চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ৩ আগস্ট ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠেকানো যাচ্ছে না সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি!

সমীকরণ প্রতিবেদন
আগস্ট ৩, ২০২১ ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে করোনায় আরও ১০ জনের প্রাণহানি
সারা দেশে ২৪৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৬ হাজার ছুঁইছুঁই
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে দফায় দফায় কঠোর বিধি নিষেধ, লকডাউন বা শাটডাউন দিচ্ছে সরকার। কিন্তু তাতে খুব বেশি কাজ হচ্ছে না। ঈদুল আজহা পরবর্তী দেশে এখন ১৪ দিনের শাটডাউন চলছে, যা শেষ হবে ৫ আগস্ট। এই শাটডানের মধ্যেও গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনা আক্রান্ত আরও ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৯৮৯ জনের শরীরে। এদিকে, গতকাল চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত আক্রান্ত আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৬ জনের শরীরে। গতকাল মেহেরপুরে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৫৬ জন। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও তিনজনের।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমববার সদর হাসপাতালে করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই সাতজনের মৃত্যু হয়। তবে স্বাস্থ বিভাগ গতকাল জেলায় করোনা আক্রান্ত একজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চত করেছে। গতকাল জেলায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে আরও ৫৭ জনের শরীরে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১০৩ জনে।
গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে নিহতরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলার ফরিদপুর গ্রামের দাউদ জোয়ার্দ্দার (৬৫), একই উপজেলার রাইসা গ্রামের বাহারুন্নেছা (৭৮), চিৎলা গ্রামের মোসতারা বেগম (৪৪), যাদবপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৭৫) ও খাদিমপুর গ্রামের হাবিব, দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের আব্দুস সামাদ (৪৪), একই উপজেলার নতুন বাস্তপুর গ্রামের সকিনা বেগম (৬০)।
জানা যায়, গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষিত ১৯৫টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ২৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ১৬৯টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ১৩.১৩ শতাংশ। গতকাল নতুন শনাক্ত ২৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৯জন, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৫ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ৪ জন ও জীবননগর উপজেলার ৮ জন রয়েছে। গতকাল জেলায় করোনা থেকে আরও ৫৫ জন সুস্থ হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ৪ হাজার ১৬১ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ১৮৬টি নমুনা সংগ্রহ করে কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ্ আকরাম জানান, গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটে করোনা পজিটিভ সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকালই করোনা প্রটোকলে নিহতের লাশ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে জেলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা একজন বেড়েছে। আগামীকাল নতুন মৃত্যুর সংখ্যা স্বাস্থ্য বিভাগে যোগ হবে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে এখন পর্যন্ত হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে মোট ১৬৫ জনের ও জেলার বাইরে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৮ জনের। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ৮৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭১ জন সুস্থ হয়েছেন বাকী ১৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ২২ হাজার ৯১৫টি, প্রাপ্ত ফলাফল ২২ হাজার ৬২৯টি, পজিটিভ ৬ হাজার ১২৯ জন। জেলায় বর্তমানে ১ হাজার ৭৮৫ জন হোম আইসোলেশন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৬৯৫ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৯০ জন। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ১৮৩ জনের। এর মধ্যে জেলায় আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৬৫ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নতুন করে আরও ৫৬ জনের শরীরে করোনা আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচজনের। নিহতদের করোনা আক্রান্ত তিনজন ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে দুজনের। গতকাল নতুন আক্রান্তদের ৫৬ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ৩২ জন, গাংনীতে ১৭ জন ও মুজিবনগর ৭ জন রয়েছে। গতকাল সোববার রাতে মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। সূত্রে আরও জানা যায়, গতকাল মেহেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগ পিসিআর ল্যাব থেকে প্রাপ্ত আরও ১৮২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ৫৬টি নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৩০.৭৬ শতাংশ। নতুন আাক্রান্ত ৫৬ জনসহ বর্তমানে মেহেরপুর জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫৪৪ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০৪ জন, গাংনী উপজেলায় ২৫০ জন এবং মুজিবনগর উপজেলায় ৯০ জন। এ পর্যন্ত মেহেরপুরে মোট মৃত্যু হয়েছে ১৪০ জনের। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলার ৬২ জন, গাংনী উপজেলার ৪৭ জন ও মুজিবনগর উপজেলার ৩১ জন রয়েছে।
সারা দেশ:
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১৫ হাজার ৯৮৯ জনের শরীরে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এই নিয়ে ১২ লাখ ৮০ হাজার ৩১৭ জনের দেহে করোনা ধরা পড়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২১ হাজার ১৬২ জনের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৬৯৭টি ল্যাবে করোনার ৫৩ হাজার ৪৬২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৯১ শতাংশ। এই সময়ে সারা দেশে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরও ১৫ হাজার ৪৮২ জন। এনিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ১১ লাখ ০৮ হাজার ৭৪৮ জন। সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।
২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৩৭ জন, নারী ১০৯ জন। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে। বাকিদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ৪, ত্রিশোর্ধ্ব ১৩, চল্লিশোর্ধ্ব ৩৩, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৭১ ও ষাটোর্ধ্ব ৭১ জন, সত্তরোর্ধ্ব ৩২, অশীতিপর ১৬ ও নবতিপর ৩ জন।
বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রামে বিভাগ, ৬৪ জন। এ ছাড়া খুলনায় ৩০ জন, রাজশাহীতে ২২, বরিশালে ১৬, সিলেটে ১৪, রংপুরে ১৪ ও ময়মনসিংহে ১০ জনের করে মৃত্যু হয়েছে।
দেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি। তবে মে মাস থেকে ব্যাপকভাবে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তখন আক্রান্তের হটস্পট ছিল ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের মতো জনবহুল শহরগুলো। গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু- দুটোই কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়, নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি। তবে গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শনাক্তের হার আবার বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় ঢেউ নিশ্চিত হওয়ার পর এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতে করোনার নতুন ধরনের কথা জানা যায়। সেই ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্তদের দ্রুত অসুস্থ করে দেয়, তাদের অক্সিজেন লাগে বেশি। ছড়ায়ও দ্রুত, তাই মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।