দর্শনায় বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই জখম

66

দর্শনা অফিস:
দর্শনা উজলপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বড় ভাই রাজ্জাকের হাতে ছোট ভাই ফারুক রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এ ঘটনায় ছোট ভাই ফারুক হোসেনকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। আহত ফারুকের বাম হাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করায় ১৯টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় দুই ভাই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন এবং আদালতে ফারুক বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের উজলপুর গ্রামের মসজিদপাড়ার মৃত নূরুল ইসলামের বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক ২০১৪ সালে বিদেশ যাওয়ার সময় তাঁর ছোট ভাই ফারুক হোসেনের কাছ থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা ধার বাবদ নেন। বিদেশ যাওয়ার পর টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও উক্ত সময়ে টাকা পরিশোধ না করায় ফারুক প্রায়ই টাকার জন্য তাগাদা দিয়ে আসছিলেন। এসময়ে রাজ্জাক বছর দেড়েক আগে বিদেশ থেকে ফেরত আসেন।
ফারুক হোসেন জানান, ‘বিভিন্ন সময় টাকার তাগাদা দিলে আজ দেব, কাল দেব বলে দীর্ঘদিন ধরে ঘুরিয়ে আসছে। এরই প্রেক্ষিতে ২১ শে ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা ৭টার দিকে হঠাৎ আ. রাজ্জাকের বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে দেখি কুড়ুলগাছী ইউনিয়নের নতুন গ্রামের আবু সিদ্দিক নামের এক ব্যক্তিকে সে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছে এবং চেয়ার তুলে মারমুখী হচ্ছে। এমন সময় আমি বিষয়টি আবু সিদ্দিক ও তার ছেলে মিল্টনের কাছে শুনতে চাইলে রাজ্জাকের পরিবারের কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র (রামদা) ও বটি নিয়ে উপস্থিত তিনজনের ওপর মারমুখী হয়। এসময় আবু সিদ্দিক ও তার ছেলে মিল্টন চলে গেলে আমার ওপর রাজ্জাক ও তার পরিবারের লোকজন হামলা চালায়। রামদার এলোপাতাড়ি কোপে আমার বাম হাত রক্তাক্ত যখম হয়। পরে স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে দ্রুত চুয়াডাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়।’
এ বিষয়ে কুড়ুলগাছী ইউনিয়নের নতুন গ্রামের আবু সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বছর সাতেক আগে রাজ্জাক বিদেশ যাওয়ার সময় টাকার প্রয়োজনে ট্রাক্টর বিক্রি করার জন্য অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নেয়। পরে ট্রাক্টরটি অন্যজনের নিকট বিক্রি করে গোপনে বিদেশ চলে যায়। পরে আমরা প্রায় সময় টাকার জন্য তার বাড়িতে গেলে একের পর এক দিন ঘুরাতে থাকে। তার কাছে টাকা চাইতে আসলে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করে আসছে। এ অবস্থায় ২১ শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আমাদের ওপর মারমুখী আচরণ করায় আমরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে আসি। এ ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আবু সিদ্দিকের কাছ থেকে টাকা ধার বাবদ নিয়েছিলাম। পরে সব টাকা পরিশোধ করে আর ৬ হাজার টাকা তারা পাবে। আমি তাদেরকে একটি সময় দিয়েছি। ওই সময়ের মধ্যে তাদের টাকা পরিশোধ করে দেব।’ তবে ছোট ভাই ফারুক হোসেনের ওপর হামলার বিষয়টি গোপন করে বলেন, ‘এটি আমাদের পারিবারিক বিষয়। আমরা ঠিক করে নেব।’
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান কাজলের পক্ষে অভিযোগের তদন্তকারী এসআই মাজহারুল ইসলাম জানান, এ ধরনের একটি ঘটনায় থানায় দুই ভাই পৃথক অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের তদন্তে ফারুক হোসেনকে তাঁর ভাই রাজ্জাকের পরিবারের লোকজন কুপিয়েছে বিষয়টি সঠিক। এরই মধ্যে ফারুক হোসেন আদালতেও মামলা দায়ের করেছের। এই কারণে আদালত থেকে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলে সঠিক প্রতিবেদন দিয়ে প্রকৃত দোষীকে আইনের আওতায় আনা হবে।