দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটার ৮দিন ব্যাপী একুশে নাট্যমেলা নিয়ে জেলা সাংবাদিকদের সাথে আলাপন করেছে

262

আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল: একুশের ঐক্যতানে আজ বাঙলী বিশ্বমানে এ শ্লোগানকে সামনে রেখে দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটার ৮দিন ব্যাপী একুশে নাট্যমেলার আয়োজন করেছে। আগামীকাল ২১শে ফের্রুয়ারী একুশে নাট্যমেলার শুরু হচ্ছে। এ নাট্যমেলাকে ঘিরে দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটারে উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্্র মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে একুশে নাট্যমেলা উৎসব আলাপন করেন। এ আলাপনে নি¤েœর বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ১৯৮৩ সাল, দেশ তখন সামরিক জান্তার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারীর ১৭ তারিখ, দর্শনার প্রগতিশীল কিছু যুবকের উদ্যোগে গড়ে ওঠে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন অনির্বাণ থিয়েটার। উপস্থাপনের ঢঙে এটি তখন একেবারেই নতুন দর্শনার মানুষের কাছে। সামরিকজান্তা যখন রাজনীতি কর্মকান্ডকে নিষিদ্ধ করলো তখন নাটকের মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সচেতনতার কাজটিও কৌশল হিসাবে বেছে নিলো অনির্বাণ। ১৯৯০ সালে দেশ যখন আবারও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসলো তখন নাটকের ধারায়ও পরিবর্তন শুরু হলো। নাটককে উপজিব্য করেই উৎসবের সকল আয়োজন। দর্শনায় কোন মিলনায়তন না থাকায় সারাবছর জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান কখনও পথে প্রান্তরে, কখনও স্কুল-কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এভাবে কখনও শুধুই নাটক আবার কখনও অনুষ্ঠানের অনুষঙ্গ হিসাবে নাটক প্রদর্শনের মধ্যদিয়ে এগিয়ে চলে অনির্বাণের পথচলা। ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে অনির্বাণ প্রথম শুরু করে একুশে মেলা ও নাট্য উৎসব। একসাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেকগুলো নাটক দর্শকের সামনে উপস্থাপনের জন্য মেলার আয়োজন করে। সেই ১৯৯২ সালে যে উৎসবের যাত্রা শুরু তা ২৫ বছর পার করে এবার ২৬ বছরে পা ফেলেছে। ২৫ বছর একটি মেলা ও নাট্য উৎসব চালিয়ে যেতে পেরে গর্বের একটি ধাপ অতিক্রম করেছে অনির্বাণ। এবার ২৬ বছরের আয়োজন তাই আরও বেশি বর্ণিল এবং নতুন আরেকটি যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। এবার ২১-২৮ ফেব্রুয়ারী ৮ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অনির্বাণ একুশে নাট্যমেলা। গত ২৬ বছরে উৎসবের শিরোনামে এসেছে পরিবর্তন। অনির্বাণ মনে করে এবছর থেকে এই শিরোনামেই আগামী ২৫ বছর চলবে অনির্বাণ একুশে নাট্যমেলা। এবারের মেলা উদ্বোধন করবেন জনাব আলী আজগার টগর, মাননীয় সংসদ সদস্য, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ৮ দিনব্যাপি মেলার প্রথমদিন ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ প্রভাত ফেরির পর সকালে শিশুদের বর্ণ লিখন, বাক্য লিখন ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে শুরু হবে এবং সন্ধ্যায় কলকাতার গানের দল আরশীনগর পরিবেশন করবে গানের অনুষ্ঠান। প্রতিদিন বিকালে স্কুল ও কলেজের দলীয় পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবারের উৎসবের নতুন সংযোজন। ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ থেকে শুরু হবে নাটকের প্রদর্শনী। ৭ দিনে দেশের ও দেশের বাইরের ৬ টি দল পরিবেশন করবে ৭টি নাটক। ২২ ফেব্রুয়ারী; অনির্বাণ থিয়েটারের নাটক জিঞ্চুযারা, ২৩ ফেব্রুয়ারী ঝিনাইদহের নাট্যদল অংকুরনাট্য একাডেমী পরিবেশন করবে নাটক গাজী কালু চম্পাবতী, ২৪ ফেব্রুয়ারী ঢাকার নাট্যদল মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় পরিবেশন করবে নাটক নীলাখ্যান, ২৫ ফেব্রুয়ারী ঢাকার নাট্যদল শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র, ঢাকা, পরিবেশন করবে নাটক বীরঙ্গনার বয়ান, ২৬ ফেব্রুয়ারী রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ূধ, কলকতা, পরিবেশন করবে নাটক চক্রব্যুহ এবং ২৭ ফেব্রুয়ারী রবীন্দ্রনগর নাট্যায়ূধ পরিবেশন করবে নাটক ছৌ ম্যাকবেথ। ২৮ ফেব্রুয়ারী ৪ জন গুণীজনকে সম্মাননা জানানো এবং সংগীত আয়োজনের মধ্যদিয়ে উৎসব শেষ হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক নাট্যজন আনোয়ার হোসেন জানান, এবারের শিরোনামে যেমন পরিবর্তন এসেছে, তেমনিভাবে নাট্য মেলার সাজসজ্জা থেকে অনুষ্ঠান ও নাটক সব ক্ষেত্রেই থাকছে একটু নতুন ভাবনা। উৎসব আয়োজনের ২৫ বছর অতিক্রম করে ২৬ বছর যেমন একটি মাইলফলক তেমনি এবারের সকল আয়োজনই একটি নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। সে জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি নাট্য মেলায় অংশগ্রহন করে এর অংশ হয়ে যাই। সাংবাদিক আলাপনে অনির্বাণ থিয়েটারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন,অনির্বাণ থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক আণোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য আওয়াল হোসেন,হাসমত কবির,সাজ্জাদ হোসেন,মাহাবুবুর রহমান মুকুল,প্রভাষক সায়মুল হক টিপু,মিরাজ উদ্দিন,ইসরাইল হোসেন খান ও মোস্তাফিজুর রহমান আলো প্রমুখ। সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়ার সাংবাদিক মাহাফুজ উদ্দিন খান, নুরুল আলম বাকু, আরকে লিটন, এফএ আলমগীর, হানিফ মন্ডল, এসএম ওসমান, চঞ্চল মেহমুদ, নজরুল ইসলাম, আজাদ হোসেন, ইয়াসির আরাফাত মিলন, মন্জুরুল ইসলাম, ওয়াসীম রয়েল, ইমতিয়াজ আহম্মেদ রয়েল, সবুজ, শোভন, ফারুক হোসেন প্রমুখ।