চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ১৫ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিসি কাছে মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির স্মারকলিপি পেশ

চুয়াডাঙ্গার সকল নদ-নদী রক্ষায় সাত দফা দাবি
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
আগস্ট ১৫, ২০২২ ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাতে সাত দফা দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর সম্মারকলিপি দিয়েছে ‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটি’। গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের হাতে মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির নেতৃবৃন্দ এ স্মারকলিপিটি তুলে দেন। এসময় সংগঠনটির সভাপতি হামিদুল হক মুন্সী, উপদেষ্টা অ্যাড. সেলিম উদ্দিন খান, সহসভাপতি শাহ আলম সনি, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান আলী বিশ্বাস, সহসাধারণ সম্পাদক হেমন্ত কুমার সিংহ রায় ও প্রচার সম্পাদক মেহেরাব্বিন সানভী উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন, শিগগিরই জেলা নদী রক্ষা কমিটি ও মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলনের যৌথসভার আয়োজন করা হবে। যৌথসভার সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আজকের দাবিসমূহ পূরণে কাজ করা হবে।

মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখিত সাত দফা দাবি হচ্ছে- নদীতে সব ধরণের ময়লা-আবর্জনা, বর্জ্য ও মল-মূত্র ফেলা বন্ধ করতে হবে। এবং এসবের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে; নদীর সীমানা চিহ্নিত করে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলাসহ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। নদীর সীমানায় পিলার পূঁততে হবে। নদীর বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার করতে হবে। দখলদারদের দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তির আওতায় আনতে হবে; নদীতে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ময়লা-আবর্জনা ও নানা ধরণের বর্জ্য ফেলছে তাঁদেরকে চিহ্নিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে; নদ-নদীর বুক থেকে সবধরণের বালি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। বালি তোলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সম্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সংঘবদ্ধ একটি চক্র অবৈধভাবে জেলার নদ-নদীর দুইপাড় কেটে মাটি নিয়ে ইটভাটাসহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করছে। এই চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত ও এ ধরণের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। চুয়াডাঙ্গায় নবগঙ্গা ও দর্শনায় চিত্রা নদীর উৎসস্থলে এলজিইডি এবং আলমডাঙ্গার হাউসপুরে গঙ্গা-কপোতাক্ষ খালের সঙ্গে কুমার নদের সংযোগস্থলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৈরি অপ্রয়োজনীয় স্লুইসগেটগুলো অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। এবং মাথাভাঙ্গা নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং (গভীর খনন) করতে হবে। নদীর পাড় রক্ষা করে সেখানে পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

এ সময় মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি হামিদুল হক মুন্সী জেলা প্রশাসককে জানান, মাথাভাঙ্গার শাখা নদ-নদী কুমার, নবগঙ্গা, ভৈরব, চিত্রাসহ অন্যান্য নদ-নদীসমূহ পুনঃখননের কাজ শুরু হলেও মাথাভাঙ্গা পুনঃখননের উদ্যোগ নেই। অথচ মাথাভাঙ্গা পুনঃখনন করে শাখা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করে প্রবাহ নিশ্চিত করতে না পারলে শত কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া সরকারের নদী পুনঃখননের এই উদ্যোগ তেমন কাজে আসবে না।

সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী বিশ্বাস বলেন, একটা সময় নদ-নদীর তীরবর্তী মানুষেরা গোসলের পাশাপাশি নদীর পানিতে ভাত-তরকারি রান্না করতেন। অথচ, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সবখানেই নদীতে ময়লা-আবর্জনা ও কারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। মলমূত্র নর্দমা ও পাইপ লাইনের মাধ্যমে সরাসরি নদীতে পড়ছে। কৃষকরা কুলভরাট করে চাষাবাদ করছে। সেই সাথে উজান থেকে নেমে আসা পলির পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনায় তলদেশ ভরাট হচ্ছে। এতে মাছসহ জলজ প্রাণি চরম হুমকিতে পড়েছে। সম্প্রতি আমরা মাথাভাঙ্গা নদীতে মাছের ব্যাপক মড়ক দেখেছি। শাহজাহান আলী বিশ্বাস বলেন, নদীর পানি প্রবাহ ঠিক রাখা এবং দখল রোধের দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। নদীর দূষণ ঠেকানোর দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। এছাড়া জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বড় একটা ভূমিকা রেখে থাকে। কিন্ত চুয়াডাঙ্গার প্রধান নদী মাথাভাঙ্গার এসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার দায়িত্ব পরিস্কার হওয়া দরকার।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।