চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৬ নভেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকার ২০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ প্রতিবেদন গোয়েন্দাদের : ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি

সমীকরণ প্রতিবেদন
নভেম্বর ১৬, ২০১৬ ১:৫০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

dsrt

সমীকরণ ডেস্ক: রাজধানীর ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জঙ্গি তৎপরতার নিরাপদ স্থান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা রয়েছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এসব প্রতিষ্ঠানে জঙ্গি তত্পরতায় উদ্বুদ্ধ করাসহ মৌলবাদী কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও জড়িত রয়েছেন। অনেকের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদের পক্ষে বিভিন্ন উসকানিমূলক কাজে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য সংবলিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি গত ২৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মোজাম্মেল হক খান বলেন, এরকম একটি প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে বলে তিনি জানান। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি তারা পেয়েছেন। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক শাখা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত শাখাগুলো থেকে সচিব পর্যায়ে কোনো তথ্য পাঠানো হয়নি। অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নজরদারিতে আছে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নজরদারি করার মতো কোনো জনবল নেই। তারা শুধু তদন্ত করে দায়ী শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে, এমনকি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে পারেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা ফিরতি চিঠিতে জানানোর কথা রয়েছে। তবে গতকাল পর্যন্ত এ ধরনের কোনো চিঠি তারা পাননি।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌলবাদ বা জঙ্গিবাদ উদ্বুদ্ধ করতে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তত্পরতা চলছে সেগুলো হলো: বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদ (ফ্যাকাল্টি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়, ইংরেজি মাধ্যমের আগা খান স্কুল (উত্তরা), স্কলাসটিকা, লেকহেড গ্রামার স্কুল (ধানমন্ডি, বনানী ও মোহাম্মদপুর), তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসা (মীর হাজিরবাগ ও যাত্রাবাড়ী), মসজিদুল মোমেন জামে মসজিদ মাদ্রাসা (মিরপুর-১০), দারুল উলুম রহমানিয়া মাদ াসা (নিউ মার্কেট), আল আমিন মসজিদ মাদ্রাসা (মোহাম্মদপুর), আহলে হাদিস মসজিদ মাদ্রাসা (আবদুল্লাহপুর), জামিয়া নুরিয়া মাদ াসা (ডেমরা), লালবাগ জামিয়া কোরানিয়া আরাবিয়া মাদ াসা, বসুন্ধরা মসজিদ মাদ াসা (বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা), মারকাজুল উলুম আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা (মোহাম্মদপুর), কামরাঙ্গীরচর মাদ্রাসা ও  জামেয়া মোহাম্মদিয়া মাদ্রাসা (মিরপুর সাড়ে এগারো)। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিহ্নিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক শ্রেণির ছাত্র ও শিক্ষক উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা টার্গেট করে বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট, ভিডিও ফুটেজ, জিহাদী বই, জিহাদী বক্তব্যসংবলিত অডিও’র মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করছেন বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদে নিরীক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা, শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের জঙ্গিবিরোধী আলোচনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতন করা, কোনো ছাত্র বা ছাত্রী যৌক্তিক কারণ ছাড়া ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে তাদের সম্পর্কে নিকটবর্তী থানা ও গোয়েন্দা সংস্থার নিকট প্রতিবেদন প্রদান করা, উঠতি বয়সী যুবক নিখোঁজ হলে তা অনুসন্ধানপূর্বক নিখোঁজের ছবি, মোবাইল নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করা এবং ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে নিশ্চিত হয়ে ভাড়া প্রদানে বাড়ির মালিকদের সতর্ক করা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্য বলেন, জঙ্গিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে টার্গেট করে মাঠে নেমেছে। তারা কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ধর্মীয় উন্মাদনার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করে জঙ্গিবাদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সেজন্য চিহ্নিত কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানো ছাড়াও দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচারণা চালানোসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তারা আরো বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। প্রতিবেদনে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সব অভিভাবককে সন্তানদের চলাফেরার ওপর নজর রাখতে হবে, যেন কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে তারা জড়িয়ে না পড়ে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।