ডেটলাইন পাঁচ জানুয়ারি : আ.লীগ-বিএনপি ফের মুখোমুখি ইতোমধ্যে ওইদিন রাজধানীসহ দেশব্যাপী পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দখলের ঘোষণা

349

hasina-Khaleda-1000সমীকরণ ডেস্ক: দশম জাতীয় সংসদের একতরফা নির্বাচনের দিন ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তারা ইতোমধ্যে ওইদিন রাজধানীসহ দেশব্যাপী পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মাঠ দখলের ঘোষণা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এদিন গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করবে একই সঙ্গে এদিন বিএনপিকে মাঠে নামতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করতে চাওয়া বিএনপি সব বাধা উপেক্ষা করে দেশব্যাপী কালো পতকা মিছিল করার সিদ্ধান্তে আটল রয়েছে। সব মিলে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে দেশবাসীর মধ্যে ফের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকেই প্রতি বছর এদিনকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট এই নির্বাচনকে প্রহসনের উল্লেখ করে প্রতি বছর ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে। অন্যদিকে এদিনকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্ররা। একতরফা নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে দুই শক্তির পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে দীর্ঘদিন দেশ অচল হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ আন্দোলন করে বিএনপি সফল না হওয়ায় সাংগঠনিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। ফলে নির্বাচনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ২০১৬ সালে প্রসাশনের বেঁধে দেয়া ছক মেনেই কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হয় বিএনপি। আর এবার তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোয় এবং দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিনটি দুই দলের জন্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্ষমতায় থাকতে এবং ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যেতে এই দুই শক্তিই রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে যে কোনো মূল্যে এদিন রাজনীতির মাঠ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
এরই মধ্যে ৫ জানুয়ারিতে ঢাকায় দুটি সমাবেশ এবং সারাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। একই দিন সারাদেশে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। কর্মসূচি সফল করতে দুই দলই নিয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গণতন্ত্র বিজয় দিবস সর্বাত্মক সফল করতে সারাদেশের দল, অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর নেতাদের এদিন সর্বোচ্চ শোডাউনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটনানোর চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
বিএনপি সূত্র মতে, শত বাধা উপেক্ষা করে হলেও দল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের এই কর্মসূচি সফল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে কোনো সহিংসতার সঙ্গে এখনই না জাড়ানোর কথাও বলেছেন দলের হাইকমান্ড। বিশেষ করে শন্তিপূর্ণভাবে ঢাকা মহানগরীতে কালো পতাকা মিছেলের মাধ্যমে শোডাউনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর বিএনপি ও যুবদলের নতুন কমিটি হওয়ার আলোচনায় যেসব নেতা রয়েছেন তাদের শোডাউনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এদিকে ৫ জানুয়ারি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে প্রধান দুই দলের নীতিনির্ধারকদের আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেয়া অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দলের এক যৌথ সভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালন করা হবে। এদিন ঢাকায় দুটি সমাবেশ হবে। একটি সমাবেশ হবে রাসেল স্কয়ারে। অপরটি ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। একই সঙ্গে জেলা শাখাগুলোকেও সমাবেশ করার আহ্বান জানান তিনি। আর শুক্রবার দুপুরে রংপুর পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নামে একটি তামাশার নির্বাচন করা হয়েছিল। সেই তামাশাতে বিএনপি যোগ দেয়নি। দেশের মানুষের শতকরা ৫ ভাগও যোগ দেয়নি। ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই দিনই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করা হয়েছে। গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ সুষ্ঠু নির্বাচন, সেই নির্বাচন সে সময় হয়নি। ফলে ওই নির্বাচনের কারণে যে সরকার বসে আছে। সেটা গণতান্ত্রিক সরকার নয়। সে জন্য ৫ জানুয়ারিতে গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করা হবে।
অন্যদিকে শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত যৌথসভায় ৫ জানুয়ারি বিএনপিকে জনগণ মাঠে নামতে দেবে না বলে হুশিয়ার করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। তিনি বলেন, নির্বাচন বানচালের নামে যারা মানুষ হত্যা করে তাদের কোনো কর্মসূচি পালনের অধিকার নেই।
আর আওয়ামী নেতাদের বক্তব্যের জবাব দিতে শুক্রবার দুপুরে বিএনপির নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারি সারাদেশে মহানগর-জেলায় কালো পতাকা মিছিল ও কালো ব্যাজ ধারণের যে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে সেটা হবেই। দলের জেলা নেতারা সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব নেতাকর্মীর সমন্বয়ের একটি সাফল্যম-িত কর্মসূচি হবে। গণতন্ত্র হত্যা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ জানুয়ারি সমাবেশও হবে, আইনি যে প্রক্রিয়া তাও চলছে।
রিজভী বলেন, রাজপথে নামতে দেয়া হবে না- এটাই তো গণতন্ত্র হত্যার একটা দৃষ্টান্ত । নামতে দেবেন না কেন? ওইটা যদি গণতান্ত্রিক ভোট হয়ে থাকে, গণতন্ত্র মানেই তো সমাবেশ, গণতন্ত্র মানেই তো মিছিল। যারা অগণতান্ত্রিক শক্তি, যারা ভীত-সন্ত্রস্ত্র, তারা লোক দেখলে, তারা ভিড় দেখলে, জনগণের মিছিল দেখলে ভীত-সন্ত্রস্ত্র হয়ে পড়ে, ভয় পেয়ে ওঠে। তখন তাদের পেটুয়া বাহিনী, তাদের যে বাহিনী তারা তৈরি করে, সেই বাহিনী দিয়ে চড়াও হয়। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তারা (ক্ষমতাসীন দল) প্রমাণ করে দিলেন, তারা গণতন্ত্র হত্যাকারী এবং তারা নিষ্ঠুরভাবে গণতন্ত্রকে মাটিচাপা দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা সানাউল্লাহ মিয়া, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলন।