চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১৭ অক্টোবর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিতুদহে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিময় : তেঘরী ও কলাগাছি গ্রামের হতদরিদ্রদের লিখিত অভিযোগ পেশ জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুসের পদক্ষেপে খুশি হলেন হতদরিদ্ররা : সাধুবাদ

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৭, ২০১৬ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

DSC09115

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১০টাকা কেজি চালের কার্ড বিতরণে অনিয়মের সংবাদ দৈনিক সময়ের সমীকরণে প্রকাশ করা হলে চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুন উজ্জামানকে এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অত্র এলাকার যে সকল ধনাঢ্য ব্যাক্তি কার্ড পেয়েছেন তাদের কার্ড পরিবর্তন করে বিধবা, দুঃস্থ গরীব, পঙ্গুদের মধ্যে কার্ড নতুন করে দিতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মৌখিক নির্দেশ দেন তিনি। জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুসের এই পদক্ষেপে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগপত্র দিতে আসে প্রায় অর্ধশত গরীব, দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটে। কার্ড না পাওয়া পঙ্গু মহিউদ্দীন জানান, ডিসি স্যার খুব ভালো স্যার, গরীবের কথা শোনেন স্যার, স্যারকে আল্লাহ অনেকদিন বাঁচিয়ে রাখুক। এক বিধবা বলেন, ডিসি ম্যাডাম আমাদের কথা শুনেছেন, আমার অভিযোগ গুরুত্ব দিয়েছেন, স্যারকে আল্লাহ হায়াত দিক। এর আগে তিতুদহের তেঘরীতে কার্ড বঞ্জিতরা এক লাইনে দাড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। পরে দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত পেশ করে এতে  গরীব অসহায় হত দরিদ্রদের গণ স্বাক্ষর দেয়। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুন উজ্জামান সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে কার্ড পরিবর্তন করে গরীব অসহায়দের মধ্য বিতরণ করা হবে বলে জানান। এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন গরীব অসহায় হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত কার্ড বিতরণে কোন অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না এবং জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস স্যার একজন সাহসী জেলা প্রশাসক বলেও উল্লেখ করেন। এদিকে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তেঘরী ও কলাগাছি ওয়ার্ডের প্রভাবশালী ধনী কার্ডপ্রাপ্তরা হল:- গড়াইটুপির ব্যবসায়ী ২য় তলা বাড়ি মালিক ইউনুছ আলী, একই ওয়ার্ডের মেম্বর পদপ্রার্থী মৃত ঝড়ু মন্ডলের স্ত্রী হাসিনা বেগম, একই গ্রামের  আঃ খালেকের পুত্র জাহিদুল, জোড়নের পুত্র মুক্তার হোসেন, ছাব্দার হোসেনের পুত্র আলীম, আক্কেলের পুত্র কায়সার, একই পরিবারের আয়েব হোসেনের পুত্র মিজানুর, হামিদুল সোবহানের পুত্র সাবেক মেম্বর ইসাহাক, আজিবরের পুত্র মনিরুল,DSC09119

ফটিকচাঁদের পুত্র আজিবর, রহিমের পুত্র আলামিন, কলাগাছি গ্রামের একই পরিবারের সূর্য ঘোষের পুত্র অশোক ঘোষ ও তার পুত্র অমিত ঘোষ, সন্তোষ কুমারের পুত্র কৃষ্ণ,  দুলালের পুত্র উত্তম,  কওসারের পুত্র শাহাবুদ্দীন। এছাড়া প্রভাবশালী একই পরিবার থেকে ৫টি কার্ড পেয়েছে তারা হলেন গড়াইটুপি কুমিল্লা পাড়ার মৃত আব্দুল মন্ডলের পুত্র কুদ্দুস, উকিল, নজরুল, সাবিনা ও হাকিম। তিতুদহ ইউনিয়নের ৮নং তেঘরী ও কলাগাছি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র গরীবদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যারা কার্ড পাননি তারা হল:- হাফিজদ্দীনের বিধবা কন্যা শাহিদা, ভ্যানচালক গৌরিহরিনাথের পুত্র নীল মাধব, গরীব অসহায় রনজিৎ সরকারের কন্যা ফুলিবালা, নারাণের স্ত্রী সুমি, ফকিরচাঁদের কন্যা জামিরন নেসা,  রবিনের স্ত্রী কামনা রাণী, আবুলের কন্যা হাজেরা, খোকার পুত্র উম্বাদ, আব্দুল মজিদের স্ত্রী বারিছন, দুলালের স্ত্রী কল্যাণী,  ইসমাইলের পুত্র মংলা, আবুল হোসেনর স্ত্রী সূর্য খাতুন, ছাত্তরের পুত্র মজিবর, হাজারীর পুত্র ওমর প্রমূখ। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুসের আশ্বাসে গরীব হতদরিদ্রদের মূখে ফুটেছে হাসি। জেলাবাসী জেলা প্রশাসকের এমন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।