চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ৮ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দর্শনায় মাদ্রাসা পরিচালকের প্রকাশ্যে অপরাধ স্বীকার, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ৮, ২০২২ ১:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দর্শনা অফিস:
একই মাদ্রাসার ৯ বছরের এক ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই দর্শনা মাছুমা জান্নাত মহিলা মাদরাসার পরিচালক মুফতি গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণির এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদরাসা পরিচালক গোলাম কিবরিয়ার প্রকাশ্যে অপরাধের স্বীকারোক্তির ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা আলোচিত ওই মাদ্রাসা পরিচালককে আটক করে পুলিশের হাতে দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে একই সাথে ভুক্তোভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে দর্শনার বিভিন্ন মহল।
জানা গেছে, দর্শনা পৌর এলাকার হল্ট স্টেশন তেঁতুলতলায় ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় মাসুমা জান্নাত মহিলা মাদরাসা। এর পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন বিতর্কিত ও আলোচিত মুফতি গোলাম কিবরিয়া, স্ত্রী, জামাতা ও মেয়ে। অবাস্তব হলেও সত্য মাদ্রাসা কমিটিও তাদের পরিবারের সদস্যরা আবার শিক্ষক-শিক্ষিকাও ওই একই পরিবারের সদস্য। কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার মিরপুর থানার কুচিয়ামোড় গ্রামের মৃত নজির হোসেনের ছেলে গোলাম কিবরিয়া।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের নওদাগা হরিশপুরের কৃষক সাইফুল ইসলামের ৭ বছরের মেয়েকে বছর তিনেক আগে দিন ও ইসলামের পথে জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয় দর্শনা মাছুমা জান্নাত মহিলা মাদরাসায়। সম্প্রতি মাস খানেক ধরে ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীর দিকে কুনজর পড়ে মাদরাসার পরিচালক গোলাম কিবরিয়ার।
ধর্ষণের শিকার ছাত্রী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গোলাম কিবরিয়া ভয়-ভীতি দেখিয়ে স্টেশন সংলগ্ন ভাড়া বাড়িতে নিয়ে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। কয়েকদিন আগে সহপাঠীদের কাছে ধর্ষণের ঘটনা ফাঁস করলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। একপর্যায়ে সহপাঠীদের মাধ্যমে জানতে পারে ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা। এসময় গোলাম কিবরিয়া দর্শনার বাইরে থাকায় ভুক্তোভোগী পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গেলেও সুরাহা না পেলে গতকাল বৃহস্পতিবার গোলাম কিবরিয়ার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে মাদরাসায় গিয়ে বিষয়টি জানতে চাইলে শুরু হয় গোলাম কিবরিয়ার জামাতার সাথে বাগবিত-া। একপর্যায়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে মাদ্রাসা থেকে ভো-দৌঁড় দেন গোলাম কিবরিয়া। এসময় ধাওয়া করে মাদ্রসা সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী মাঠের ভেতর থেকে ধরা হয় অভিযুক্ত ধর্ষককে। সাংবাদিক ও জনতার প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত গোলাম কিবরিয়া ধর্ষণের কথা অকপটে শিকার করে বলেন, শয়তানের ধোকায় পড়ে এ ভুল কাজ করেছি।
এদিকে খবর পেয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর, পরিদর্শক (তদন্ত) আমানুল্লাহ আমান, থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই আহমেদ আলী বিশ্বাস ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। জনতার হাতে আটককৃত ভ- গোলাম কিবরিয়াকে নেয় পুলিশ হেফাজতে। দুপুরের মধ্যে মাদরাসার প্রায় ২ শ অভিভাবক তাঁদের মেয়েদের নিয়ে যান নিজের বাড়িতে। মাদরাসায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তালা। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে গতকালই গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দর্শনা থানায় শিশু ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় দুপুর দুটোর দিকে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত গোলাম কিবরিয়াকে আদালতে সোপর্দ করে। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে গতকালই ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নেওয় হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আহম্মেদ বিশ্বাস বলেন, মেয়ের পিতা বাদী হয়ে মামলা (মামলা নম্বর ৬, তারিখ ০৭/০৪/২২) দায়ের করেছেন। নিপীড়িত শিক্ষার্থীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং বিজ্ঞ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। সেই সাথে পুলিশের পক্ষ থেকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এএইচএম লুৎফুল কবীর বলেন, সকালে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা মৌখিকভাবে অভিযোগ করে। এরপরই আমরা অভিযান চালিয়ে মাদরাসার পরিচালক মুফতি গোলাম কিবরিয়াকে (৫৫) আটক করেছি। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে দর্শনা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, এ মাসরাসায় গত ২০২০ সালের ৪ নভেম্বর কুন্দিপুর গ্রামের দুলালের মেয়ে আফসানা খাতুন দোলা (০৯) মৃত্যুবরণ করে। যার প্রকৃত ঘটনা আজও রহস্যাবৃত্ত।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।