তাসাউফ ও তাজকিয়া

637

ধর্ম ডেস্ক: তাসাউফ শব্দের উৎপত্তি আরবি ‘সুফি’ শব্দ থেকে। এর অর্থ হলো পশমি পোশাক পরিধানকারী; আসহাবে সুফফার অনুসারী; প্রথম সারিতে অবস্থানকারী ও সুশৃঙ্খল জীবনের অধিকারী। তাসাউফ হলো এসবের চর্চা করা। এ জন্য মুসলিম সাধকদের সুফি বলা হয় এবং এ সাধনাকর্মকে তাসাউফ নামে অভিহিত করা হয়। পরিভাষায় তাসাউফ হলো আত্মনিগ্রহের মাধ্যমে মানবীয় দুর্বলতাগুলো থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি উত্তম গুণাবলি অর্জন করা। আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হওয়ার চেষ্টা করা। আল্লাহর সত্তার অনুভূতি, আত্মবিস্মৃতি, দুনিয়া বিরাগী ও পরকালের প্রতি অনুরাগী হওয়া তাসাউফের বিভিন্ন স্তর। ইবাদতের দায়িত্ব-কর্তব্য অনুভবের সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসার রস আস্বাদন তাসাউফের মূল কথা। কোরান এবং হাদিসে বহুভাবে তাসাউফের মর্ম উল্লেখ রয়েছে। এক কথায় ইবাদতের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ মানোন্নয়নের মাধ্যমে প্রকৃত প্রেমাস্পদের সন্তুষ্টি অর্জনের প্রয়াসই হলো তাসাউফ আর আত্মশুদ্ধির আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে তাজকিয়া। তাজকিয়া শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, পরিশুদ্ধ করা, পূত-পবিত্র করা। আত্মার পরিশুদ্ধি ছাড়া আল্লাহর আদেশ যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব নয়। মানুষের অভ্যন্তরীণ প্রশংসনীয় অনেক গুণ রয়েছে, যেগুলো প্রত্যেকের অর্জন করা অপরিহার্য। আবার নিন্দনীয় অনেক দোষ রয়েছে, যেগুলো বর্জন করা আবশ্যক। মূলত তাসাউফ ও আধ্যাত্মিক সাধনায় অভ্যন্তরীণ দোষগুলো দলিত-মথিত করা হয়। আর প্রশংসনীয় গুণাবলি দ্বারা সাধনাকে অলংকৃত করা হয়। এই অর্জন ও বর্জনের নামই তাজকিয়া।