থোকায় থোকায় দুলছে লাল ও গোলাপি লিচু

28

জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ
মিঠুন মাহমুদ:
পরিবারের চাহিদা মেটাতে একসময় বাড়ির আঙিনায় চাষ হতো লিচু। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষ করছেন চাষিরা। প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাওয়ায় নতুনপাড়া গ্রামের শতভাগ মানুষই এখন লিচু চাষের সঙ্গে জড়িত। শুধু লিচু চাষ করেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছে এ গ্রামের কয়েক শ মানুষ। গ্রামটি এখন লিচুর গ্রাম হিসেবে পরিচিত। লাল ও গোলাপি রঙের লিচুতে পুরো গ্রামটি এখন রঙিন। থোকায় থোকায় বাহারি লিচু সবার মন কাড়ছে। সেই সঙ্গে লিচুর ম ম গন্ধ আর ছোট ছোট পাখির কিচিরমিচির শব্দ এবং দর্শক-ক্রেতাদের পদচারণে গ্রামটি মুখরিত। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামের চিত্র এটি। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার গেলেই এমন দৃশ্য নজরে পড়বে।
বাগানজুড়ে সারি সারি লিচুগাছ। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা পাকা রঙিন লিচু। নয়নাভিরাম এ লিচু পাখি ও শিশু-কিশোররা যাতে নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য গাছের নিচে বসে পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা। আবার গাছের নিচে বসে লিচু বিক্রিও করছেন খুচরা বিক্রেতারা। এমন সৌন্দর্য একটু উপভোগ করতে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানাবয়সী নারী-পুরুষরা ভিড় করছেন গ্রামটিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর ধরে এ গ্রামে লিচু চাষ হচ্ছে। প্রথমে স্বল্পসংখ্যক চাষি বাড়ির আঙিনায় লিচু চাষ করলেও এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচু চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন তাঁরা। বর্তমানে এ গ্রামটিতে চার হাজারেরও বেশি লিচুগাছ রয়েছে। যা থেকে প্রায় দুই মেট্টিক টন লিচু উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পর্যটক এসে গ্রামটিতে ভিড় করছে। শুধু তাই নয়, বাগান থেকেই তারা লিচু কিনে নিয়ে যাচ্ছে।
লিচু চাষি মো. আদম আলী বলেন, প্রতিবছরই যথাসময়ে লিচুগাছ পরিচর্যা দিয়ে ভালো ফলনের উপযোগী করা হয়। মুকুলের সময় ঘন কুয়াশা আর হালকা বৃষ্টিতে মুকুল ঝরে পড়ায় এ বছর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তাই তার বাগানটি এবার এক লাখ টাকা দাম করছেন ব্যাপারীরা।
লিচু চাষি আতিয়ার রহমান জানান, লিচুর ফলন কম হওয়ায় তাঁর বাড়ির আঙিনার ২৬টি লিচুগাছ এ বছর ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।
লিচু ব্যাপারী মো. রমজান হোসেন বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার পরেও ফলন খুব একটা খারাপ হয়নি। লিচু এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব না হলেও ঈদের কারণে লিচু বিক্রি পুরোপুরি শুরু হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ লিচু ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে লিচুর দাম আরও বাড়বে বলে তিনি জানিয়েছেন।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, জীবননগর উপজেলায় এবার বাণিজ্যিকভাবে শুরু লিচু চাষ এ উপজেলার লিচুর স্বাদ অনেক সুন্দর যার ফলে এ লিচুর চাহিদাটাও অনেক। এ বছর লিচুর দামও অনেক ভালো। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সকল চাষিদের সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হয়। যেকোনো নতুন নতুন চাষের জন্য কৃষি অফিসে এলে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়া হয়।