চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২৬ জুলাই ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তরুণরা কেন আশা রাখতে পারছে না

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ২৬, ২০১৭ ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তারুণ্যের উপমা দিতে গিয়ে নজরুল বলেছিলেন, ‘বহু যুবককে দেখিয়াছি যাহাদের যৌবনের উর্দির নিচে বার্ধক্যের কঙ্কালমূর্তি। আবার বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি যাহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন।’ আধুনিককালে তরুণদের সংজ্ঞা দেয়া হয় একটু ভিন্নভাবে। যারা ১৫ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে, তাদের বলা হয় তরুণ। একটা দেশের প্রধান শক্তি হল তরুণ সমাজ। দেশে তরুণের সংখ্যা ৪ কোটি ৩৬ লাখ। আনুপাতিক বা সংখ্যার বিবেচনায় এ অঙ্ক অবশ্যই সুখের। তবে তাদের অবস্থানটা সুখের নয়। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণই নিষ্ক্রিয়। ভালো কাজের অভাব, শ্রম অধিকারের সীমিত সুযোগ, সেবা গ্রহণে বাড়তি ব্যয়- এসবই তরুণদের নিষ্ক্রিয় করার প্রধান অন্তরায়।
দেশের ৮২ শতাংশ তরুণই জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কী, তাদের জীবনের লক্ষ্যই বা কী। প্রবৃদ্ধির চিত্রে অর্থনীতির চাকা ঊর্ধ্বমুুখী। সে হিসেবে দেশও। কিন্তু তরুণদের অধঃপতন দেখে মনে হয়, ডাল মে কুচ কালা হায়। দেশের একটি পত্রিকার জরিপে দেখা যায়, জীবনের লক্ষ্য কী, তা জানে না দেশের ৬২ শতাংশ তরুণ। ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্তুষ্ট মাত্র ৬ শতাংশ তরুণ। দুর্নীতি, নিরাপত্তা, রাজনীতি নিয়েও একই চিত্র। রাজনীতি নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ৫১ শতাংশের বেশি তরুণ। তরুণদের এই অসন্তোষের যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে। দেশে এখন প্রায় ৭১ লাখ বেকার। তারা শ্রম দিতে প্রস্তুত, কিন্তু পারছে না। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাইট গার্ডের চাকরি নিতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। যাদের ঘুষ দিতে হচ্ছে, তারা সরকারেরই লোক। ঠিক এভাবে চাকরির প্রতিটি ক্ষেত্রেই ঘুষ দিতে হয় তরুণদের। অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ দিয়েও প্রতারিত হতে হচ্ছে অনেককে। যদিও তরুণরা যোগ্য তবু ঘুষ তাদের দিতেই হচ্ছে। একদিকে বেকারত্ব, অজানা ভবিষ্যৎ, অন্যদিকে পারিবারিক চাপে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা। রাষ্ট্রের এই আত্মঘাতী ব্যবস্থাই তরুণদের অসন্তুষ্ট করে তুলছে।
বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র। উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে হলে তার দরকার সঠিক পরিকল্পনা। কিন্তু বাংলাদেশ সেই পথে হাঁটছে বলে মনে হয় না। কারণ দেশের সম্ভাবনার দিশারী তরুণদের গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। তরুণদের ছাড়া সরকার কীভাবে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করবে, তা বোধগম্য নয়। তরুণদের কাজে লাগিয়েই সামনে এগোতে হবে। সরকার যদি তরুণদের এভাবে অবহেলা করে, তবে সরকারকেই দ্বিমুখী সমস্যায় পড়তে হবে। প্রথমত, বাংলাদেশ পারবে না উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে। দ্বিতীয়ত, সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ পরিণত হবে সমস্যায়। আর তখন এ সমস্যার ভার বইতে হবে সরকারকে। কেবল বাহ্যিক উন্নয়নের সেøাগান তুলে তৃপ্তির ঢেঁকুর গিললে হবে না। সরকারকে হাত দিতে হবে মূলে। মৌলিক উন্নয়ন এলে তবেই আসবে প্রকৃত উন্নয়ন। আর এজন্য তরুণদের নিয়ে করতে হবে কাজ। যুব উন্নয়নে নিতে হবে যুগান্তকারী ভূমিকা। খুঁজে বের করতে হবে তরুণদের আশাহত হওয়ার কারণ। তরুণরা এগোলে এগিয়ে যাবে দেশ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।