুদ্দোহাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর গত (১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি) ৭ দিনের ছুটি নেন ওসি (তদন্ত) শামসুদ্দোহা। ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানায় যোগদান না করে পালিয়ে ছিলেন। অবশেষে শামসুদ্দোহা পুলিশ হয়ে যে দম্ভক্তিতে অপরাধ করেছেন, তার সমাপ্তি ঘটিয়েছে পুলিশই। তবে গত ২৭ জানুয়ারি স্ত্রীকে ডাকযোগে ডিভোর্স লেটার পাঠান শামসুদ্দোহা।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।