চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২২ জুলাই ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পনীর (বাংলাদেশ) লিমিটেডের : ঐতিহ্য ও অজানা ইতিহাস

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ২২, ২০১৭ ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আওয়াল হোসেন: দর্শনাকে ঘিরে ১৯৩৮ সালে দর্শনা কেরু এ্যান্ড কোম্পানী প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সেই থেকে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে কেরু এ্যান্ড কোম্পানীর আবদান অনেক। দর্শনাকে সমৃদ্ধ করতে ইংরেজ সরকার এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলে তার আদি ইতিহাস সর্ম্পকে জানা যায়। ১৯৩৮ সালে জন্ম হলেও ১৮০৫ সালে জন ম্যাসওয়েল নামে এক ইংরেজ কেরু কোম্পানী প্রথম গড়ে উঠে ভারতের কানপুরের জাগমুতে প্রথম মদের কারখান। তবে ঐ প্রতিষ্ঠানটি নাম কেরু কোঃ হয়নি। এই কারখানাটি পরপর দুইবার জায়গা বদলের পর ১৮৩৭ সালে উত্তর ভারতের আখ চাষ সমৃদ্ধি এলাকা রোজা নামক স্থানে শক্ত করে আসন গেড়ে বসে। এর দুই বছর পর শুরু হয় ঐ কারখানায় আখ মাড়াই শুরু হয় চিনি উৎপাদন। এরপর ঐ চিনিকলের মালিক জন ম্যাকসওয়েল তার পুত্র জন অ্যাডাম ম্যাকসওয়েলের সঙ্গে ব্যবসায় যোগ দেয় শিল্প প্রতিষ্ঠান মের্সাস ফারগুসনস এ্যান্ড কোম্পানী। ১৮৪৪ সালে ক্যাপ্টন ব্যারেন নামে আর এক ভদ্রলোক ব্যবসায়ীক লক্ষ্যে যোগ দেন ঐ কোম্পানীতে। সব মিলিয়ে তখন ঐ কোম্পানীর নাম দেওয়া হয় ব্যারেন অ্যান্ড কোঃ। ১৮৪৭ সালের ১১ মার্চ রর্বাট রাশেল কেরু ঐ কোম্পানীতে যোগ দেন। মিঃ কেরু যোগ দেওয়ার পর ঐ প্রতিষ্ঠানের রূপ পাল্টাতে শুরু করে। কিন্তু এমন অবস্থার মধ্যে মিঃ ব্যারেন মৃত্যু বরণ করেন। তখন কোম্পানীর এজেন্ট লায়ার ম্যাথিসন অ্যান্ড কোম্পানীকে যে প্রতিষ্টান জন ব্যারেন স্যান্ডারস কোম্পানীকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছিল সেখান থেকে ঋণের অর্থ দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ঐ কোম্পানী কলকাতায় বিক্রী করে দেওয়ার কথা ওঠে। তখন মিঃ কেরু এই সুযোগে গ্রহন করে মিঃ লায়াল ও মিঃ জন রনির সঙ্গে যোগ দিয়ে কিনে নেন চিনির কারখানাটি। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় কারখানাটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তা আবার পূননির্মান করা হয়। ঐসময় প্রতম ঐ প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয় কেরু অ্যান্ড কোম্পানী লিমিটেড। রোজাতে ঐ চিনি কারখানায় সাফল্যের মূখ দেখার পর ভারতের আসানসোল ও কাটনীতে এর শাখ স্থাপিত করা হয়। এরপর ১৯৩৮ সালে আরকটি শাখা স্থাপিত করা হয় তৎকালীন পূর্ব বাংলার দর্শনায়। যে শাখাটির নাম দেওয়া হয় কেরু এ্যান্ড কোম্পানী (পূর্ব বাংলা) লিমিটেড। ঐ সময় দৈনিক ১হাজার টন ইক্ষু মাড়াই করে এলপিজি স্পিরিট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পূর্ণ সুগার ফ্যাক্টারী ডিস্ট্রিলারী স্থাপন করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর এর নাম করণ করা হয় কেরু এ্যান্ড কোম্পানী (পাকিস্তান) লিমিটেড। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম হলে এ কোম্পানীর নামকরণ করা হয় কেরু এ্যান্ড কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড। তৎকালীন রাষ্ট্রপতির আদেশে ২৭ ও ৫১ নং এর মাধ্যামে সেক্টর করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় জাতীকরণকৃত শিল্প প্রতিষ্ঠানে গণ্য করা হয়েছে। বর্তমানে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের একটি প্রতিষ্ঠান।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।