তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যু গুরুত্ব পায়নি

54

ঢাকায় জয়শঙ্করের ১০ ঘণ্টা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
সমীকরণ প্রতিবেদন:
ঢাকায় প্রায় ১০ ঘণ্টার ব্যস্ত সফর শেষে ফিরে গেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বাংলাদেশে আসা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেন। রাতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভোজ বৈঠক এবং তারও আগে ঢাকায় ভারতের নতুন কালচারাল সেন্টার উদ্বোধন করেন তিনি। তার এই ঝটিকা সফরের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে সমন্বিত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা। একই সঙ্গে আগামী ২৬ ও ২৭ শে মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবিত ঢাকা সফরের আলোচ্যসূচি চূড়ান্তকরণ। তবে আলোচনায় এসেছে অমীমাংসিত ইস্যুগুলোও। বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর সীমান্তহত্যা নিয়েও কথা বলে গেছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে প্রায় দেড় বছর পর ঢাকায় আসা ড. এস জয়শঙ্কর গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সীমান্তহত্যার জন্য ওই এলাকায় সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেন।
তবে সীমান্তে একটি হত্যার ঘটনা ঘটলেও সেটিকে দুঃখজনক হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সীমান্তে যাতে অপরাধ না ঘটে, হত্যার ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটাই দুই দেশের অভিষ্ট লক্ষ্য হওয়া উচিত। দুই দেশের নিবিড় সম্পর্ক থাকার পরও কেন সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ঘটছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ভারতের অভ্যন্তরে ঘটে থাকে। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা একমত হয়েছি যে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই দুঃখজনক। কিন্তু আমরা নিজেদের প্রশ্ন করেছি, সমস্যার মূল কারণ কী এবং এটি হচ্ছে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। সুতরাং আমাদের উভয়ের অভিন্ন চাওয়া হওয়া উচিত নো ক্রাইম, নো ডেথ অর্থাৎ অপরাধ নয়, মৃত্যুও নয়। অপরাধহীন এবং মৃত্যুহীন সীমান্তের ক্ষেত্রে এ নীতি মেনে চলার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত আমরা যদি এটা করতে পারি, অপরাধহীন ও মৃত্যুহীন সীমান্ত, তাহলে একসঙ্গে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবো। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন আসে ৬ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে কাজ করছে ভারত ও বাংলাদেশ। কিন্তু তিস্তা’র পানি বণ্টন সমস্যা সমাধানে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা গেছে কি?
তিস্তা চুক্তির সময়সীমা বিষয়ক ওই প্রশ্নে অত্যন্ত কৌশলী জবাব দিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। খুব শিগগির আমাদের সচিবরা বৈঠকে বসবেন। আমি নিশ্চিত, তারা এ নিয়ে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে নেবেন। আমি মনে করি, আপনারা এক্ষেত্রে ভারত সরকারের অবস্থান জানেন, যাতে কোনো পরিবর্তন এখনও আসেনি। প্রসঙ্গত, তিস্তার পানি নিয়ে ভারতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মতি না পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে পারছে না। প্রায় ১১ বছর ধরে প্রস্তাবিত চুক্তিটি ঝুলে আছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর চূড়ান্ত করতে গতকাল সকালে ঢাকায় পৌঁছেন জয়শঙ্কর। বিমানবন্দরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উষ্ণ অভ্যর্থনা থেকে তারা রমনাস্থ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার ওই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন তারা।
পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেন, আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনীতিকে প্রাধান্য দেই। এটি সম্পর্ককে নতুন মাত্রা ও গতি দেয়। কিন্তু সার্বিক সম্পর্কের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যা নিয়ে আমরা বর্তমানে কাজ করছি না। আমাদের সম্পর্ক সত্যিকার অর্থে ৩৬০ ডিগ্রি। মানুষের সম্পর্কের সব ক্ষেত্রে আমরা কিছু না কিছু করছি। যতোই কাজ করছি, ততোই নতুন নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হচ্ছে। পঞ্চাশ বছরের সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় যোগাযোগকে ‘বড় পরিসরে গুরুত্ব দেয়া দরকার’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, কানেক্টিভিটির এই জায়গাকে আমরা বড় লক্ষ্য হিসাবে ধরে এগোতে পারি। তার মতে, ভারত ও বাংলাদেশ যদি কানেক্টিভিটির জায়গায় ঠিকমতো কাজ করতে পারে তাহলে পুরো অঞ্চলই বদলে যাবে; বঙ্গোপসাগরীয় এলাকাকে তখন অন্যরকম মনে হবে। তার ভাষ্যটি ছিল এমন- আমরা উভয় দেশ মনে করি এটা সম্ভব। আজকের দিনে আমাদের আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিল এটা। আমরা চাইলে এক্ষেত্রে তৃতীয় কোনো দেশকেও একীভূত করতে পারি। যেমন জাপান, যাদের সঙ্গে আমাদের উভয় দেশের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। বঙ্গোপসাগরীয় এলাকায় জাপান অনেক কানেক্টিভিটি প্রকল্পে যুক্ত।