চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২০ নভেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তত্ত্বাবধায়ক বিরোধীরা গণশত্রু: মির্জা ফখরুল

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ২০, ২০২২ ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদক: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিরোধিতাকারীরা গণশত্রু হিসেবে বিবেচিত হবে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে বিধান বেগম খালেদা জিয়া সংবিধানে সন্নিবেশিত করে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিলেন, সেটা ছাড়া এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। জনগণ এবার কড়ায়-গণ্ডায় তাদের ভোটের অধিকার বুঝে নেবে। হেফাজত-খেলাফত মজলিসের হুমকি দিয়ে কোনো কাজ হবে না। জনগণ জেগে উঠেছে, দাবি আদায় না করে তারা আর ঘরে ফিরবে না। গতকাল সিলেটে বিভাগীয় বিশাল গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই গণসমাবেশকে ঘিরে নানা বাধা ও পুলিশি তল্লাশি পেরিয়ে সিলেটের রাজপথ ছিল স্লোগানে উত্তাল। গত বুধবার থেকেই দূর-দূরান্তের নেতাকর্মীরা সিলেট অভিমুখে আসতে শুরু করেন। অনেকেই আত্মীয়স্বজনের বাসাবাড়ি, কেউবা খোলা মাঠেই নির্ঘুম রাত পার করেন। শুক্রবার দিবাগত রাতেই সভাস্থলে চলে আসেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। গতকাল শনিবার ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই সিলেট মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়।

সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে বেলা সাড়ে ১১টায় এই বিভাগীয় গণসমাবেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, দলীয় নেতাকর্মী হত্যার প্রতিবাদ এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশস্থলের আশপাশের পুরো দেড় কিলোমিটার এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। মঞ্চে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য নির্ধারিত একটি চেয়ারে তার ছবি দিয়ে রাখা হয়।
সমাবেশের প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল বেলা পৌনে ২টায় সমাবেশস্থলে আসেন। এ সময় চারদিক করতালিতে মুখর হয়ে উঠে। প্রায় আধা ঘণ্টার বক্তব্যে তিনি দেশের চলমান অবস্থা, সরকারের দুর্নীতি-অনিয়ম ও আগামী নির্বাচন নিয়ে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন।
‘হুমকি-ধমকি দিয়ে লাভ হবে না’ : বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার হুমকি দেয় যে খেলাফত মজলিসের অবস্থা হবে, হেফাজতের মতো অবস্থা হবে। হুমকি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, আমরা যদি কোথাও আন্দোলন করতে যাই তাহলে হেফাজতের মতো অবস্থা হবে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এবার মানুষ জেগে উঠেছে, এবার ওই সব হুমকি-ধমকি দিয়ে কোনো লাভ হবে না। মানুষ এই যে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে আর ঘরে ফিরবে না। আমাদের লক্ষ্য একটাই। সেই লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের হারিয়ে যাওয়া অধিকারকে ফিরিয়ে নেবো, আমাদের ভোটের অধিকারকে আমরা ফিরিয়ে নেবো, আমাদের সরকার আমরা তৈরি করতে চাই, জনগণ তৈরি করতে চায়। এ সময় বিএনপি মহাসচিব স্লোগান ধরে বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’।
মির্জা ফখরুল বলেন, যে লড়াই শুরু হয়েছে এই লড়াইকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই লড়াইকে আরো শক্তিশালী, আরো বেগবান করতে হবে। সিলেট অঞ্চল শুধু নয়, সারা বাংলাদেশে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে, গ্রেফতার করছে এবং নির্যাতন করছে তা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, আর যদি একটা মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়, মানুষ তা রুখে দাঁড়াবে। ভোলাতে আমাদের আব্দুর রহিম, নুরে আলম, নারায়ণঞ্জের শাওন, মুন্সীগঞ্জের শহীদুল ইসলাম শাওন, যশোরের আবদুল আলিম তাদেরকে এই সরকারের পুলিশ হত্যা করেছে। তারা মনে করেছে, আগের মতো হত্যা করলে, গুলি করলে, নির্যাতন করলে থেমে থাকবে, সব কিছু থেমে যাবে। কিন্তু থামিয়ে রাখতে পারে নাই। সবাই আরো উজ্জীবিত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। একটার পর একটা বিভাগীয় সমাবেশ আরো বেশি করে সফল হচ্ছে।
সিলেটের সমাবেশ সফল করার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপনাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, আপনাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমাদের নেতা তারেক রহমান যিনি নির্বাসিত অবস্থায় দূরে আছেন, তিনি আপনাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি (তারেক রহমান) এই ডাক দিয়েছেন যে, আসুন আমরা সবাই উঠে দাঁড়াই। আমাদের দেশমাতৃকাকে মুক্ত করি এই ভয়াবহ দানবের হাত থেকে।
‘দফা এক, দাবি এক, সরকারের পদত্যাগ’ : মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পরিষ্কার করে বলছি, আমাদের দফা এক, দাবি এক, এই সরকারের পদত্যাগ, হাসিনার পদত্যাগ। আর ফয়সালা হবে রাজপথে। এটার ডাক দিয়েছেন তারেক রহমান। আরো একটা ডাক দিয়েছেন সেটা হচ্ছে- টেক ব্যাক বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন আমি দেখেছিলাম ১৯৭১ সালে, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন আমাদের লাখো শহীদ। সেই বাংলাদেশকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এই ফ্যাসিস্ট দানবীয় সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
‘জনগণ ভোট কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে’ : অবিলম্বে শেখ হাসিনার পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার দাবি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, জারি-ঝুরি থাকবে না। ওখানে পুলিশ দিয়ে, আমলা দিয়ে, গোয়েন্দা দিয়ে সব কিছু পাল্টায়ে দিবা, ইভিএম করবা- এটা হবে না। জনগণ তার ভোট এবার দেখে নেবে, কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে। সব রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আসুন আমরা সবাই এক হয়ে যেভাবে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেভাবে একটা লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করি।
‘যারা নির্বাচনে যাবে তারা গণশত্রু’ : মির্জা ফখরুল বলেন, তারা খুব লম্বা লম্বা কথা বলে। বলে যে, সংবিধান অনুযায়ী নাকি নির্বাচন হবে। আর কোন সংবিধান? যে সংবিধান তুমি ১০ বার কাটা ছেঁড়া করেছো, যে সংবিধান তুমি নিজে নিজে তৈরি করেছো। বিচার বিভাগকে পকেটস্থ করে সেই পেটুয়া বিচারককে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। সেই সংবিধান আমরা মানি না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। যারা বিরোধিতা করবে তারা গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবে।
হজরত শাহ জালাল ও হজরত শাহ পরানসহ অলি-আউলিয়াদের স্মৃতিবিজড়িত পুণ্যভূমি সিলেটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানি, সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের নাম উল্লেখ করে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, সিলেটের ইতিহাস যুদ্ধের ইতিহাস। এই সিলেটের মাটিতে ১৯৭১ সালে ডিসেম্বর মাসে জিয়াউর রহমান সিলেটকে মুক্ত করেছিলেন। আপনাদের ইতিহাস গর্বের ইতিহাস, যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস। এই সিলেটের আরেকজন গর্বের মানুষ আছেন তিনি হচ্ছেন আপনাদের জামাই আমাদের নেতা তারেক রহমান। তিনি এখন আমাদের দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই গণতন্ত্রের যুদ্ধে।
‘ভোট চুরির জন্য জনতার আদালতে বিচার হবে’ : তিনি বলেন, ১৪ বছরে সরকার দেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করেছে। তারা নাকি নির্বাচিত সরকার। ২০১৪ সালে কি ভোট হয়েছিল? মরহুম শফিউল আলম প্রধান বলেছিলেন সেটা ছিল কুত্তা মার্কা নির্বাচন। আর ২০১৮ সালে আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। আর এ সরকারের সবাই বলে তারা নাকি ভোটে জিতেছে। ভোটের অধিকার চুরি ডাকাতি করার জন্য জনতার আদালতে এদের বিচার করা হবে। কোনো ক্ষমা নেই।
‘তরুণদের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে সরকার’ : দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, আজ দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ শান্তিতে নেই। সবকিছুর দাম বেড়েছে। শাকসবজি, লবণ, তরি- তরকারি কোনো কিছুই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। একজন অসহায় মা তার সন্তানের মুখে একটি ডিম তুলে দিতে পারছেন না। অথচ এ সরকার বলেছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। আজ চালের দাম ৭০ টাকা। দেশে আজ তিন কোটি বেকার। তরুণদের স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে এ সরকার। আজকে এমন একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে দেশকে নিয়ে গেছে শেখ হাসিনা।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১১ সালে এ সিলেটে তিনি এসেছিলেন। এই মাঠেই বক্তব্য দেন। তখন পাশে বসা ছিল ইলিয়াস আলী। এখন আমাদের মধ্যে ইলিয়াস আলী নেই। জানি না সে বেঁচে আছে কি না। তার সন্তানরা প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকেন এই বুঝি বাবা ফিরে আসবে। তার সহধর্মিণীকে ধন্যবাদ জানাই। সে দমে যায়নি। লড়াই চালু রেখেছেন। শুধু ইসিয়াস আলী নয়, এরকম ছয়শত নেতাকর্মীকে এ সরকার গুম করেছে। সহস্র মানুষকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। কয়েক দিন আগে সিলেটে কামালকে হত্যা করা হয়েছে। হবিগঞ্জে গুলি চালানো হয়য়েছে। এভাবে তারা হত্যা, গুম নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে আবার গায়েবি মামলার খেলা শুরু করেছে। আর যদি একটা মিথ্যা মামলা দেয়া হয় জনগণ রুখে দাঁড়াবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সিলেট থেকে লড়াই শুরু হয়েছে। এই লড়াইকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই লড়াইকে আরো শক্তিশালী, বেগবান করতে হবে।
বিএনপির জেলা সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইমরান আহমেদ চৌধুরী, মহানগর সদস্যসচিব মিফতাহ সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ফজলুর রহমান, তাহসিনা রুশদীর লুনা, এনামুল হক, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাখাওয়াত হাসান জীবন, এম নাসের রহমান, জি কে গাউস, কলিম উদ্দিন মিলন, শাম্মী আখতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল কাহের শামীম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, ফয়সাল চৌধুরী, সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকী প্রমুখ।
এছাড়া অঙ্গসংগঠনের মধ্যে মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজীব আহসান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, উলামা দলের শাহ নেসারুল হক, জাসাসের হেলাল খান, শ্রমিক দলের মেহেদী আলী খান, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
‘রাষ্ট্রের টাকা লুটে দলীয় প্রোগ্রাম করা হচ্ছে’ : গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকার তার প্রশাসন ও পেটোয়া বাহিনী দিয়ে আমাদের প্রতিটি সমাবেশ ব্যর্থ করার অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু জনগণ তার উচিত জবাব দিয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশ ঠেকাতে বাস ধর্মঘট দিয়ে এই সরকার কোটি কোটি টাকা নষ্ট করেছে। কিছু দিন আগে তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এক সমাবেশে বিনা পয়সায় বাস এনেছে। লোক সমাগম দেখাতে ৩০ হাজার পুলিশ নিয়োজিত করেছে। তার পরেও তাদের সমাবেশে কোনো লোক হয় না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের টাকা লুট করে দলীয় প্রোগ্রাম করা হচ্ছে। এসবের হিসাব দিতে হবে। গয়েশ্বর বলেন, ওবায়দুল কাদের কা কা করছেন। খেলা হবে বলছেন। আমি বলবো, আপনারা খেলা আগে শেখেন। আনাড়ি খেলোয়াড়ের সাথে বিএনপি খেলে না। ১০ ডিসেম্বরের পর জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা খেলায় নামবো। সময় থাকতে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে জাইমার সাথে শেখ হাসিনা জামানত হারাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সব খুনের বিচার হবেই হবে উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, জিয়ার খুনের সাথে শেখ হাসিনা জড়িত কি না, সেটাও বের করতে আমাদের বাধ্য করবেন না।
‘বাংলাদেশে আর কোনো অন্যায় চলবে না’ : সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ড. আব্দুল মইন খান বলেন, আজ শুধু সিলেট নয়, সারা দেশে অন্যায় জুলুম হামলা মামলা চলছে। সিলেট জেগে উঠেছে, সারা দেশ জেগে উঠেছে। বাংলাদেশে আর কোনো অন্যায় চলবে না। এ দেশে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবো। তিনি বলেন, বিএনপি কখনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। ক্ষমতায় গেলে আইনের শাসন কায়েম করা হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, আজকের সমাবেশ প্রমাণ করেছে, সিলেট বিভাগের মানুষ জেগে উঠেছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনার পতন হবে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, দ্রব্যমূল্যের দাম কমবে, আমার ভাইদের হত্যার বিচার হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে লাখ লাখ মানুষ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তারেক রহমানের জন্মদিন আজ। এই দিনে প্রত্যাশা তিনি যেন এ দেশে সততা, উন্নয়ন এবং উৎপাদন ব্রান্ডের রাজনীতি উপহার দিতে পারেন। মুক্তাদির সরকারকে বলেন, আমরা চাই না আপনাদের পরিস্থিতি আফগানিস্তানের মতো প্লেনের চাকা ধরার মতো হয়। সেইফ এক্সিট নিন।
সমাবেশ প্রস্তুতি কমিটির দলনেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আওয়ামী লীগ এখন আওলা লীগ। এরা নিজেরাই নিজেদের ভালো চায় না। এদেরকে নিয়ে আর সময় নষ্ট করে লাভ নেই। এখন কথা একটাই, শেখ হাসিনার দিন শেষ, জনগণের বাংলাদেশ। সমাবেশের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, শত ঘাত-প্রতিঘাত উপেক্ষা করে এই সমাবেশ চলেছে তিন দিন ধরে। সব রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সিলেটের জনগণ সমাবেশে এসেছে। আগামী দিনের আন্দোলনে রাজপথে থাকবে সিলেটবাসী।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।