তিতুদহের সুজায়েতপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে সংঘর্ষ

375

ভায়ের হাতে বোন বোনাই ও ভাগ্নি আহত : রেফার্ড
তিতুদহ প্রতিনিধি: পারিবারিক জমিজামা সংক্রান্ত বিষয়ের জের ধরে বাড়ি ঘেরাও করে রড দিয়ে পিটিয়ে বোন, বোনায়সহ ভাগ্নিকে গুরুতর আহত করেছে সুজায়েতপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের তিন সন্তানসহ তাদের বাহিনী। গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, বিগত কয়েকবছর পূর্বে সুজায়েতপুর গ্রামের আব্দুস সাত্তারের কন্যা রোকেয়া ও যশোর জেলার মূসা খাঁনের সাথে বিবাহ হয়। এর কয়েক বছর পর রোকেয়া তার স্বামীকে নিয়ে সুজায়েতপুরে নিজে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে। কিন্তুু বাড়ি তৈরি করলেও যাতায়াতের রাস্তা না থাকার কারনে পৈত্রিক সম্পদের ওপর দিয়ে চিকন করে রাস্তা তৈরি করে নেই। পরে রোকেয়া তার বাবার কাছ থেকে পাঁচ কাঠা জমি ক্রয় করে রাস্তা তৈরির জন্য। কিন্তু জমি মূসা কিনলেও জমিটি ছিল রোকেয়ার ভাইদের চাষকৃত পুকুরের মধ্যে দিয়ে। তাই রোকেয়ার ভাইয়েরা বাঁধা দেয় রাস্তা তৈরিতে। সেই থেকে শুরু হয় তাদের পারিবারিক শত্রুতা।
এরই প্রেক্ষিতে ১৬ মে বুধবার তাদের মধ্যে গোলজোগের সৃষ্টি হয়। এরই এক পর্যায়ে আব্দুস সাত্তারের তিন ছেলে মনিরুদ্দীন, সাইফুল ইসলাম, আলীমসহ একই গ্রামের রইস উদ্দীনের পুত্র আবু জার মোল্লা, আবু জারের স্ত্রী আকলিমা, পুত্র ওসমান গণি, ওমর ফারুক মিলে সাত্তারের জামাই মূসা খাঁনকে প্রাঁণে মেরে ফেলার জন্য রাঁতের আধাঁরে আক্রমন করে। এসময় তারা মূসাকে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
মূসা খাঁনের স্ত্রী রোকেয়া জানায়, গত ১৬ মে রাতে গ্রামের সুজায়েতপুর পশ্চিমপাড়ার জনৈক আলামিনের দোকানের সামনে পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোহার হাঁতুড়ি, রড ও দেশীও অস্ত্র দিয়ে তার স্বামীকে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। এই মর্মে মূসা খাঁনের কন্যা মহোনা আক্তার পলি চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। রোকেয়া বেগম আরও জানায়, তার স্বামীকে গুরুতর আহত করার কারনে যে আমরা থানায় এজাহার করি এবং পুলিশ তাদেরকে আটক করে থানায় নেই। পরে আব্দুল আলীম বাদে সবাই জামিনে বাহির হয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারনে রাগে তারা একজোট হয়ে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার সময় বাড়িতে হামলা করে এবং বাড়িতে অবস্থান করা মূসার স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও তার কন্যা মহোনা আক্তারকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ অবস্থা দেখে স্থানীয়রা তিতুদহ ক্যাম্প ইনচার্জ এএসআই হুমায়ুন কবিরকে খবর দিলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে রোকেয়া ও তার কন্যা মহোনাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।