চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২৩ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন

ত্রাণের জন্য হাহাকার, সর্বত্র গোখাদ্য সঙ্কট, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ২৩, ২০২২ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
সিলেটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সাথে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ বিতরণ চললেও বেশির ভাগ দুর্গম এলাকায় ত্রাণসামগ্রী যাচ্ছে না। যাও যাচ্ছে তাতে দুর্গত মানুষের চাহিদা পূরণ হচ্ছে সামান্যই। পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করায় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ও সদর ইউনিয়নের চারটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে চারঘাট-বাঘা, পবা ও গোদাগাড়ী এলাকায়। গাইবান্ধার সব নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ ও গোখাদ্য সঙ্কটও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনাসহ অন্যান্য নদীতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কুশিয়ারা নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। এখানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সহস্রাধিক পরিবার। কুড়িগ্রামে দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষ। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে পড়েছেন তারা। বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে। খাবার পানি, রান্না করা খাবার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সিলেটে চলমান বন্যায় প্রাণিসম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলায় হাঁস-মুরগিসহ তিন হাজারের বেশি গবাদিপশু মারা গেছে। আর ডুবে গেছে গবাদিপশুর ৭১০টি খামার। সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার বিচ্ছিন্ন জনপল্লীর বানভাসিরা ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। শহর ও শহরতলির আশপাশে সরকারি-বেসরকারি কিছু ত্রাণ বিতরণ করলেও হাওর এলাকার বিচ্ছিন্ন পল্লীর বানভাসিদের এখনো খোঁজ নেয়নি কেউ।
রাজশাহীতে পদ্মায় বাড়ছে পানি, এলাকায় আতঙ্ক:
বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পানি বাড়তে শুরু করেছে রাজশাহীর পদ্মায়। রাজশাহী পয়েন্টে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মার পানির উচ্চতা মাপা হয় ১২ দশমিক ৬৬ মিটার। আর রাজশাহীতে পদ্মার পানির বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। ফলে এখন বিপদসীমার ৫ দশমিক ৮৪ মিটার নিচ দিয়ে প্রাবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি। পদ্মার পানি বাড়তে শুরু করায় রাজশাহীর চারঘাট-বাঘা, পবা ও গোদাগাড়ী এলাকায় এরই মধ্যে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফুঁসে উঠছে পদ্মা নদী। মরা পদ্মায় শোনা যাচ্ছে আবারো স্রোতের গর্জন। নদীর আনাচে-কানাচে এখন টইটম্বুর হয়ে উঠছে।
এ দিকে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর ও সদর ইউনিয়নের প্রায় চারটি গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বাঘা উপজেলার সর্ব দক্ষিণ পূর্বে থাকা সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন চকরাজাপুরেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাউবো সূত্র বলছে, এবারো পদ্মার পানি শহররক্ষা বাঁধ অতিক্রম করবে না। কারণ রাজশাহীতে পদ্মার বিপদসীমা ১৮ দশমিক ৫০ মিটার। আর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বা শহর রক্ষা বাঁধের উচ্চতা ২১ দশমিক ৬৭ মিটার। তাই পদ্মার পানি বাড়লেও বাঁধ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পাউবো সূত্র জানায়, আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই। এই সময় পানি বাড়াটা স্বাভাবিক। তবে সাধারণত হঠাৎ করে বেশি বেড়ে গেলে ভাঙন দেখা দেয়। তাই ভাঙন ঠেকাতে পাউবো ১০ হাজার জিও ব্যাগ মজুদ রেখেছে।
গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত:
গাইবান্ধার সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে জনদুর্ভোগ ও গো-খাদ্য সঙ্কটও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। এ দিকে বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পাশাপাশি ওই সব মানুষজন গো-খাদ্য সঙ্কটে গবাদিপশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নে ৯৬টি গ্রাম বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে ২১ হাজার ৮৩৪ পরিবারের ৪৭ হাজার ৪৬৬ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
বিয়ানীবাজারে প্লাবিত এলাকা এখনো বাড়ছে:
বিয়ানীবাজার উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত সুরমা ও কুশিয়ারা এবং সুনাই নদীর পানি বাড়ছে। বুধবার সকাল ৯টায় কুশিয়ারা নদীর শেওলা পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৭২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদী দু’টির অবস্থা প্রায় একই। বন্যাকবলিত হওয়ার উপজেলার ১১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় ৩৪টি বিদ্যালয়ে আস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ দিকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত কুশিয়ারার একাধিক ডাইক ভেঙে এবং সুরমা ও সুনাই নদীর ডাইক উপচে লোকালয়ে পানি ঢোকা অব্যাহত ছিল। মঙ্গলবার বিকেল থেকে কুশিয়ারা নদীর বালিঙ্গা এলাকায় একটি অংশে ডাইক ভেঙে যাওয়ায় এটি দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি এসে আশপাশের ১০টি গ্রাম প্লাবিত করেছে। উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি এখনো বিপদসীমার উপর:
কুড়িগ্রামে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনো বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ঘরবাড়িতে পানি থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষজন। কিছু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিলেও অনেক পরিবার এখনো বসবাস করছে নৌকায় ও ঘরের উঁচু করা মাচানে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কটে পড়েছেন তারা। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার বেলা ৩টা রিপোর্ট অনুযায়ী ব্রহ্মপূত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্ট ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৪ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।