চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৬ জুলাই ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থামছেই না মহামারি করোনায় মৃত্যুর মিছিল

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ৬, ২০২১ ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

চুয়াডাঙ্গায়, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে আরও ১৬ জনের প্রাণহানি
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬৪ জনের মৃত্যু, শনাক্তেও রেকর্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে টানা নয়দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মৃত্যু দেখল দেশ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে একদিনে ৯ হাজার ৯৯৪ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়ে ভেঙেছে করোনা শনাক্তেরও রেকর্ড। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্র্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪০ জনের শরীরে। ২৪ ঘন্টায় মেহেরপুরে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮ জন। অন্যদিকে, গতকাল ঝিনাইদহে করোনা ও উপসের্গ মৃত্যু হয়েছে আরও ৮ জনের। নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ জন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। গতকাল সোমবার জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৪০ জন। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত চুয়াডাঙ্গার ৩৯৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এরমধ্যে ১৪০টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ ও ২৫৩টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। জেলায় নতুন আক্রান্ত ১৪০ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৪ জন, আলমডাঙ্গায় ২১ জন, দামুড়হুদায় ১৮ জন ও জীবননগরের ৫৭ জন রয়েছেন। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩৫.৬২ শতাংশ। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হলেন ৩ হাজার ৯৪৫ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৬৮৯ জন, আলমডাঙ্গায় ৬৩১ জন, দামুড়হুদায় ৮৭০ জন ও জীবননগরে ৭৪৮ জন। গতকাল জেলা থেকে নতুন করে কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৩৪৬ জন।
গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের রেড জোনে একজন, জেলার বাইরে একজন ও ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। জেলা স্বাস্থ্যবিভাগের তথ্যমতে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১১৭ জনের। গতকাল হাসপাতালের আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে- চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা থানার দোস্ত গ্রামের ফজের আলীর স্ত্রী আমেনা খাতুন (৫৫) ও উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, কালের কণ্ঠ শুভসংঘ, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন জেলা লোকমোর্চা ও নিরাপদ সড়ক চাই চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন (৬০)।
গতকাল সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া তিনজন হলেন- চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ভালাইপুর গ্রামের মৃত নবিছ উদ্দীনের ছেলে শুকুর আলী (৬০), দামুড়হুদা উপজেলার সেলিম উদ্দীনের স্ত্রী নূর জাহান বেগম (৫০) ও একই উপহেলার হাটবোলালিয়া ইউনিয়নের ভাংবাড়িয়া গ্রামের খোরশেদ মণ্ডলের স্ত্রী আমিরুন নেছা (৭০)।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন ও জেলার বাইরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনসহ করোনা আক্রান্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ইয়োলো জোনে করেনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া প্রত্যেকের শরীর থেকে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। মৃত্যুর পর করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া নতুন দুজনসহ জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১০১ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৬ জনের।
জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য গত শুক্রবার ২৭টি, শনিবার ২৮২টি ও রোববার ৩৬৯টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত নমুনা ও পূর্বের পেন্ডিং নমুনার মধ্যে ৩৯৩টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ আরও ৩৭২টি নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১৫ হাজার ১৮১টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১৪ হাজার ৫৫৩টি, পজিটিভ ৩ হাজার ৯৪৫ জন। জেলায় বর্তমানে হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে ১ হাজার ৪৭৯ জন। এরমধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৩৪১ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে ১৩৮ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে ১১৭ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের হান্ডারের স্ত্রী রশিদা খাতুন (৬০), গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের আফতাব উদ্দিনের ছেলে আকবর আলী (৬৫) ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানাপাড়ার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৭০)। এনিয়ে জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৬২ জনের। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৭৫ জন। এনিয়ে জেলায় বর্তমানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯৭ জনে।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ২৩২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এরমধ্যে ৭৫টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ আসে। নতুন শনাক্ত ৭৫ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৩৩ জন ও গাংনী উপজেলার ৩৫ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৭ জন।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঝিনাইদহে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন আরও দুজন ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ছয় জন। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাড়িঁয়েছে ১০২ জনে। গতকাল জেলায় নতুন আক্রান্ত হয়েছে ৮৬ জন। ঝিনাইদহ স্বাস্থ্যবিভাগ সূত্রে জানা যায়, গতকার জেলায় ল্যাবে পরীক্ষা করা ২৫০টি নমুনার ফলাফল এসেছে। এদের মধ্যে ৮৬ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. লিমন পারভেজ বলেন, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার রয়েছে। তারপরেও ২৪ ঘণ্টা সাধ্যমতো রোগীদেরকে সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালে লোকবলের সংকট থাকায় সেবা কিছুটা বিঘ্নিত হচ্ছে।
সারা দেশ:
সারা দেশে গত ৯দিন যাবৎ করোনায় প্রায় দেড় হাজার মৃত্যু দেখলো বাংলাদেশ। যার মধ্যে প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। গত রোববার দেশে সর্বোচ্চ ১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিলো। তবে গতকাল মঙ্গলবার সেই রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ মৃত্যু দেখলো বাংলাদেশ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড আরও ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা দেশে একদিনে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যু। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৫ হাজার ২২৯ জনে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ৯ হাজার ৯৯৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৮৮১ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ হাজার ৪২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৪ হাজার ২টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। একদিনে নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৫ হাজার ১৮৫ জন। এনিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৮২ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের বিবেচনায় মারা যাওয়ার হার ১ দশমিক ৫৯ আর সুস্থতার হার ৮৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মারা যাওয়া ১৬৪ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ ৮৩ জন। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৪৭ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৪ জন রয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ১০৯ জন ও মহিলা ৫৫ জন। যাদের মধ্যে বাসায় ১৫ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন। একই সময়ে বিভাগওয়ারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৬৪ জনের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৫ জন, ঢাকায় ৪০ জন, রাজশাহীতে ১৬ জন, রংপুরে ১৬ জন, চট্টগ্রামে ১৮ জন, ময়মনসিংহে ২ জন, সিলেটে ৮ জন, বরিশালে ৯ জন মারা গেছেন। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম ৩ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজনের মৃত্যু হয়।

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।