চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৮ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দর্শনা চিনিকল এলাকায় আঁখের মূল্য বৃদ্ধি ও বকেয়া পরিশোধের দাবিতে আঁখ চাষীদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ২৮, ২০১৬ ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দর্শনা অফিস: দামুড়হুদা উপজেলায় আঁখের মুল্য বৃদ্ধি, ঢলতার বকেয়া টাকা পরিশোধ, ই-পূর্জি ব্যবস্থা বাতিল এবং শিওর ক্যাশের মাধ্যমে আঁখ বিক্রির টাকা প্রদান না করাসহ ১১দফা দাবিতে আখ চাষীরা দর্শনায় মাননবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় কেরু চিনিকল আঁখচাষী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে দর্শনা প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে চাষীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে দর্শনা কেরু চিনিকল এলাকার প্রায় দু’শতাধিক আঁখচাষী অংশ নেন। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখেন আঁখচাষী কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা আকমত আলী, শহিদুল ইসলাম, হুমায়ন আহম্মেদ, জাকির চৌধুরী, নিজাম উদ্দীন, সহ-সভাপতি ওমার আলী, সহ-সম্পাদক আব্দুল বারী, সদস্য আমির হোসেন, ফরিদ উদ্দিন, আব্দুল কাদের, মিল্টন কুমার প্রমূখ। বক্তারা হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে চাষীদের ঢলতা কর্তনের চার বছরের পাওনার ১৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হবে। সেই সাথে চলতি মাড়াই মৌসুমে আঁখের মূল্য মণপ্রতি ১’ম ৫০ টাকা দিতে হবে। ই-পুর্জি ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। চাষীদের আঁখ বিক্রির টাকা শিওর ক্যাশে নয়, নগদে মিলস গেইট থেকে দিতে হবে। নতুবা ২৮ নভেম্বর রবিবার থেকে কেরু চিনিকলের মাড়াই মৌসুম শুরু হলেও চাষীরা এবার মিলে আঁখ সরবরাহ বন্ধ রাখবে। কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম আরশাদ হোসেন জানান, গত ২০০৭ সালের ২৯ মে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশনের বোর্ডের সভায় সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় চাষীদের প্রতি পূর্জির নির্ধারিত ওজনের অতিরিক্ত আখ সরবরাহের ক্ষেত্রে ঢলতা আখ কর্তনের ৫০ শতাংশ অর্থ স্থানীয় আখচাষীদের কল্যাণ সংস্থা পাবে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ অর্থ মিলের বিবিধ আয় হিসেবে মিল ফান্ডে জমা হবে। সে অনুযায়ী গত ২০১৫-১৬ মাড়াই মৌসুমে কেরুজ মিলস গেট আঁখচাষী কল্যাণ সংস্থাকে ঢলতা আঁখের ৫০ শতাংশ অর্থ সর্ম্পূণ পরিশোধ করা হয়েছে। আঁখচাষীদের স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য একটি হাসপাতাল নির্মানের জন্য আঁখচাষী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়। তাদের ন্যায় সঙ্গত দাবি বাস্তবায়নের জন্য কেরুজ নিজস্ব জমিতে কেরু চিনিকল কর্র্তৃপক্ষ ও আঁখচাষী কল্যাণ সংস্থার যৌথ উদ্দ্যোগে দর্শনা মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মান করা হয়। হাসপাতালটি বাস্তবায়নের জন্য আঁখচাষী কল্যাণ সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে ০২/০৮/২০১০ তারিখে ১৯২০তম এবং ১৪/০৫/২০১২ তারিখে ২০০৫ তম চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের র্বোড সভায় ২০০৮-২০০৯ থেকে ২০১০-২০১১ মৌসুমের ঢলতার আঁখের শতভাগ অর্থ পরিশোধের অনুরোধ করা হয়। চিনি শিল্প সংস্থার পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১১-১২ থেকে ২০১৫-১৬ মৌসুম পর্যন্ত ৫০ শতাংশ ঢলতা আঁেখর অর্থ ১২ লাখ ৯০ হাজার ২০৮ টাকা কেরুজ আঁখচাষী কল্যাণ সংস্থাকে পরিশোধ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ মিলের আয় হিসেবে হিসাব ভুক্ত করে চূড়ান্ত হিসাব নিকাশ সম্পূর্ণ করা হয়েছে। আখঁচাষী কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে ১৬ লখাধিক টাকা ঢলতা আঁেখর মূল্যে বকেয়া দেখিয়ে অযৌতিক দাবি উপস্থাপন করে। সাধারণ আঁখচাষী ভাইদের মধ্যে দিধা দ্বন্দের সৃষ্ঠি হতে পারে। সে কারণে বিষয়টি আঁখচাষী ভাইদেরর জ্ঞার্তাথে জানাচ্ছি। এছাড়া ২০০৭ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢলতা আঁেখর মুল্যে পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আঁখচাষী ভাইয়েরা চিনিকলের চালিকা শক্তি। তাদের ন্যায় সঙ্গত দাবির প্রতি আমাদের সমর্থন সবসময় থাকবে। এছাড়া কিছু সরকারী সিদ্ধান্ত থাকে যেগুলো আমাদের পক্ষে পূরন করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে আখের মুল্যে বৃদ্ধি, আর শিওর ক্যাশের বিষয়টি ধীরে ধীরে চাষীরা শিখে নেবে আশাকরি। বর্তমান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে চলতি মৌসুমে ই-পূর্জি, ই-গেজেট এবং আখেঁর মুল্যে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে আখেঁর মুল্যে পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি যদিও এবার প্রথম। এছাড়া উভয় পক্ষ বিষয়টি নিয়ে বসলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।