চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৩ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তহশিলদারের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ!

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ১৩, ২০২২ ২:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

প্রতিবেদক, মুজিবনগর:

মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার (ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা) বজলুর রশীদের বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বাগোয়ান ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ অনৈতিক উপায়ে অর্থ নিয়ে তার অফিসের ৩১/২০২২ নম্বর মামলায় মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। বজলুর রশিদ প্রথম পক্ষের কোনো কাগজপত্র না দেখেই দ্বিতীয় পক্ষের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে ২য় পক্ষের যোগসাজসে বাদীকে কিছু না বলে বিবাদী পক্ষের বাড়িতে বসে মিথ্যা তদন্ত করেন এবং বিজ্ঞ আদালতে মিথ্যা তদন্ত দাখিল করেছেন। এ বিষয়ে মুজিবনগর উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বাদী পক্ষের রফিদুল ইসলাম।

রফিদুল ইসলাম অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, মুজিবনগর উপজেলাধীন বাগোয়ান ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ নি¤œ তফসীল বর্ণিত জমি উক্ত পিটিশন মামলার ২য় পক্ষরা অন্যায়ভাবে দখল করে নেয়। এ জন্য আমি গত গত ১৭ জানুয়ারি ফৌজদারী কাঃ বিঃ ১৪৫ ধারা মতে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট দরখাস্ত করি। বিজ্ঞ আদালত শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মুজিবনগর থানাকে নির্দেশ দেন এবং বাগোয়ান ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তাকে দখল বিষয়ক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ প্রাপ্ত হয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার নিকট নালিশী জমির কাগজপত্র নিয়ে বার বার দেখা করলেও তিনি সরেজমিনে তদন্ত করেননি। ইতঃমধ্যে ২য় পক্ষগণ নালিনী জমির গাছপালা কর্তন করে ও গাছ চুরি কেেরছে। এজন্য আমি বাদি হয়ে ২য় পক্ষের নামে সি.আর- ৩১/২০২২ মামলা দায়ের করি। মামলা দায়েরের পর আসামীরা বাদীর নিকট চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে সম্পত্তি দখলের হুমকি দেয়। অবশেষে আসামীরা নালিশী জমি দখল করে নিলে আমি প্রতিপক্ষের নামে সি.আর ৪৫/২০২২ নং মামলা করি। মামলাটি সিআইডি মেহেরপুর তদন্ত করেছেন। এ সকল কাগজপত্র বজলুর রশদীককে দিতে চাইলে তিনি তা গ্রহণ করেননি। অবশেষে তিনি গত ইং ১৬/০৩/২০২২ তারিখে সরেজমিনে গিয়া ২য় পক্ষের যোগসাজসে বাদীকে কিছু না বলে বিবাদি পক্ষের বাড়ীতে বসে মিথ্যা তদন্ত করেন ও ঐ তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করেন।

এ বিষয়ে বাগোয়ান ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রশীদ কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ করার যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। আমি তাদের নিজ বাড়িতে গিয়ে গ্রামের মানুষের সামনে তদন্ত করেছি এবং গ্রামের সাধারণ মানুষের কথায় তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছি। আমার বিরুদ্ধে তারা মনগড়া কথা বলেছেন।’

এ বিষয়ে মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন সরকার জানান, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।