দর্শনা কাস্টমস গোডাউনের কোটি টাকার মালামাল লোপাট

521

সন্দিগ্ধ গোডাউন অফিসার শামীম সরকার : কিছুই জানেন না ডিসি কাস্টমস ও সুপার
বিশেষ প্রতিবেদক: দর্শনা কাস্টমস গোডাউনে রক্ষিত মূল্যবান সামগ্রি লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি কতৃক আটককৃত এসব মালামালের মধ্যে রয়েছে রুপা, দামি বেনারসি শাড়ী, ব্রোঞ্জের মূর্তি, ইমিটেশন গহণা, ডায়িং কারখানায় ব্যবহৃত কেমিক্যাল, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ইত্যাদি। লোপাটকৃত এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এসব মালামাল লোপাটে গোডাউন অফিসার শামীম সরকারের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, গত ২৬/১০/১৭ইং তারিখে বিজিবি কতৃক আটককৃত ৪৫ কেজি রুপা দর্শনা কাস্টমস এ জমা দেয়া হয়। গোডাউন অফিসার শামীম সরকার ওই রুপা আগেই দর্শনার এক ব্যাক্তির নিকট প্রতি ভরি এক হাজার টাকা মূল্যে সর্বমোট ৩৮ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন এবং ব্যাংকে জমা দেয়ার সময় আসল রুপার পরিবর্তে নকল রুপা জমা দেন। একইভাবে তিনি গত ২৩/০৯/২০১৭ইং তারিখে ১ হাজার পিস ভারতীয় বেনারসি শাড়ী দর্শনার আরেক ব্যাক্তির নিকট প্রতিটি ৪ হাজার টাকা মূল্যে সর্বমোট ৪০ লক্ষ টাকায় বিক্রয় করে দেন। প্রতিটি শাড়ীর আনুমানিক বাজার মূল্য ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং এর পরিবর্তে একই সংখ্যার নি¤œ মানের ৪-৫শ’টাকা মূল্যের শাড়ী সেখানে মজুত রাখেন। শামিম সরকারের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তিনি গত ০৩/১২/১৭ ইং তারিখে ঢাকার এক ব্যাক্তির নিকট ৫ লক্ষ টাকা মূল্যে এক সেট ব্রোঞ্জের গনেশ মূর্তি বিক্রি করেন এবং কতৃপক্ষের নজর ফাঁকি দিতে সরকারি রেজিস্টারে মূর্তির স্থলে পূজার সামগ্রি লিপিবদ্ধ করেন। এ ছাড়াও তিনি গোডাউনে রক্ষিত ৩৪ কেজি ইমিটেশন গহণার মধ্যে ২০ কেজি ৬০০ গ্রাম গহণা বিক্রয় করে দেন এবং রেজিস্টারে ৩৪ কেজিকে ঘঁষামাজা করে ১৩ কেজি ৪০০ গ্রাম বানান। অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন সময়ে আটক নানা ধরণের কেমিক্যাল ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটও তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রিত এসব মালের আনুমানিক মূল্য কোটি টাকার উপর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য একটি সূত্র জানায়, গত ৩০ ডিসেম্বর’১৭ইং তারিখে গোডাউন অফিসার শামীম সরকারের স্থলে নতুন গোডাউন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম যোগদান করেন। এর ২/৩দিন পর নতুন গোডাউন অফিসার দায়িত্বভার গ্রহণের পাশাপাশি গোডাউনের মালামাল বুঝে নিতে গেলে বিপত্তি বাঁধে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর প্রেক্ষিতে গোডাউন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ বরাবর লিখিত নালিশও করেন। গোডাউনের মালামাল সম্পূর্ণরুপে বুঝে না পাওয়ায় এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে পূণরায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।
এ ব্যাপারে গোডাউন অফিসার শামীম সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি সবকিছু নতুন গোডাউন অফিসারকে বুঝিয়ে দিয়েছি। এ ছাড়া যদি কোন তথ্য জানার থাকে তাহলে লিখিতভাবে আমার উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে আবেদন করে জানতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোন স্মাগলারের কথা মত কোন রিপোর্ট করবেন না।’ তথ্যসূত্র স্মাগলার এটা কেমন করে নিশ্চিত হলেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন এবং পরবর্তীতে আর ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে গতকাল রাত ৯টা ১৯মিনিট সময় দর্শনার জনৈক এক ব্যাক্তি সদ্ধিগ্ধ শামীম সরকারের পক্ষ নিয়ে এই প্রতিবেদকের মোবাইলে ফোন দেন এবং সংবাদের তথ্যসূত্র জানতে চান।
এ প্রসঙ্গে কামস্টস সুপার আলী আহমদ বলেন, ‘কাস্টমস গোডাউনে রক্ষিত মালামালের হিসাব গোডাউন অফিসার সংরক্ষণ করেন এবং তিনিই মালামালের সঠিক তথ্য দিতে পারবেন। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উভয় গোডাউন অফিসারের বিরুদ্ধে সৃষ্ট বচসার প্রেক্ষিতে বর্তমান গোডাউন অফিসার উর্দ্ধতন কতৃপক্ষ বরাবর একটি নালিশ করেছে বলে শুনেছি। তবে এর কোন অনুলিপি আমার কাছে নেই।’
এ ব্যাপারে কাস্টমস’র উপ-কমিশনার শায়েখ আরেফিন জাহেদি বলেন, ‘আমি দু’সপ্তাহ হলো এখানে এসেছি। এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ এখনও পাইনি।’