চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ৬ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাবি ও বুয়েটসহ বাংলাদেশের সেরা তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার ইসরাক জাহান মায়া

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ৬, ২০২২ ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম শ্রেণিতে অধ্যায়নকালে প্রাইভেট শিক্ষিকার নিকট প্রথম বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যাল (বুয়েট)-এর বিষয়ে জানতে পারেন ইসরাক জাহান মায়া। স্কুল জীবনের পরে যে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আছে, সেটা উপলব্ধি করতে শেখাও সেই সময়ে। আর এরপর থেকেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) মায়ার স্বপ্নে পরিণত হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও পরিশ্রমের পর নিজের স্বপ্ন ছুয়েছেন তিনি। ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে তড়িৎ ও বৈদ্যুতিক প্রকৌশল (ইইই) বিষয়ে। ইসরাক জাহান মায়া চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়ি মাদ্রাসাপাড়ার আল ইমরান ও বিলকিস আরার মেয়ে। তিনি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি), সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) ও নিম্ন মাধ্যমিক (জেএসসি) পরীক্ষা দেন। সবগুলো পরীক্ষাতেই তিনি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

জানা যায়, গত ৪ জুন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যাল (বুয়েট)-এর ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার দুই পর্বের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বের প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষায় ১৭ হাজার ৩৪ জন অংশ নেন। এতে উত্তীর্ণ প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী গত ১৮ জুন অংশ নেন চূড়ান্ত পর্বের লিখিত পরীক্ষায়। ফলাফলে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২ হাজার ১২৭ জন ভর্তির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ের পর এই শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১ হাজার ২৭৯ জন এবার বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পাবেন। গত ৩০ জুন রাতে বুয়েটের ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়। এদিকে, দুই ধাপের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধাতালিকায় ৩৭১তম হয়ে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গার মেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী ইসরাক জাহান মায়া। বুয়েটে ছাড়াও ইসরাক জাহান মায়া ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন গাজীপুরে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ইসরাক জাহান মায়া বলেন, ‘বাবা কর্মসূত্রে মালয়েশিয়াতে থাকেন। আমার মা আমার লেখাপড়ার খেয়াল রাখেন। নবম শ্রেণিতে থাকতে আমি রুমানা চৌধুরী ম্যামের নিকট প্রাইভেট পড়তাম। একদিন তিনি স্কুল জীবন, কলেজ জীবন ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সম্পর্কে আমাদেরকে বলেন। সেদিনই প্রথম আমি লাখ লাখ শিক্ষার্থীর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের বিষয়ে জানতে পারি। এরপর থেকেই ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করি। আমার সকল স্বপ্ন জমা হয় বুয়েটে। মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করেছি, এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফলাফল আমার স্বপ্নে আরও জোর বাড়িয়েছে। অবশেষে আমি আমার স্বপ্ন ছুয়েছি। আমার বাবা চাইতেন আমি লেখাপড়া করে ডাক্তার হয়, কিন্তু আমার স্বপ্ন ছিল ভিন্ন। মা আমাকে সবসময় আমার স্বপ্ন পূরণের লক্ষে সাহায্য করেছেন। বাবাকেও তিনিই বুঝিয়েছেন। এখন বাবা ও মা দুজনেই অনেক খুশি। একজন ভালো প্রকৌশলী হয়ে দেশের সেবা করতে চাই আমি।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।