চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২৮ ডিসেম্বর ২০২০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দত্তনগরে হাটের জমি দখল বাণিজ্য

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৮, ২০২০ ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ অফিস:
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দত্তনগর হাটের জমি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দখল হচ্ছে করতোয়া নদীর পাড়। স্থানীয় এক চেয়ারম্যানের ইন্ধনে চলছে রমরমা দখল বাণিজ্য। সরকারি এই জমি দখল করে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হলেও মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেই কোনো উচ্চবাচ্য। ফলে দিনকে দিন মহামূল্যবান সরকারি হাটের জমি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা অবৈধ দখলদারদের তালিকা করে মহেশপুর এসিল্যান্ড অফিসে পাঠিয়েছেন। কিন্তু উচ্ছেদের কোনো লক্ষন নেই। তথ্য নিয়ে জানা গেছে, উপমহাদেশের বৃহত্তম কৃষি খামার দত্তনগরের এক একর ৪৬ শতক জমির ওপর গড়ে উঠেছে বাজারটি। স্বরুপপুর ইউনিয়নের ৭১ নম্বর গোকুলনগর মৌজায় বাজারের অবস্থান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাজারের জমি দখল করে বিনা বাধায় গোকুলনগর গ্রামের মুসা মিয়া, আব্দুল হালিম, আনেয়ার হোসেন ও কেশবপুর গ্রমের নুরুন্নবী নতুন পাকা ঘর নির্মাণ করছেন। বাজারের ওপারে ৭২ নম্বর মথুরানগর মৌজায় রয়েছে করতোয়া নদী। নদীর পাড় দখল করে পিলার বসিয়ে প্রায় ২০-৩০টি দোকান তৈরি করা হয়েছে। দখলদাররা দাবি করেছেন, ৪ নম্বর স্বরুপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের ইন্ধনে তাঁরা এই ঘর তুলছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের নাম ভাঙিয়ে দত্তনগর বাজারের জমি দখল করা হচ্ছে। তাঁর লোকজন জমি দখল করে ব্যবসায়ীদের কাছে ২-৩ লাখ টাকা করে বিক্রি করে থাকেন বলেও এলাকায় কথিত আছে। ভূমি অফিসের লোকজন বাধা দিলেও তারা কোনো কথা শোনেন না। উল্টো মহেশপুর এসিল্যান্ড অফিসে তদবির করে উচ্ছেদ ঠেকিয়ে দেন। তবে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খণ্ডন করে বলেন, রাজস্ব খাতের জমিতে কোনো দোকান তৈরি হচ্ছে না। সেগুলো পড়েই আছে।
বিএডিসি ও ফার্মের পড়ে থাকা জমিতে বেকার লোকদের কর্মসংস্থানের জন্য দেওয়া হচ্ছে। সেখানে কোনো অবৈধ লেদদেন নেই। চেয়ারম্যান জানান, জমি বরাদ্দ পেতে দোকানদাররা আবেদনও করছে। এদিকে পান্তাপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বরুপপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের লোকজন নদীর জমি দখল করে মার্কেট তৈরি করছেন। প্রায় ১৫’শ ফুট নদীর জমি এখন বেদখলে।
তিনি বলেন, দখলদারদের তালিকা করে উচ্ছেদের জন্য বেশ কয়েকবার মহেশপুর এসিল্যান্ড অফিসে পাঠানো হয়েছে। নদীর জমি বিএডিসির মালিকানায় বলে ভূমি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম দাবি করেন। এদিকে, স্বরুপ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত ভূমি কর্মকর্তা কবির আহম্মেদ জানান, দত্তনগর হাটে প্রায় ৪০ জন অবৈধ দখলদার রয়েছে। তাঁদের তালিকা মহেশপুর এসিল্যান্ড অফিসে দেওয়া আছে। হাট পেরিফেরির কাজ চলমান থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হাট পেরিফেরির পর দোকান করার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিয়ে জমি বরাদ্দ নিতে হবে।
এ বিষয়ে মহেশপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী আনিসুল ইসলামের সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাশ্বতী শীল জানান, শনিবার দত্তগর বাজারের জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাটের জমি দখল করে কেউ পার পাবে না। আমি মহেশপুর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের তালিকা করে উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।