চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ১৩ জানুয়ারি ২০১৯
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত অজ্ঞাত যুবক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তীব্র শীতে নেই বস্ত্র-বেঁচে থাকার আকুতি

সমীকরণ প্রতিবেদন
জানুয়ারি ১৩, ২০১৯ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আফজালুল হক/ মুন্না রহমান: বেশ কয়েকদিন আগেই ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার। কোন মতে বেঁচে ফিরেছেন সুমন (৩৫) নামের এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ জেলার মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে। তবে গুরুতর জখম হলেও ওই স্টেশনের লোকজন নিষ্ঠুরতার পরিচয় দিয়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় চুয়াডাঙ্গামুখী একটি ট্রেনে তুলে দেন। এরপর সে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে নামে। এরপর কে বা কারা তাকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ঠিক এমনভাবেই প্রতিবেদকের নিকট কথাগুলো বলেন কয়েকদিন যাবত চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে বারান্দায় পড়ে থাকা ট্রেন দুর্ঘটনার শিকার নিজেকে সুমন নামের পরিচয় দেয়া এই যুবক। তবে এই যুবক কোন প্রকার চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।
বেঁচে থাকার জন্য আকুতি মিনুতি করছে প্রতিনিয়ত। হাসপাতালের ওয়ার্ডের সেবিকারা বলছে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণ সেবা করছি। তবে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার এই বিষয়ে কিছুই জানেনা। এ বিষয়ে জানতে তার কাছে ফোন দিলে তিনি বিরক্তবোধ করেন এবং প্রতিবেদকের সাথে অসদাচারণ করেন। এদিকে, ওই যুবককে কবে ভর্তি করা হয়েছে তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট এন্ট্রিতে থাকলেও প্রতিবেদককে জানাতে পারেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, তীব্র শীতে মেঝেতে পড়ে আছে। সাথে একটি বালিশ, কম্বল ও বিছানার চাঁদর। পাশে কোন রোগীর স্বজনের দেয়া পাউরুটি পড়ে আছে। এই যুবকের শরীরে একটি ছেড়া গেঞ্জি ছাড়া কোন শীতের পোশাক নাই। সারা শরীরে ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। সাথে দুইটি ময়লা পাতলা কম্বল ও হাসপাতাল থেকে দেয়া একটি বিছানার বেডসিট। শীতে কাপতে কাপতে প্রতিবেদকের সাথে কোন রকম কথা বলতে রাজি হন। তিনি বলেন, মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। পরে ওখানের লোকজন আমাকে একটি ট্রেনে তুলে দিলে আমি কোনমতে চুয়াডাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশনে নামি। এখানে আমি অসুস্থ হলে কে বা কারা আমাকে এখানে ভর্তি করে। এখানে ভর্তি পর ওয়ার্ডের ভিতরে থাকার ঠাই হলেও তীব্র শীতে ওয়ার্ডের বারান্দায় বের করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কোন রকম খাবার দিলেও খেতে পারিনা ব্যাথায়। কেউ কোন চিকিৎসাও দিচ্ছে না বলে জানায় এই যুবক। পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে নামটা সুমন বললেও পুরো ঠিকানা বলতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে সে মানষিক প্রতিবন্ধী। তবে সে নিজেকে কোন কোন সময়ে ভিক্ষারি বলেও দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, আমাকে কেউ দেখতে আসেনা। আমাকে লাশের মত ফেলে রাখা হয়েছে। আমাকে চিকিৎসার জন্য কেউ যদি এগিয়ে আসতো তাইলে আমি বাঁচতে পারবো।
এদিকে গতকাল শনিবার এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শামিম কবিরের নিকট জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দেননি।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল আলমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ঢাকায় থাকার কারণে এ বিষয়ে কিছুই জানিনা। তবে চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার অভিযোগে তিনি বলেন, ওই রোগির জন্য যে মেডিসিন লাগবে তার মধ্যে হাসপাতাল থেকে যে মেডিসিন সাপ্লাই আছে সেগুলো অবশ্যই পাবে। এর আগে এমন একটি অজ্ঞাত রোগী পেয়েছিলাম আমরা। তাকে হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত পরিমান সেবা করা হয়েছিল। এই যুবকও সেবা পাবে বলে জানান সিভিল সার্জন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।