চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থেমে গেল অবিনশ্বর কবিকণ্ঠ

সমীকরণ প্রতিবেদন
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৯ ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সোনালী কাবিন’-এর কবি আল মাহমুদ আর নেই। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে তিনি ধানম-ির ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। তিনি নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কবিকে ধানম-ির ইবনে সিনা হাসপাতালের আইসিইউয়ে ভর্তি করা হয়। ওই দিন ইবনে সিনা হাসপাতালে তাঁকে প্রথমে সিসিইউয়ে এবং পরে আইসিইউয়ে নেওয়া হয়। গতকাল চিকিৎসকরা তাঁকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ দেন। পরে রাত ১১টা ৫ মিনিটে ‘লাইফ সাপোর্ট’ খুলে নেওয়া হয়। আধুনিক বাংলা কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে, চেতনায় ও বাক্ভঙ্গিতে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন যিনি তিনি কবি আল মাহমুদ। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি তিনি। তাঁর পুরো নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। একাধারে একজন কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্পকার, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন তিনি।
আল মাহমুদ শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান, যিনি বখতিয়ারের ঘোড়ায় চড়ে লোক-লোকান্তর খোঁজেন, কালের কলস থেকে সোনালী কাবিন বের করে পাখির কাছে ফুলের কাছে নিয়ে গেছেন সাহিত্য পাঠকদের। কবি আল মাহমুদ প্রায় ৬০ বছর ধরে আলোড়িত ও আন্দোলিত করেছেন বিপুল পাঠকশ্রেণিকে। শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর যেখানেই বাংলাভাষী পাঠক রয়েছে সেখানেই উচ্চারিত হয় তাঁর কবিখ্যাতি। শুধু কবিতা নয়, রচনা করেছেন কালজয়ী নানা গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধও। আল মাহমুদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের এক বনেদি পরিবারে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১১ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। ২১ বছর বয়স পর্যন্ত ওই শহরে এবং কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার অন্তর্গত জগত্পুর গ্রামের সাধনা হাই স্কুলে, পরে চট্টগ্রামের সীতাকু- হাই স্কুলে পড়ালেখা করেন। এ সময়েই তাঁর লেখালেখি শুরু।
১৯৫৪ সালে ১৮ বছর বয়স থেকে তাঁর কবিতা প্রকাশ পেতে থাকে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকা এবং কলকাতার নতুন সাহিত্য, চতুষ্কোণ, ময়ূখ ও কৃত্তিবাস, বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা-কলকাতার পাঠকদের কাছে তাঁর নাম সুপরিচিত হয়ে ওঠে এবং তাঁকে নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। তাঁর কাব্যগ্রন্থ লোক লোকান্তর (১৯৬৩) প্রথমেই তাঁকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে স্থান করে দেয়। এরপর কালের কলস (১৯৬৬), সোনালী কাবিন (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৬৯) কাব্যগ্রন্থগুলো তাঁকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৯৩ সালে বের হয় তাঁর প্রথম উপন্যাস কবি ও কোলাহল। কবিতার মতো গল্প ও উপন্যাসেও তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
কবি আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা কবিতার ত্রিশ দশকীয় ভাবধারায় ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ দৃশ্যপট, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের কর্মমুখর জীবনচাঞ্চল্য ও নর-নারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহের বিষয়কে অবলম্বন করে আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোয় অত্যন্ত স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের সুন্দর প্রয়োগে কাব্যরসিকদের মধ্যে নতুন পুলক সৃষ্টি করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহপরিচালক পদে যোগদান করেন। পরে ওই বিভাগের পরিচালক হিসেবে ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে অবসরে যান তিনি। কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধের বই মিলিয়ে শতাধিক গ্রন্থ রয়েছে তাঁর। আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রায় সব সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।